Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বড় সংগ্রহের আশা জাগিয়েও বাংলাদেশের পুঁজি ২৫৬

  • ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি গড়েছেন তানজিদ-লিটন
  • হাফ সেঞ্চুরি করেছেন দুই ওপেনার তানজিদ ও লিটন
  • মুশফিকুর রহিম আর রিয়াদের ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় টাইগাররা
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৩৯ পিএম

ভারতের বিপক্ষে বিনা উইকেটে ৯৩ রান তোলার মাধ্যমে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সেরা উদ্বোধনী জুটির সাক্ষী হয়েছিল বাংলাদেশ। ফিফটি করেছিলেন দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও লিটন দাস। তখন সবাই ধারণা করেছিলেন, টাইগাররা বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে।

কিন্তু ইনিংসের মাঝে ব্যাটাররা একে একে উইকেট বিলিয়ে আসায় পথ হারায় বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারে এক মুশফিকুর রহিম ছাড়া কেউই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি।

শেষদিকে অবশ্য ভারতীয় বোলারদের ওপর তাণ্ডব লোয়ার অর্ডারে নামা মাহমুদু্ল্লাহ রিয়াদ। তাতে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৫৬ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) স্টেডিয়ামে চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের মু্খোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। চোটের কারণে এ ম্যাচে দলে নেই টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সাকিবের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্ব পাওয়া নাজমুল হাসান শান্ত।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে খুবই সতর্ক ছিলেন তানজিদ ও লিটন। প্রথম ছয় ওভারে মাত্র ১৯ রান তুলেন তারা। কিন্তু এরপরই দুই ওপেনার হাত খোলা শুরু করেন। পরের আট ওভারে তারা যোগ করেন ৮১ রান।

দুই ওপেনারের মধ্যে তানজিদই তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। ভারতীয় বোলারদের তুলোধোনা করে ৪১ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ফিফটি তুলে নেন এ বাঁহাতি ওপেনার। তাকে যোগ্য দিচ্ছিলেন আরেক ওপেনার লিটনও।

কিন্তু পানি পানের প্রথম বিরতির পরই ছন্দপতন। ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম অর্ধশতকের পর খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তানজিদ। ১৫তম ওভারে কুলদীপ যাদবের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে থামেন তিনি। ৪৩ বলে পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৫১ রান করেন তানজিদ।

তবে তানজিদের ফেরার আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপে নতুন একটি রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ৯৩ রান তুলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি এখন তানজিদ-লিটনের। আগের সর্বোচ্চ ছিল ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে মেহরাব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেনের ৬৯ রান।

তানজিদের বিদায়ের পর কমে আসে রান তোলার গতি। নতুন নামা শান্ত সাবধান হয়ে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে অধিনায়ক হওয়ার দিনটি স্মরণীয় করতে পারেননি এ বাহাঁতি ব্যাটার। ২০তম ওভারে রবীন্দ্র জাদেজার বলে মাত্র ৮ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

দারুণ ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে টপ অর মিডল অর্ডারে সুযোগ পাওয়া মিরাজের কাছে দায়িত্বশীলতার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তিনিও হতাশ করেন। ২৫তম ওভারে মোহাম্মদ সিরাজের বলে উইকেটের পেছনে লোকেশ রাহুলের দর্শনীয় এক ক্যাচে আউট হন ৩ রান করা মিরাজ।

টপ অর্ডারের একেকজনের বিদায়ের পরও এক প্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের দ্বাদশ ও ভারতের বিপক্ষে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন লিটন। কিন্তু দলের ইনিংসটা আরও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার চাপে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এ ডানহাতি ব্যাটার। ২৮তম ওভারে জাদেজাকে উঠিয়ে মারতে গিয়ে লং অফে শুভমান গিলের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। তার আগে ৮২ বলে সাতটি চারে ৬৬ রান করেন এ ওপেনার।

লিটনের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ধরেন মুশফিক আর হৃদয়। কিন্তু ৪২ যোগ করতেই হৃদয়ের বিদায়ে এ জুটি ভেঙে যায়। ৩৮তম ওভারে শার্দুল ঠাকুরের শর্ট লেংথের বলে মিড উইকেটে গিলের হাতে ক্যাচ দেন এ ডানহাতি ব্যাটার। তার আগে ৩৫ বলে ১৬ রান করেন হৃদয়।

বাংলাদেশের ইনিংসকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলেন মুশফিক। এর মধ্যে দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। কিন্তু তাকেও ফিরিয়ে টাইগারদের রানের চাকা আর সচল হতে দেয়নি ভারত।

জাসপ্রিত বুমরাহর করা ৪৩তম ওভারের তৃতীয় বলে কাট করেছিলেন মুশফিক। শর্ট লেংথের ডেলিভারিতে বাতাসে ভাসা বলটি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দি করেন জাদেজা। আউট হওয়ার আগে একটি করে চার ও ছক্কায় ৪৬ বলে ৩৮ রান করেন মুশফিক।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর আড়াইশর গণ্ডি পেরোয় মাহমুদু্ল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। শেষ ওভারে বোল্ড হওয়ার আগে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৩৬ বলে ৪৬ রান করেন এ ডানহাতি ব্যাটার। এছাড়া, ১৮ বলে দুই বাউন্ডারিতে ১৪ রান করেন নাসুম আহমেদ।

বোলিংয়ে ফলো থ্রুতে চোটাক্রান্ত হার্দিক পান্ডিয়া আর ছয় বছর পর ওয়ানডেতে বোলার বনে যাওয়া ভিরাটনকোহলি ব্যতিত ভারতের হয়ে হাত ঘোরানো সবাই উইকেটের দেখা পেয়েছেন। বুমরাহ, সিরাজ ও জাদেজা দুইটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেছেন। পাশাপাশি একটি উইকেট শিকার করেছেন শার্দুল ঠাকুর ও কুলদীপ যাদব।

About

Popular Links