Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে পাওয়া অভিশাপের সঙ্গে লড়ছে শ্রীলঙ্কা

  • ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দিয়ে ১৯৯৬ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা
  • আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিতে লঙ্কানদের প্রথমবারের মতো বাছাইপর্ব খেলতে হয়েছে
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:১৬ পিএম

গোটা ক্রিকেটবিশ্বকে চমকে দিয়ে ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এরপর থেকে আর ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপার দেখা পায়নি দ্বীপরাষ্ট্রটি। দুবার ফাইনালে গেলেও সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রানার্সআপ হিসেবেই। এরপর ২০১৪ সালে জেতা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতাটাই লঙ্কানদের সর্বোচ্চ সাফল্য।

১৯৯৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়েই বিশ্ব ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার উথান ও পরাশক্তি হয়ে ওঠার শুরু হয়। তবে সেই শিরোপা জেতার পর থেকেই বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট একটি গেরোর মধ্যে আটকে গেছে। সেই গেরো ভাঙতে আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসরে মাঠে নামবে লঙ্কানরা।

শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার আগে সেই গেরো নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই নিজেদের ইতিহাসের ওয়ানডে বিশবকাপের একমাত্র শিরোপা জেতে লঙ্কানরা। অরবিন্দ ডি সিলভার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পাকিস্তানের লাহোরে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বজয়ের আনন্দে মাতে শ্রীলঙ্কা।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের আরেকটি আসর শুরুর আগে ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার স্মৃতিচারণ করেছেন রানাতুঙ্গা। ২৭ বছর আগে জেতা সেই শিরোপাই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে অভিশাপ হয়ে এসেছে বলে মনে করেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। কারণ বিশ্বজয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে দুর্নীতি এবং অবনতির বীজ বপণ করা হয়েছিল, পরবর্তী যার ব্যাপ্তি শুধু বেড়েছেই।

অর্জুনা রানাতুঙ্গা বলেন, “১৯৯৬ বিশ্বকাপ জেতাটা প্রচ্ছন্নভাবে একটা অভিশাপ। ওই শিরোপা জয়ের পর আমাদের ক্রিকেটে প্রচুর টাকা ঢুকল। আমরা দেখলাম ক্রিকেট বোর্ডে অনেক দুর্নীতিবাজও ঢুকে গেল। সেটা ছিল শেষের শুরু।”

দুই কোটি ২২ লাখ মানুষের বসতি শ্রীলঙ্কায় ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কিন্তু খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের ম্যাচ পাতানো এবং অন্যান্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে দ্বীপরাষ্ট্রটির নাম জড়িয়েছে। ২০১৯ সালে দেশটির তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী বলেছিলেন, ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি শ্রীলঙ্কাকে সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ ক্রিকেট দেশগুলোর মধ্য একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওই বছরই খেলাধুলায় দুর্নীতিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে একটি আইন প্রয়ন করে শ্রীলঙ্কা। যদিও তার মধ্যে মাত্র একজন খেলোয়াড় বিচারের আওতায় এসেছেন।

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেকোনো অভিযোগের তদন্ত করতে তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আইসিসিকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু শ্রীলঙ্কা দলের দুর্দশার জন্য খেলোয়াড়দের দায়ী করেছেন এসএলসি সচিব মোহন ডি সিলভা। তিনি বলেন, “শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের মূল জায়গা স্কুল ক্রিকেট থেকে মানসম্মত খেলোয়াড় কম উঠে আসছে। এই প্রভাব সরাসরি মূল দল পড়ছে।”

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের অধঃপতনের পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন ডেইলি লঙ্কাদীপায় ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করা দামিন্দা ভিজেসুরিয়া। তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘমেয়াদী কৌশল এবং পরিষ্কার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারিনি। এখানে হস্তক্ষেপের ব্যাপার আছে। রাজনৈতিক খুঁটির জোরে দলে কয়েকজন খেলোয়াড়ের জায়গা হয়।”

নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের আটে নেমে যাওয়ায় ভারতের পর্দা উঠতে যাওয়া বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসরের টিকেট পেতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং নেদারল্যান্ডসের মতো তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে বাছাইপর্ব খেলতে হয়েছে লঙ্কানদের।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেও শ্রীলঙ্কার অবস্থা ছন্নছাড়াই বটে। কিছুদিন হাইব্রিড মডেলে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল দাসুন শানাকার দল। তবে কলম্বোয় ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫০ রানে অলআউট হয়ে অনেক লজ্জাজনক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছিল লঙ্কানরা। এমনকি ঘরের মাঠে ১০ উইকেটের সেই শোচনীয় হারের পর শানাকাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে জোরেশোরে শোরগোলও উঠেছিল।

আসন্ন বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খুব ভালো কিছু করবে বলেও ভরসা পাচ্ছেন না ভিজেসুরিয়া। এই ধারাভাষ্যকার বলেন, “আমার তো ভয় হয় এবারের বিশ্বকাপে আমরা না আবার গো হারা হেরে শেষ করে আসি। আমরা যদি ৯ ম্যাচের চারটিতে জয়লাভ করি, তাতেই আমি খুশি। আর ৭-৮টা ম্যাচে জিতে সেমিফাইনালে গেলে তো খুবই ভালো। বিশ্বকাপ জিততে পারলে সেটা হবে বাড়তি পাওয়া।”

আগামী ৫ অক্টোবর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গতবারের দুই ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসরের পর্দা উঠবে। ৭ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে লঙ্কানদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। 

About

Popular Links