Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রেফারিকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ বার্সার বিরুদ্ধে, আসতে পারে নিষেধাজ্ঞা

  • অভিযোগ প্রমাণিত হলে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বাদ পড়তে পারে ক্লাবটি
  • বিভিন্ন সময় ক্লাবের পক্ষ থেকে রেফারির অ্যাকাউন্টে অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে
  • অভিযোগ অস্বীকার করেছে বার্সেলোনা
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:৪৮ পিএম

বছরের শুরুর দিকে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে স্প্যানিশ রেফারি কমিটির সহ-সভাপতিকে ঘুষ দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছিল। পরবর্তীতে স্প্যানিশ পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ঘুষ দুর্নীতিরও অভিযোগ করা হয়। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে কার্যক্রম স্থগিত করে তারা।

তবে স্পেনের আদালতে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলতে থাকে। কাতালান ক্লাবটির বিরুদ্ধে এক পর্যায় রেফারিকে অর্থ প্রদান করে ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার দায়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও এনেছিল বার্সেলোনার পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস। তবে অভিযোগপত্র আনলেও মামলাটি আদালত গ্রহণ করবে কি-না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

শেষ পর্যন্ত মামলাটি আদালতে উঠেছে। বার্সেলোনা কোর্ট অব ইনস্ট্রাকশন নাম্বার ওয়ানের বিচারক জোয়াকিন আগুয়েরের মতে, স্পেনের রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নেগরেইরাকে ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৭ বছর ধরে বার্সা যে সাড়ে সাত মিলিয়ন ইউরো দিয়েছে, তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শুধু তাই না, এ কারণে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের কুলীন প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকেও নিষিদ্ধ হতে পারে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্পেনের রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন নেগরেইরা। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝির দিকে জানা যায়, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠান “ডিএএসএনআইএল নাইন্টি ফাইভকে” বার্সেলোনা অর্থ দিয়েছে। এর মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানকে ২০১৬ সালে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৭২৮ ইউরো, ২০১৭ সালে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৭৫২ ইউরো ও ২০১৮ সালে ৩ লাখ ১৮ হাজার ২০০ ইউরো দেয় বার্সা।

তখন সেই প্রতিষ্ঠানের কর নিরীক্ষণের পর তদন্ত শুরু হয়। এরপর নেগরেইরা ও তার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রসিকিউটর কার্যালয়। এরপরই অভিযোগ দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

বার্সেলোনা শহরের একটি আদালতে শুনানিতে বলা হয়, ক্লাবটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ, কর্মকর্তা স্যান্ড্রো রোসেল ও নেগরেইরাকে এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিশ্বাস লঙ্ঘন এবং মিথ্যা ব্যবসায়িক রেকর্ডের অভিযোগে আনা হয়েছে।

লা লিগার প্রধান নির্বাহী জাভিয়ের তেবাস ফেব্রুয়ারি মাসে বলেছিলেন, বর্তমান সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা যদি অর্থ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে না পারেন, তারও পদত্যাগ করা উচিত।

তবে অভিযোগ ওঠার পরপরই তা নাকচ করে বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। ক্লাবের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তা জানান, অর্থ দেওয়া হলেও সেটির পেছনে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। বরং শুধুমাত্র টেকনিক্যাল পরামর্শের জন্যই সেই আর্থিক লেনদেন হয়েছিল।

রেফারিকে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার দায়ে গত মার্চে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে বার্সেলোনার পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস। পাশাপাশি শুরু হয় উয়েফার তদন্তও। জুলাইয়ের শেষদিকে বার্সাকে আপাতত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয় উয়েফা। তবে ভবিষ্যতে যেকোনো রায়ের ভিত্তিকে প্রতিযোগিতাটি থেকে তাদের বহিষ্কার কিংবা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে এক প্রতিবেদনে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল মুন্ডো জানায়, আদালতের অনুরোধে স্পেনের সিভিল গার্ড এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে সিটিএ-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়ানো সানচেজ আরমিনিও এবং নেগ্রেইরার তত্ত্বাবধানে রেফারিরা সবসময় নিরপেক্ষ ছিলেন না। কমিটির তত্ত্বাবধানে সানচেজ আর্মিনিও এবং নেগ্রেইরা যে অনিয়মিত কার্যকলাপ চালান, সেখানে নেওয়া সিদ্ধান্তে খেলাধুলার দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বদা নিরপেক্ষ সমর্থন পাওয়া যায় না।

আরেক স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ক্যাডেনা সার বলছে, এই মামলার বিচারক জোয়াকিন অ্যাগুইয়েরে মামলায় অভিযুক্তদের সতর্ক করে দিয়েছেন। বিচারকের মতে, এই ঘটনা মাঠে সংঘটিত অন্যায় নয়। বরং বিচারক মনে করেন, এটি ঘুষ আদান-প্রদান সংক্রান্ত। কারণ নেগ্রেইরা যতদিন নিজের পদে বহাল ছিলেন, ততদিন এই আর্থিক লেনদেন চলেছে। তিনি সরে যাওয়ার পর আর এই লেনদেন হয়নি।

এ কারণে ২০০১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নেগরেইরাকে বার্সেলোনার অর্থ প্রদানের বিষয়টি ঘুষ হিসেবে বিবেচিত হবে। বার্সেলোনার পাশাপাশি ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ, কর্মকর্তা স্যান্ড্রো রোসেল, নেগরেইরা ও তার ছেলেকে এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বার্সেলোনা এই অভিযোগে দোষী নাকি নির্দোষ, তা নির্ধারণ করবে ৯ সদস্যের একটি জুরি বোর্ড।

আপাতত কোনো তদন্ত না চালালেও বার্সেলোনার বিষয়টির ওপর সজাগ দৃষ্টি রেখেছে উয়েফা। শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনা দোষী প্রমাণিত হলে বার্সার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে তারা। এক্ষেত্রে হয়তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাবে স্প্যানিশ ক্লাবটি। যদিও ইতোমধ্যে ২০২৩-২৪ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরু হয়ে গেছে এবং বার্সেলোনাও গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে ফেলেছে। সেক্ষেত্রে আগামী মৌসুমে এক বছরের জন্য হয়ত এ প্রতিযেগিতা থেকে নিষিদ্ধ হবে কাতালান পরাশক্তিরা।

About

Popular Links