Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ

টেবিলে সাতে উঠে গেছে বাংলাদেশ। আট নম্বরে নেমেছে লঙ্কানরা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:২০ পিএম

নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

সোমবার (৬ নভেম্বর) নিজেদের অষ্টম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। বিশ্বকাপে এই প্রথম শ্রীলঙ্কাকে হারাল টাইগাররা।

এই জয়ে আট ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তম স্থানে উঠল বাংলাদেশ। এতে ২০২৫ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার আশা বেঁচে থাকল বাংলাদেশের। এই হারে বিশ্বকাপের লিগ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো শ্রীলঙ্কার। আট ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে আছে লঙ্কানরা।

চারিথ আশালঙ্কার সেঞ্চুরিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রান করে শ্রীলঙ্কা। ১০৫ বলে ১০৮ রান করেন আশালঙ্কা। জবাবে শান্তর ৯০ ও সাকিবের ঝড়ো ৮২ রানের সুবাদে ৫৩ বল বাকি রেখে টানা ছয় ম্যাচ হারের পর জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের আগে বল হাতে দুই উইকেট নেওয়ায় ম্যাচসেরা হন সাকিব।

দিল্লিতে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে উইকেট শিকারের আনন্দে ভাসান বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তবে আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করেন উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। শরিফুলের অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়ে উইকেটের পেছনে মুশফিকের তালুবন্দি হন চার রান করা ওপেনার কুশল পেরেরা।

শুরুতে উইকেট হারালেও ভড়কে যাননি আরেক ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। পাল্টা আক্রমণে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন তারা। জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে উইকেটে জমে যান নিশাঙ্কা ও মেন্ডিস। এ অবস্থায় ১১তম ওভারে প্রথমবারের আক্রমণে এসেই উইকেট তুলে নেন তানজিম সাকিব। ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে শরিফুলের দারুণ ক্যাচে আউট হন একটি করে চার-ছক্কায় ১৯ রান করা মেন্ডিস। দ্বিতীয় উইকেটে নিশাঙ্কা মেন্ডিস  ৬৩ বলে ৬১ রান যোগ করেন।

মেন্ডিস ফেরার পরের ওভারে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন নিশাঙ্কাও। আটটি চারে ৪১ রান করা নিশাঙ্কাকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজুর রহমানের পরিবর্তে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে নেমে পেসার তানজিম সাকিব।

৭২ রানে তিন উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন সাদিরা সামারাবিক্রমা ও চারিথ আশালঙ্কা। বাংলাদেশের বোলারদের দেখেশুনে খেলে শ্রীলঙ্কার রানের চাকা ঘুরিয়েছেন তারা। ইনিংসে দ্বিতীয়বারের মত হাফ-সেঞ্চুরির জুটিতে উইকেটে সেট হয়ে যান সামারাবিক্রমা ও আশালঙ্কা। এই জুটি ভাঙতে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বোলারদের ব্যবহার করেও বাংলাদেশ যখন সাফল্য পাচ্ছিল না তখনই আবারও তানজিম সাকিবের হাত ধরে ব্রেক-থ্রু পায় টাইগাররা।

সাকিবের করা ২৫তম ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে মাহমুদুল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে থামেন ৪২ বলে ৪টি চারে ৪১ রান করা সামারাবিক্রমা। আশালঙ্কার সঙ্গে ৬৯ বলে ৬৩ রান যোগ করেছিলেন তিনি।

সামারাবিক্রমার বিদায়ে উইকেটে আসেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। কিন্তু কোনো বল না খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টাইমড আউট হন তিনি। ক্রিজে গিয়ে হেলমেট ঠিক করতে গিয়ে, সেটির ফিতা ছিঁড়ে যায়। এরপর নতুন হেলমেটের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন ম্যাথিউস। এর মধ্যে নতুন হেলমেট আনলেও, সেটিও ফিরিয়ে দেন তিনি। এসবের কারণে তিন মিনিটের বেশি সময় অতিবাহিত হলে ম্যাথিউসের বিপক্ষে টাইম আউটের আবেদন করে বাংলাদেশ। তাতে সাড়া দেন অন-ফিল্ড আম্পায়ার দক্ষিণ আফ্রিকার মারাইস এরাসমাস। বিশ্বকাপের প্লেয়িং কন্ডিশনে, কোনো ব্যাটার আউটের পর নতুন বাটারের দুই মিনিটের মধ্যে বল মোকাবিলা করতে হবে। সেটা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ফিরে যেতে হয় ম্যাথিউসকে।

দলীয় ১৩৫ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে ম্যাথুজ ফেরার পর ক্রিজে আশালঙ্কার সঙ্গী হন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। দলকে লড়াইয়ে ফেরাতে দেখেশুনে খেলতে থাকেন তারা। এই জুটিতে ওয়ানডেতে ১১তম হাফ-সেঞ্চুরি করেন আশালঙ্কা। ৩৭তম ওভারে শ্রীলঙ্কার রান ২০০ স্পর্শ করে। পরের ওভারে মিরাজের বলে স্টাম্পড আউট হন চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৬ বলে ৩৪ রান করা ডি সিলভা। ষষ্ঠ উইকেটে ৮২ বলে ৭৮ রান যোগ করে দলের রান ২১৩-তে নেন ডি সিলভা- ধনাঞ্জয়া।

এরপর মহেশ থিকশানার সঙ্গে ৪৮ বলে ৪৫ রান তুলে দলের রান ২৫০ পার করেন আশালঙ্কা। থিকশানা ২২ রানে থামলেও ৪৮তম ওভারে ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১০১ বল খেলা আশালঙ্কা। সেঞ্চুরির পূর্ণ করার পর ৪৯তম ওভারে তনজিমের বলে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ১০৫ বলে ১০৮ রান করেন আসালঙ্কা।

অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আশালঙ্কা ফেরার পর তিন বল বাকি থাকতে ২৭৯ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের তানজিম সাকিব ১০ ওভারে ৮০ রানে তিন উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ও সাকিব এবং এক উইকেট নেন মিরাজ।

নিজেদের ইনিংসে লঙ্কান ব্যাটারা সাতটি ছক্কা হাঁকান। এতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড হয়। ২০১৫ আসরের  সর্বোচ্চ ৪৬৩ ছক্কাকে টপকে গেছে এবারের বিশ্বকাপ।

২৮০ রানের জবাবে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে তৃতীয় ওভারেই বিচ্ছিন্ন হয় বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। পেসার দিলশান মাদুশঙ্কার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কভারে নিশাঙ্কাকে ক্যাচ দেন দুটি চারে পাঁচ বলে নয় রান করা তানজিদ হাসান।

তানজিদের ফেরার ওভারেই ফাইন লেগে পেরেরাকে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান ওপেনার লিটন দাস। জীবন পেয়েও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। সপ্তম ওভারে মাদুশঙ্কার দারুণ এক ডেলিভারিতে লেগ বিফোর আউট হন লিটন। রিভিউ না নিলে ২২ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় ২৩ রানে আউট হন লিটন।

৪১ রানে দুই উইকেট পতনে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব। উইকেটে দ্রুত সেট হয়ে রানের চাকা সচল করেন তারা। ১৮তম ওভারে ১০০ পায় বাংলাদেশ। ৫৮ বল খেলে ওয়ানডেতে সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত। ২৩তম ওভারে এবারের আসরে বাংলাদেশের পক্ষে শতরানের জুটি গড়েন শান্ত ও সাকিব। ৪৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে  ৫৬তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান সাকিব। বিশ্বকাপে এই নিয়ে ত্রয়োদশবার ৫০ রানের বেশি ইনিংস খেলে তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এলেন সাকিব।

৩০তম ওভারে দলের রান ২০০ পার করে বিচ্ছিন্ন হন শান্ত ও সাকিব। ৩২তম ওভারে ম্যাথুজের বলে আশালঙ্কাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮২ রান করা সাকিব। শান্তর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ বলে ১৬৯ রান যোগ করেন দলের জয়ের পথ তৈরি করেন টাইগার অধিনায়ক। এ নিয়ে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মত অন্তত ১৫০ রানের জুটি গড়ল টাইগাররা।

দলীয় ২১০ রানে সাকিব ফেরার পর কিছুক্ষণ পর ম্যাথিউসের দ্বিতীয় শিকার হন শান্ত, এর আগে করেন ১০১ বলে ৯০ রান। ১ রানের ব্যবধানে সাকিব-শান্তর বিদায়ের পর বাংলাদেশকে দ্রুত জয়ের বন্দরে নেয়ার পথে হাঁটতে থাকেন মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিকুর। ২৬ বলে ৩৮ রান তুলে ২৫০ কাছে নেন তারা। কিন্তু ছয় রানের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নে ফিরেন দু’জনেই। মুশফফিককে ১০ রানে মাদুশঙ্কা ও মাহমুদুল্লাহকে ২২ রানে বোল্ড করেন থিকশানা। এ সময় জয় থেকে ২৫ রান দূরে  বাংলাদেশ।

সপ্তম উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে ১০ বলে ১৪ রান তুলে আউট হন মিরাজ (৩)। এরপর অবিচ্ছিন্ন ১৩ রান তুলে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন হৃদয় ও তানজিম। দুটি ছক্কায় হৃদয় সাত বলে অপরাজিত ১৫ ও দুটি চারে তানজিম নয় রানে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলংকার মাদুশঙ্কা ৬৯ রানে তিন উইকেট নেন।

আগামী ১১ নভেম্বর পুনেতে বিশ্বকাপে নিজেদের নবম ও শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

About

Popular Links