Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বকাপে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড, এগিয়ে কে?

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই দলের মধ্যকার মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস ভারসাম্যপূর্ণ

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:১০ পিএম

ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই হয়েছে। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই সেদিন আফগানদের নাস্তানাবুদ করেন সাকিব-মিরাজরা।

ভারতে চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) একই ভেন্যুতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। 
বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে থ্রি লায়ন্সরা খানিকটা চাপেই থাকবে। বৃহস্পতিবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে গত দুই আসরের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে হেরে ইংলিশদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছে।

২০১৯ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে তিনবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। গত মার্চে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে থ্রি লায়ন্সদের কাছে পরাজিত হয়। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার দরুণ ইংলিশদের কাছে চার উইকেটে হারে টাইগাররা। তাই বলা যায়, ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ইতিহাস আশাব্যঞ্জক না।

ওয়ানডে বিশ্বকাপে অবশ্য দুই দলের মধ্যকার মুখোমুখি লড়াই ভারসাম্যপূর্ণ। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড চারবার একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে। সর্বশেষ চার আসরেই টাইগার ও থ্রি লায়ন্সরা পরস্পরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে। চারবারের সেই সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড দুই দলই সমান দুটি করে ম্যাচ জিতেছে। 

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়ে ২০০৭ বিশ্বকাপের সুপার এইটে। বাংলাদেশ সেবার কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসান (৫৭) ছাড়া বাকিদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৩৭.২ ওভারে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে সৈয়দ রাসেল, আব্দুর রাজ্জাক ও মোহাম্মদ রফিকের ঘূর্ণিতে ৬ উইকেটে হারালেও ৩১ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় ইংলিশরা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের পরের সাক্ষাতটা হয়ে যায় পরবর্তী আসরেই। ২০১১ সালে আয়োজিত সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ছিল অন্যতম আয়োজক। সেবার দুই দল একই গ্রুপে পড়ে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড বাংলাদেশের বোলিং তোপে বেশি সুবিধা করতে পারেনি। সেদিন বাংলাদেশের হয়ে হাত ঘোরানো ছয় বোলারই উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত জোনাথন ট্রট (৬৭) ও এউইন মরগ্যানের (৬৩) ফিফটিতে ৪৯.৪ ওভারে ২২৫ রান সংগ্রহ করে থ্রি লায়ন্সরা। জবাবে ইমরুল কায়েসের (৬০) অর্ধশতক আর তামিম-সাকিবের মাঝারি ইনিংসে ভালোভাবেই জয়ের পথে এগোচ্ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু আচমকা ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৬৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে টাইগাররা। কিন্তু নবম উইকেটে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও শফিউল ইসলামের অবিচ্ছিন্ন ৫৮ রানের জুটিতে দুই উইকেটের জয় তুলে নেয় টাইগাররা। ১০ নম্বরে নামা পেসার শফিউল ২৪ বলে চার বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ২৪ রানে অপরাজিত থেকে জয়ের নায়ক বনে যান।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত ২০১৫ বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ আর ইংল্যান্ড একই গ্রুপে পড়ে। তবে গ্রুপপর্বের সেই ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার অলিখিত লড়াইয়ে। সেই লড়াইয়ে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইংলিশরা। এই ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেন রিয়াদ, তার শতক (১০৩) ও মুশফিকুর রহিমের (৮৯) অর্ধশতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় টাইগাররা।

২৭৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের শুরুটা দারুণ হয়েছিল। ২৬ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল দুই উইকেটে ১২১। কিন্তু এরপরই দুর্দান্ত বোলিং আর আঁটসাঁট ফিল্ডিং দিয়ে থ্রি লায়ন্সদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। রুবেল হোসেনের চার উইকেট আর মাশরাফি-তাসকিনের দুই উইকেটের বদৌলতে ৯ বল বাকি থাকতেই ২৬০ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। ইংল্যান্ডকে সেই ম্যাচে ১৫ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে পা রাখে টাইগাররা।

২০১৯ বিশ্বকাপের রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের লিগপর্বে অন্যতম স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের পায়েই কুড়াল মারে টাইগাররা। ওপেনার জেসন রয়ের সেঞ্চুরির (১৫৩) সঙ্গে জনি বেয়ারস্টো (৫১) ও উইকেটরক্ষক জস বাটলারের (৬৪) ফিফটিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৮৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায় থ্রি লায়ন্সরা। জবাবে এক সাকিব (১২১) ছাড়া কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারায় ২৮০ রানেই অলআউট হয় লাল-সবুজের দল।

About

Popular Links