Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বিশ্বকাপে কখনোই সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সামনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ১২:১৫ পিএম

চলমান বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল টাইগাররা। তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে হেরে বাংলাদেশের ছন্দপতন হয়।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে গত দুই আসরের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। টাইগারদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ব্ল্যাক ক্যাপসরা দারুণ ছন্দে আছে বটে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ৯ উইকেটে ও নেদারল্যান্ডসকে ৯৯ রানে দাপুটেভাবে হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয়েছে।

ইংলিশদের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের ধাক্কা কাটাতে বাংলাদেশের সামনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক নয়। গত চার বছরে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে পাঁচবার কিউইদের মুখোমুখি হলেও বাংলাদেশ তাদের বিপক্ষে জয়হীন। 

২০২১ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ হারের পর এবারের বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে ঘরের মাঠেও সিরিজ হেরেছে লাল-সবুজের দল।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস সুখকর না। ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড বরাবরই বাংলাদেশের পরিচিত এক প্রতিপক্ষ। ২০১১ সালের আসরটি বাদ দিলে নিজেদের খেলা প্রতিটি বিশ্বকাপেই তাসমাস সাগরপাড়ের দেশটির বিপক্ষে মাঠে নেমেছে টাইগাররা। তবে একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বযজ্ঞে পাঁচবার কিউইদের মুখোমুখি হয়েও বাংলাদেশ কখনোই জয়ের স্বাদ পায়নি।

১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ওই আসরে গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় টাইগাররা। যদিও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচটা সুখকর ছিল না। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৭.৪ ওভারে ১১৬ রাসে গুটিয়ে যায় তারা। জবাবে ১৭ ওভার হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় কিউইরা।

আফ্রিকা মহাদেশে আয়োজিত ২০০৩ বিশ্বকাপেও পুলপর্বে নিউজিল্যান্ডকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টাইগাররা। মোহাম্মদ আশরাফুলের (৫৬) ফিফটি আর শেষদিকে উইকেটরক্ষক খালেদ মাসুদ (৩৫) আর স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের (৪১) মাঝারি স্কোরের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ওপেনার ক্রেইগ ম্যাকমিলানের (৭৩) অর্ধশতকের ওপর ভর করে ৯৯ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে আয়েজিত ২০০৭ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গ্রুপপর্ব পেরোয়। রাউন্ড রবিন ফরম্যাটে সুপার এইটে দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামে টাইগাররা। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে স্কট স্টাইরিস ও জ্যাকব ওরামের বোলিং তাণ্ডবে বাংলাদেশ ১৭৪ রানে অলআউট হয়। জবাবে অধিনায়ক স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের (অপরাজিত ১০২) সেঞ্চুরি ও হামিশ মার্শালের (অপরাজিত ৫০) ফিফটিতে ত্রিশ ওভারের আগেই ৯ উইকেট বাকি রেখে জয়ের মুখ দেখে ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাতে সমর্থ হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেবারও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের বৃত্ত থেকে বেরোতে পারেনি তারা। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাহমুদু্ল্লাহ রিয়াদের (১২৮) সেঞ্চুরি, সৌম্য সরকারের (৫১) অর্ধশতক আর সাব্বির রহমানের (২৩ বলে ৪০) ঝড়ো ক্যামিওতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৮ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। জবাবে সাকিব আল হাসানের চার উইকেটের পরও ওপেনার মার্টিন গাপটিলের (১০৫) শতক আর রস টেলরের ফিফটির ওপর ভর করে ৭ বল বাকি থাকতেই তিন উইকেটে জয়লাভ করে কিউইরা।

২০১৯ বিশ্বকাপে লিগপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মু্খোমুখি হয় বাংলাদেশ। কিউইরা টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠালে সাকিবের ফিফটি (৬৪) আর বাকিদের দুই অঙ্ক পেরোনো মাঝারি স্কোরে ৪৯.৪ ওভারে ২৪৪ রানে অলআউট হয় লাল-সবুজরা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররা নিউজিল্যান্ডকে ভালোই চেপে ধরেছিল। কিন্তু রস টেলরের ৮২ আর বাকিদের ছোট ছোট অবদানে ১৭ বল হাতে রেখে দুই উইকেটে জয় তুলে নিতে সক্ষম হয় ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

About

Popular Links