Sunday, June 16, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিরাজ তোপে বিধ্বস্ত লঙ্কান শিবির

  • টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে শ্রীলঙ্কা
  • বৃষ্টির কারণে ফাইনাল শুরু হয় ৪০ মিনিট দেরিতে
  • শ্রীলঙ্কার মাত্র দুজন ব্যাটারের রান দুই অঙ্কের ঘর পেরিয়েছে
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:১২ পিএম

এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ সংখ্যক ফাইনাল খেলার রেকর্ড শ্রীলঙ্কার থাকলেও সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ের কীর্তি ভারত। লঙ্কানরা যেখানে ১২ বার ফাইনাল খেলে ছয়বার শিরোপা জিতেছে, সেখানে ১০ বার ফাইনালে খেলেই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারতীয়রা।

রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের আরও একটি ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ভারত এবং অন্যতম আয়োজক শ্রীলঙ্কা। শিরোপা জয়ের দিক থেকে ভারত নিজেদের আরও ওপরে নেবে নাকি লঙ্কানরা তাদের ছুঁয়ে ফেলবে, ফাইনালের আগে সেটিই ছিল প্রশ্ন।

কিন্তু ফাইনাল শুরুর কিছু সময় না পেরোতেই যেন সেই প্রশ্ন হাওয়া হয়ে গেছে। ঘরের মাটিতে নিজেদের দর্শকদের সাক্ষী রেখে ভারতের সামনে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ নজিরবিহীন অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৫.২ ওভারে মানে ৫০ রানে অলআউট হয়েছে লঙ্কানরা। সেই সঙ্গে এশিয়া কাপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে লঙ্কানরা। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ৬ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজ। এছাড়া, হার্দিক পান্ডিয়া তিনটি ও যশপ্রীত বুমরা একটি উইকেট নেন।

ফাইনালের আগে দুই দলেই ছিল চোটের হানা। পাকিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে আগেই ছিটকে যান শ্রীলঙ্কান স্পিনার মহীশ তিকশানা। তার জায়গায় একাদশে আসেন দুশান হেমন্ত। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচে অক্ষর প্যাটেল চোটে পড়ায় ভারতের একাদশে জায়গা পান ওয়াশিংটন সুন্দর।

এবারের এশিয়া কাপের পুরোটা সময় জুড়েই বৃষ্টির হানা ছিল। ব্যতিক্রম হলো না ফাইনালেও। টসের পর খেলোয়াড়দের মাঠে নামার আগেই কলম্বোর আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। ফলে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে ৪০ মিনিট দেরিতে খেলা শুরু হয়। 

এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে সমর্থন জানাতে পুরো গ্যালারিই ছিল পরিপূর্ণ। ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ছিল না তিল ধারণের ঠাঁইও। মাঠের বাইরে খেলা দেখার জন্য দুটী জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছে কলম্বোতে। একইভাবে বড় পর্দায় খেলা দেখানোড় ব্যবস্থা করা হয়েছে গল ফেস গ্রিন ও পিডি সিরিসেনা গ্রাউন্ডেও।

কিন্তু তখনও হয়তো কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি সবাই কী দুঃস্বপ্নের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। যশপ্রীত বুমরার করা ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কুশল পেরেরা। আউট হওয়ার আগের বলটি ভেতরে ঢুকেছিল, পেরেরা খেলতে গিয়েও মিস করেছিলেন। তবে পরের বলে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেটরক্ষক লোকেশ রাহুলের হাতে ক্যাচ দেন লঙ্কান বাঁহাতি ওপেনার।

পেরেরার বিদায়ের পর তৃতীয় ওভার পর্যন্ত আর কোনো উইকেট হারায়নি শ্রীলঙ্কা। কিন্তু মোহাম্মদ সিরাজের করা চতুর্থ ওভারই শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ করে দিয়ে তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। ওই ওভারে একটি বাউন্ডারি হজম করলেও বাকি পাঁচ বলের মধ্যেই চার উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এই ডানহাতি ভারতীয় পেসার।

চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই পাতুম নিশাঙ্কা ড্রাইভ করতে গেলেও পয়েন্টে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে সেটিকে দারুণ ক্যাচে পরিণত করেন রবীন্দ্র জাদেজা। এক বল বিরতির পর সাজঘরে ফেরেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। সিরাজের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন এই ডানহাতি ব্যাটার। সামারাবিক্রমা রিভিউ নিলেও তা পরে ব্যর্থই হয়েছে।

ওই ওভারের পরের বলেই আউট হন পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুললেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে ক্যাচ তুলে দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। পয়েন্টে সেটি লুফে নিতে ভুল করেননি ইশান কিষান। সিরাজের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ থাকলেও পরের বলে চার মারেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। তবে সিরাজের করা ওই ওভারের শেষ বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।

সিরাজের পরের ওভারেই (ইনিংসের ষষ্ঠ ওভার) আবারও উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এবার ভারতীয় পেসারের শিকার লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। ফুললেংথে সিরাজের ছোড়া গোলায় মাটি থেকে উপড়ে যায় অফ স্টাম্প। মাত্র ১২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা তখন ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কার মুখে।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য শ্রীলঙ্কাকে ওই লজ্জার মুখে পড়তে হয়নি। সপ্তম উইকেটে দুনিথ ভেল্লালাগে ও কুশাল মেন্ডিসের জুটিতে জিম্বাবুয়ে ও কানাডার ৩৫ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড (দুটোই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) অক্ষুণ্ণ থাকা নিশ্চিত হয়। দলীয় ৩৩ রানে বোল্ড হয়ে মেন্ডিস ফিরে গেলে সপ্তম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ১৭ রান করা মেন্ডিসকে ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ উইকেট নেন সিরাজ।

তবে শ্রীলঙ্কার ইনিংসে এরপর সিরাজ আর উইকেট পাননি। তবে তাই বলে লঙ্কানদের দুর্দশাও থেমে থাকেনি। স্বাগতিকদের শেষ তিনটি উইকেটই বগলদাবা করেছেন হার্দিক পান্ডিয়া। ত্রয়োদশ ওভারে ভেল্লালাগে ও পঞ্চদশ ওভারের প্রথম দুই বলে প্রমোদ মাদুশান আর মাতিশা পাতিরানার উইকেট তুলে নিয়ে লঙ্কান ইনিংসের এপিটাফ লিখে দেন এই ভারতীয় পেসার।

শ্রীলঙ্কার পাঁচ জন ব্যাটার শূন্য রানে ফিরে গেছেন। বাকি ছয়জনের মধ্যে মাত্র দুজন খেলোয়াড় দুই অঙ্কের গণ্ডি পেরিয়েছেন। তারা হলেন কুশাল মেন্ডিস (১৭) এবং দুশান হেমন্ত (১৩)। শ্রীলঙ্কার ইনিংসের বাকি ৯ জনের রান সংখ্যা দেখলে মনে হবে কোনো টেলিফোন নাম্বার।

এশিয়া কাপে এতদিন সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৮৭ রানের। ২০০০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ৫০ রানে অলআউট হয়ে সেই লজ্জার রেকর্ড নিজেদের করে নিলো শ্রীলঙ্কা। শুধু তাই না, টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যেও ওয়ানডেতে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয়েছে লঙ্কানরা। 

About

Popular Links