Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাকিস্তানকে ২৮৬ রানে আটকে দিলো নেদারল্যান্ডস

ডাচদের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাবর আজমরা

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:১৫ পিএম

উপমহাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ বলে এবারের আসরে দারুণ কিছুর স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। তবে বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তানের প্রস্তুতি তেমন ভালো হয়নি। টুর্নামেন্টের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয় বাবর আজমরা। তাসমান সাগরপাড়ের দুই দেশের কাছে হারলেও ৩০০ পেরোনো স্কোর ব্যাটিং প্রস্তুতিটা ভালোই হয়েছিল বলা যায়।

তবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূলপর্বে মাঠে নেমে শুরুতে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটেনি। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার (৬ অক্টোবর) হায়েদ্রাবাদের রাজিব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের মু্খোমুখি হয় পাকিস্তান। টস হেরে ডাচদের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল ১৯৯২ এর চ্যাম্পিয়নরা।

চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হলেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি পাকিস্তান। পাওয়ারপ্লে শেষের আগেই দলের প্রথম তিন ব্যাটারকে হারিয়েছিল পাকিস্তানিরা। যদিও সাউদ শাকিল এবং উইকেটরক্ষক রিজওয়ান খানের ফিফটিতে পরে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। শেষদিকে মোহাম্মদ নাওয়াজ ও শাদাব খানের মাঝারি ইনিংসে ৪৯ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২৮৬ রান সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ওপেনার ফখর জামানকে হারায় পাকিস্তান। ওই ওভারের চতুর্থ বলে লোগান ভ্যান বিককে ফিরতি ক্যাচ দেন এ বাহাঁতি ব্যাটার। আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে ১২ রান করেন ফখর। বিশ্বকাপের চলমান আসরের সম্ভাব্য শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় অনেকেই পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমকে রেখেছেন। এবারের আসরে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় ভরসাও এ ডানহাতি ব্যাটার। তবে প্রথম ম্যাচে সেই আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক।

নবম ওভারে কলিন অ্যাকারম্যানের বলে সাকিব জুলফিকারের হাতে ক্যাচ দেন ১৮ বলে মাত্র ৫ রান করা বাবর। পরের ওভারেই সাজঘরের ফেরেন আরেক ওপেনার ইমাম উল হকও। পল ভ্যান মিকেরেনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে আরিয়ান দত্তের হাতে ধরা পড়েন এ বাহাঁতি ব্যাটার। ১৯ বলে দুই চারে ১৫ রান করেন ইমাম।

৩৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন ধুঁকছে, তখন দলকে বিপদ থেকে টেনে তোলেন শাকিল এবং রিজওয়ান খান। ফিফটি তুলে নেওয়া দুই ব্যাটার চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ১২০ রান। রিজওয়ানের তুলনায় শাকিলই বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। অর্ধশতক হাঁকাতে রিজওয়ান যেখানে ৫৮ বল খেলেছেন, সেখানে শাকিলের লেগেছে মাত্র ৩২ বল।

শেষ পর্যন্ত ২৯তম ওভারে এ জুটি ভাঙতে সমর্থ হয় নেদারল্যান্ডস। আরিয়ান দত্তের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন শাকিল। সেই ক্যাচ তালুবন্দি করতে সাকিব জুলফিকারকে তেমন বেগ পেতে হয়নি। সাজঘরের ফেরার আগে ৫২ বলে ৬৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন শাকিল। তার ইনিংসটি ৯টি বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় সাজানো ছিল।

শাকিলের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রিজওয়ানও। বাস ডে লিডের করা ইনিংসের ৩২তম ওভারের প্রথম বলেই তিনি বোল্ড হন। আউট হওয়ার আগে ৭৫ বলে আট বাউন্ডারিতে ৬৮ রান করেন পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক। ওই ওভারেরই শেষ বলে ৯ রান করা ইফতিখার আহমেদকে উইকেটরক্ষক এডওয়ার্ডসের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন ডে লিড।

এরপর যে পাকিস্তানের রান সংগ্রহ করতে পারলো, তার পেছনে বড় অবদান নাওয়াজ ও শাদাবের। সপ্তম উইকেটে দুজন মিলে ৬৪ রান যোগ করেন শাদাব। দুই চার ও এক ছক্কায় ৩২ রান করে শাদাব ৪৩তম ওভারে ফিরে গেলে এ জুটি ভেঙে যায়। ডি লিডের করা ওই ওভারের পরের বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন হাসান আলী।

৪৭তম ওভারে পাকিস্তানের শেষ ভরসা নাওয়াজকেও ফেরায় নেদারল্যান্ডস। আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে চার বাউন্ডারিতে ৩৯ রান করেন তিনি। পরবর্তীতে শাহিন আফ্রিদি (১২ বলে অপরাজিত ১৩) ও হারিস রউফের (১৪ বলে ১৬) ছোট অবদানে স্কোরবোর্ডে ২৮৬ রান জমা করতে সমর্থ হয় পাকিস্তান। চার উইকেট শিকারের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসের সফলতম বোলার বাস ডে লিড। এছাড়া, দুটি উইকেট নেন কলিন অ্যাকারম্যান। 

About

Popular Links