Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাকিব-মুশফিকের লড়াইয়ে ১৯৩ রানে অলআউট বাংলাদেশ

৪৭ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর সাকিব-মুশফিকের শতরানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে টাইগাররা

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:৩৮ পিএম

এশিয়া কাপের ষোড়শ আসরের সুপার ফোর পর্বের প্রথম ম্যাচে টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা।

বিপদ সামাল দিয়ে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার বাদে আর কেউ পাকিস্তানের বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৮.৪ ওভারে ১৯৩ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদশ।

বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে নাজমুল হোসেন শান্ত ছিটকে যাওয়ায় তার জায়গায় দলে ঢোকেন লিটন দাস।

আফগানিস্তান ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো মেহেদি হাসান মিরাজ ওপেনিংয়ে মোহাম্মদ নাইমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচের ফর্মটা টেনে আনতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। নাসিম শাহর করা ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই মিডউইকেটে ফখর জামানের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে গোল্ডেন ডাক মারেন মিরাজ।

স্কোরবোর্ডে কোনো রান না হতেই মিরাজ ফিরে গেলে ক্রিজে আসেন লিটন। ডানহাতি এই ব্যাটার এসে আগ্রাসীভাবেই রানের খাতা খোলেন। লিটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাত খুলেন আরেক ওপেনার নাইমও। দুই ওভারে নাঈম ও লিটন মিলে ২২ রান তোলেন।

কিন্তু শাহিন আফ্রিদির করা পঞ্চম ওভারে লিটন সাজঘরে ফিরলে তাদের জুটি ভেঙে যায়।  অফ স্টাম্পের বাইরে আফ্রিদির এক্সট্রা বাউন্সের বলটিতে ব্যাট চালিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন লিটন। চার বাউন্ডারিতে ১৩ বলে ১৬ রান করে থামেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

অষ্টম ওভারে হারিস রউফ বল হাতে নিতেই বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায়। ওই ওভারের তৃতীয় বলে পাকিস্তানের পেসারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন নাইম। ২৫ বলে চারটি বাউন্ডারিতে ২০ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

পরের ওভারেই বাংলাদেশি ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন তাওহীদ হৃদয়। নবম ওভারের প্রথম বলে হৃদয়কে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন রউফ। ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে পাকিস্তানি পেসারের ছোড়া গোলায় পরাস্ত হন এই তরুণ ব্যাটার।

পাকিস্তানের পেসারদের গতি তোপের সামনে ৪৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশকে টেনে তোলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। পঞ্চম উইকেটে দুজন গড়েন শতরানের জুটি।

২০তম ওভারে নাসিম শাহর বলে ব্যক্তিগত ২৮ রানে জীবন পেয়েছিলেন সাকিব। বাংলাদেশ অধিনায়কের দেওয়া ফিরতি ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন নাসিম। জীবন পেয়ে ২৭তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৪তম অর্ধশতক তুলে নেন সাকিব।

তবে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি সাকিব। ফাহিম আশরাফের করা ৩০তম ওভারে প্রথম বলে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ফখর জামানকে ক্যাচ দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এতে মুশফিকের সঙ্গে তার ১০০ রানের জুটি ভেঙে যায়। আউট হওয়ার আগে ৫৭ বলে ৭টি বাউন্ডারিতে ৫৩ রান করেন সাকিব।

সাকিবের বিদায়ের কিছুক্ষণ পরই ৪৬তম ওয়ানডে ফিফটি হাঁকান মুশফিক। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার আভাস দিচ্ছিলেন শামিম হোসেন। কিন্তু ৩৫তম ওভারে ইফতিখার আহমেদের বলে ইমাম-উল-হকের হাতে ক্যাচ দেন ২৩ বলে ১৬ রান করা শামিম। 

১৭৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের ইনিংস টেনে নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল মুশফিকের ওপর। কিন্তু ৩৮তম ওভারে হারিস রউফের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। এর আগে চাপের মুখে ৮৭ বলে পাঁচ বাউন্ডারিতে ৬৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন মুশফিক।

মুশফিকের বিদায়ের পর বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে শেষ তিন উইকেট হারিয়ে টাইগারদের ইনিংস থামে ১৯৩ রানে। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে হারিস রউফ চারটি ও নাসিম শাহ তিনটি উইকেট নেন।

About

Popular Links