Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বকাপে ভারতের সাফল্যের রহস্য

প্রতিপক্ষ দল ভারতের বোলারদের এতটা সমীহ কবে করেছে মনে করা যাচ্ছে না। এই বিশ্বকাপে একটা স্বপ্নের স্পেলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন রোহিত শর্মারা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৫৭ পিএম

একের পর এক আট ম্যাচে জয় পেয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় অন্যদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়াই নয়, ভারত জিতছে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে। ব্যাট করতে নামার পর শুরুটা দুর্দান্ত হচ্ছে। মিডল অর্ডার নির্ভরতা দিচ্ছে। তারপর চমকপ্রদ বিষয়টা হলো, বল করতে এসে বুমরাহ, সিরাজ, শামি, জাদেজা ও কুলদীপকে ভয়ংকর দেখাচ্ছে। প্রতিপক্ষ দল ভারতের বোলারদের এতটা সমীহ কবে করেছে মনে করা যাচ্ছে না। এই বিশ্বকাপে একটা স্বপ্নের স্পেলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন রোহিত শর্মারা।

সাউথ আফ্রিকার কথাই ধরুন। এবারের বিশ্বকাপে পয়েন্ট তালিকায় দুই নম্বর দল। ভারতের সঙ্গে নামার আগে সাত ম্যাচ খেলে ছয়টিতে জিতেছিল। কিন্তু ভারতের ৩২৬ রান তাড়া করে তারা গুটিয়ে গেল মাত্র ৮৩ রানে। ইডেনের ২২ গজে সাউথ আফ্রিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৪ রান করলেন বোলার মার্কো জানসেন। জাদেজা পাঁচ, কুলদীপ দুই, শামি দুই ও সিরাজ এক উইকেট নিলেন।

ম্যাচের সেরা হওয়ার পর জাদেজা জানিয়েছেন, তারা একটা করে ম্যাচ দেখে খেলতে চান। এই ছন্দটা সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ধরে রাখতে চান তারা।

জাদেজাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, লড়াইটা একটু কঠিন হলে ভালো হত না? জাদেজার জবাব, “আরে কঠিন লড়াই তো হওয়া উচিতই নয়। প্রতিপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে আতঙ্কিত হবে, সেটাই তো দরকার। আমরা তো চাই, আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ চাপে পড়ে যাক।”

বাস্তবে হচ্ছেও তাই। ভারতের প্রত্যেক ক্রিকেটার নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বোলাররা এমন বল করছেন, দেখে মনে হচ্ছে, যেকোনো সময় তারা উইকেট পাবেন। শামি, সিরাজরা বল করতে এলে তাদের এতটাই ভয়ংকর লাগছে যে, দেখে মনে হচ্ছে বিপক্ষের ক্রিকেটাররা বেশ আতঙ্কে আছেন। তিন পেসারের বল দুইদিকে সুইং করছে। প্রত্যেকের লাইন ও লেন্থ অসম্ভব ভালো। সবার ওপরে রয়েছে তাদের আত্মবিশ্বাস।

প্রোটিয়া ক্যাপ্টেন টেম্বা বাভুমার উইকেট নেওয়ার পর কোহলিকে জড়িয়ে ধরে রবীন্দ্র জাদেজার উল্লাস/এএফপি

এর পেছনে অবশ্য একজনের হাত আছে। তিনি হলেন, “বোলিং কোচ পরশ মাম্বরে। তিনি দেশের হয়ে মাত্র দুইটি টেস্ট ও তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে তিনিই ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ। দ্রাবিড় তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। তিনিও কামাল করে দিচ্ছেন। প্রচারের আলোর বাইরে থাকা এই কোচ শামিদের বদলে দিয়েছেন। ঠিক জায়গায় বল রেখে সুইং করানোর ওপর জোর দিয়েছেন। পেস সহায়ক নয়, এমন পিচেও তারা অসাধারণ সাফল্য পাচ্ছেন।”

সেইসঙ্গে অসাধারণ খেলছেন ব্যাটাররা। এক্ষেত্রে রোহিতরা একটা কৌশল নিয়েছেন। রোহিত জানিয়েছেন, তিনি ও গিল শুরুর ওভারে চালিয়ে খেলে স্কোরবোর্ডে বেশ কিছু রান তুলতে চাইছেন। তারপর বিরাট, শ্রেয়স, কে এল রাহুল, সূর্যকুমার, জাদেজারা বাকি কাজটা করছেন। বিরাট কোহলি দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের পর বলছিলেন, “রোহিতরা পিটিয়ে খেলার পর পিচ স্লো হয়ে গিয়েছিল। তখন দেখে খেলতে হচ্ছিল। কিন্তু দর্শকদের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। তারা মনে করে, রোহিতরা যখন পিটিয়ে খেলতে পেরেছে, তখন বাকিরা কেন খেলতে পারবে না?”

এই প্রত্যাশার চাপটাও সহজভাবেই নিচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। দলের এখন এমনই অবস্থা, হার্দিকের অভাব পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে না। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো বোলারকে সাতটি ম্যাচ টিমের বাইরে থাকতে হয়েছে। ইশান কিশান ফর্মে থেকেও সুযোগ পাচ্ছেন না। সবচেয়ে বড় কথা রোহিতদের এই দলে সংহতি আছে, ফিটনেস আছে। প্রত্যেকের মধ্যে জেতার খিদেটা মারাত্মক।

ম্যাচের পর রোহিত বলেছেন, “দলের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়। শ্রেয়স প্রথমে রান পাচ্ছিল না। কিন্তু আমরা বিশ্বাস রেখেছি। তার ফলও পেয়েছি। শ্রেয়স রান না পেলেও খেলাতাম। প্লেয়ারদের ওপর বিশ্বাস রাখাটা জরুরি।”

শামির কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন রোহিত। বলেছেন, “শামি দলে ফেরার পর যেভাবে উইকেট নিচ্ছেন, তাতে বোঝা যায়, মানসিক দিক থেকে কতটা শক্ত শামি।”

রোহিতের দাবি, “আগে থেকে কিছুই পরিকল্পনা করে করা হয় না। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা খেলি। প্রতিটি ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করি। দূরের কথা আগে ভাবি না। এটাই রোহিতের কাছে সাফল্যের রসায়ন।”

দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের আগে দ্রাবিড় বলেছিলেন, “জাদেজা এত ভালো খেলছে, কিন্তু স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। ওকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।” সেই জাদেজা ম্যাচের সেরা হওয়ার পর সেই খেদ থাকবে না দ্রাবিড়ের। আর কোচ হিসাবে তিনিও এখন চূড়ান্তভাবে সফল। টিমকে একসূত্রে গেঁথে ফেলতে পেরেছেন দ্রাবিড়।

About

Popular Links