Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সেমিফাইনালের গেরো ছুটাতে পারল না প্রোটিয়ারা, ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

এ নিয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাঁচবার সেমিফাইনালে উঠেও ফাইনালে ওঠা হলো না দক্ষিণ আফ্রিকার

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ১১:১৬ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ ক্রিকেট মানেই দারুণ শুরু করে সেমিফাইনালে গিয়ে হোঁচট খাওয়া। “চোকার” তকমাটা তাই লেগে আছে তাদের কপালে। ভারতে চলমান আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নিজেদের ভাগ্য বদলে ব্যতিক্রম কিছু্ করে দেখাতে পারেনি টেম্বা বাভুমার দল।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩ উইকেটে হেরেছে প্রোট্রিয়ারা। এ নিয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাঁচবার সেমিফাইনালে উঠেও ফাইনালে ওঠা হলো না দলটির। অন্যদিকে এ নিয়ে অষ্টম বারের মতো ফাইনালে উঠল অস্ট্রেলিয়া।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ২১২ রান করে প্রোট্রিয়ারা। নির্ধারিত ৫০ ওভারের দুই বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় তারা।

জবাবে ৪৭.২ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজিরা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান এসেছে ট্রাভিস হেডের ব্যাট থেকে। তাছাড়া ৩০ রান করেছেন স্মিথ। প্রোটিয়াদের হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন জেরাল্ড কোয়েটজে ও তাবরাইজ শামসি।

২১৩ রান তাড়া করতে নেমে খুব বেশি তাড়াহুড়োর প্রয়োজন ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। এমনকি দ্রুত রান তোলার চাপও ছিল না পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। তবুও ডেভিড ওয়ার্নার এবং ট্রাভিস হেড মিলে কাগিসো রাবাদা এবং মার্কো জানসেনের বিপক্ষে রান তুললেন প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত। তাতে মাত্র ৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়া রান তোলে বিনা উইকেটে ৬০।

পেসাররা প্রত্যাশা মেটাতে না পারলেও ইনিংসের সপ্তম ওভারেই স্পিনারের দ্বারস্থ হন টেম্বা বাভুমা। বোলিংয়ে এসে উইকেট এনে দেন মার্করাম। একটু জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ওয়ার্নার। দারুণ ছন্দে থাকা বাঁহাতি এই ওপেনার আউট হয়েছেন ১৮ বলে ২৯ রানের ইনিংস খেলে। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেও এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি মিচেল মার্শ।

দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পরও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে পড়তে দেননি হেড ও স্মিথ। ৪০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন হেড। দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা হেডকে ফিরিয়েছেন মহারাজ। বাঁহাতি এই ওপেনার ফিরে যান ৬২ রানের ইনিংস খেলে।

মার্নাস ল্যাবুশেনকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি শামসি। বাঁহাতি এই স্পিনারের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন তিনি। রিভিউ নিলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি ১৮ রান করা এই ব্যাটারের। দ্রুতই ফিরে গেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। শামসির শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে বলের লাইন মিস করে ফিরে গেছেন বোল্ড হয়ে।

নিজের সবশেষ ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করা ম্যাক্সওয়েল এদিন আউট হয়েছেন ১ রানে। সবশেষ ৬৭ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ভালোভাবেই ম্যাচে ফিরে সাউথ আফ্রিকা। তবে তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় স্মিথ ও জশ ইংলিস জুটি। তারা দুজনে মিলে যোগ করেন ৩৭ রান। স্মিথকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন জেরাল্ড কোয়েতজে। লম্বা সময় টিকে থাকা স্মিথকে ফিরতে হয় ৬২ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে।

স্মিথ ফেরার পর স্টার্ককে সঙ্গে নিয়ে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইংলিস। তখনও হাতে পর্যাপ্ত বল থাকায় চাপ নেয়ার তেমন প্রয়োজন ছিল না তার। অস্ট্রেলিয়া যখন জয় থেকে ২০ রান দূরে তখন সাজঘরে ফেরেন ইংলিস। কোয়েতজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ৪৯ বলে ২৮ রান করা অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন কামিন্স ও স্টার্ক।

এর আগে ম্যাচের শুরুতেই দুই অজি পেসার মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড শুরুতেই ধস নামান প্রোটিয়াদের টপ অর্ডারে। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে অধিনায়ক বাভুমার উইকেট তুলে নেন মিচেল স্টার্ক। ষষ্ঠ ওভারে কুইন্টন ডি ককের উইকেটও তুলে নেন হ্যাজেলউড। দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়া দল।

চাপে পড়লে দলটার অবস্থা কেমন হয় তা এই ম্যাচেই দেখা গেছে আবার। নতুন বলে স্টার্ক-হ্যাজলউডের আক্রমণ অব্যাহত থাকে। এইডেন মারক্রামকে (১০) স্টার্ক ও  রাসি ফন ডার ডাসেনকে (৬) হ্যাজেলউড আউট করলে ২৪ রানে পড়ে চার উইকেট। তাতে  ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয় দক্ষিণ আফ্রিকার।

সেখান থেকেও তারা ঘুরে দাঁড়ায় ডেভিড মিলার- হাইনরিখ ক্লাসেনের প্রতিরোধে। দু’জনে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়ে ১৪ ওভারে স্কোরটা ৪৪ রানে নিয়ে গেছেন। তার পর বৃষ্টি হানা দিলে ৪৫ মিনিটের মতো বন্ধ থাকে ম্যাচ। বৃষ্টির পর ম্যাচ শুরু হলে এই জুটির প্রতিরোধে ২৫ ওভারে রান হয় ৭৯। এই জুটির কল্যাণে স্কোর একশও ছাড়িয়েছে। ক্লাসেন (৪৭) কে দারুণ এক ঘূর্ণিতে বোল্ড করে সম্ভাবনাময় জুটির ইতি ঘটান ট্রাভিস হেড। এই জুটিতে যোগ হয়েছে ৯৫ রান।

জুটি ভেঙে হেড পরের বলে নতুন ব্যাটার মার্কো ইয়ানসেনকেও (০) এলবিডাব্লিউতে ফেরালে মুহূর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় অস্ট্রেলিয়া। তাতে জাগে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও। যদিও শেষ পর্যন্ত হেডের হ্যাটট্রিক হয়নি। ১১৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর দলকে একাই টেনে নিতে থাকেন মিলার। অপরপ্রান্তের সঙ্গীরা ফিরতে থাকলে নিজের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর দুইশ ছাড়াতে অবদান রাখেন দারুণ এক সেঞ্চুরিতে। ১১৬ বলে ১০১ রানে তার আউটের পর ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ৪৯.৪ ওভারে ২১২ রানে তারা গুটিয়ে গেছে। মিলারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ছিল ৮টি চার ও ৫টি ছয়ের মার।

শেষটায় বেশি কার্যকরী ছিলেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ৫১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। তবে ৩৪ রানে তিন উইকেট নিয়ে সেরা ছিলেন মিচেল স্টার্ক। ১২ রানে দুটি নিয়েছেন হ্যাজলউড। ২১ রানে দুটি উইকেট শিকার করে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিতে অবদান রাখেন ট্রাভিস হেড।

About

Popular Links