Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান

ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই দলের মধ্যকার মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস ভারসাম্যপূর্ণ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ১০:১১ এএম

আফগানিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। কিন্তু এরপরই হারের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে টাইগাররা। একে একে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, গত দুই আসরের রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক ভারতের কাছে হেরেছে সাকিব বাহিনী।

বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার মু্খোমুখি হবে বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে অঘটনের শিকার হওয়া বাদ দিলে শ্রীলঙ্কা, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছে প্রোটিয়ারা।

২০১৯ সালের সর্বশেষ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড বেশ আশাব্যঞ্জক বটে। গত বছরের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল লাল-সবুজের দল।

ওয়ানডে বিশ্বকাপে অবশ্য দুই দলের মধ্যকার মুখোমুখি লড়াই ভারসাম্যপূর্ণ। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড চারবার একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে। চারবারের সেই সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দলই সমান দুটি করে ম্যাচ জিতেছে।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়ে ২০০৩ বিশ্বকাপের পুলপর্বে। বাংলাদেশ সেবার কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে প্রোটিয়াদের বোলিং তোপে ৩৫.১ ওভারে ১০৮ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। উইকেটরক্ষক-অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট (২৯),  খালেদ মাহমুদ সুজন (২৩) আর সানোয়ার হোসেন (১১) ছাড়া বাংলাদেশের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাননি। দুই ওপেনার গ্যারি কারস্টেন ও হার্শেল গিবসের অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটিতেই ৩৮ ওভার হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকানরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে আয়োজিত ২০০৭ বিশ্বকাপের সুপার এইটে আবার মু্খোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। মেঘলা কন্ডিশনে টস জিতে টাইগারদের ব্যাটিংয়ে পাঠায় প্রোটিয়ারা। ভালো শুরুর পরও ৮৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে লাল-সবুজরা। তবে এরপর দর্শনীয় বিভিন্ন স্ট্রোক খেলে ৮৩ বলে ৮৭ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। শেষদিকে মাশরাফি বিন মর্তুজার ঝড়ো ক্যামিওতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। জবাবে আব্দুর রাজ্জাক, সৈয়দ রাসেল ও সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে এক গিবস (৫৬) ও জ্যাক ক্যালিস (৩২) ছাড়া কেউই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দশ বল বাকি থাকতে প্রোটিয়ারা ১৮৪ রানে অলআউট হওয়ায় ৬৭ রানের দাপুটে জয় পায় বাংলাদেশ।

উপমহাদেশে আয়োজিত ২০১১ বিশ্বকাপে একই গ্রুপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বেই নিজেদের শেষ ম্যাচে মু্খোমুখি হয় দুই দল। ওপেনার হাশিম আমলা (৫১), ক্যালিস (৬৯), ফাফ ডু প্লেসিসের (৫২) অর্ধশতক আর শেষদিকে রবিন পিটারসনেন ক্যামিওতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে হারিয়ে ২৮৪ রানের পুঁজি পায় দক্ষিণ আফ্রিকানরা। জবাবে ২৮ ওভারে মাত্র ৭৮ রানে গুটিয়ে যায় টাইগার। অধিনায়ক সাকিব (৩০) ছাড়া বাকি সবাই দুই অঙ্কের নিচেই আউট হয়। ঘরের মাটিতে বাংলাদেশকে ২০৮ রানের পরাজয়ের লজ্জা উপহার দিয়ে প্রোটিয়ারা আগের আসরে পরাজয়ের নির্মম প্রতিশোধ নেয়।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা শেষবার পরস্পরের মোকাবিলা করেছিল ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে আয়োজিত সর্বশেষ আসরে। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। ফিফটি করেছিলেন সাকিব (৭৫) ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম (৭৮)। এছাড়া শেষদিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (৩৩ বলে অপরাজিত ৪৬) খেলেছিলেন দারুণ এক ক্যামিও। জবাবে টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়াদের ইনিংস থেমে যায় ৩০৯ রানে। ফলে ২১ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় বাংলাদেশ।

About

Popular Links