Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অজি বোলিং তোপে ভারতের নড়বড়ে সংগ্রহ

নির্ধারিত ৫০ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান সংগ্রহ করে ভারত

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:১৮ পিএম

নির্ধারিত ৫০ ওভারে ১০ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। রেকর্ড ষষ্ঠ শিরোপা জিততে তাই অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ২৪১ রান। আহমেদাবাদের এই পিচে ফ্লাডলাইটের আলোতে ভারতের বোলারদের এখন কঠিন এক পরীক্ষাতেই নামতে হবে।

শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। শুষ্ক উইকেটে জায়গা ধরে রেখে বোলিং করার দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথা জানান কামিন্স। তবে ভারত অধিনায়ক রোহিত শার্মা জানান, টস জিতলে তিনি আগে ব্যাটিংই নিতেন। তাই টস হারায় সমস্যা নেই তার।

খেলার শুরুতেই শূন্য রানে আউট হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরতে পারতেন শুবমান গিল। তবে অল্পের জন্য ক্যাচ ওঠেনি স্লিপে। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে গিলের ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটের পেছনে। ঝাঁপিয়ে পড়েও নাগাল পাননি উইকেট কিপার জশ ইংলিস।

অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমে ব্রেক থ্রু এনে দেন মিচেল স্টার্ক। ম্যাচের পঞ্চম ওভারে তিনি শুবমান গিলকে ফেরান। শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দেন তিনি। এ সময় তার সংগ্রহ ছিল ৭ বলে ৪ রান। তিন নম্বরে নামেন ভিরাট কোহলি।

গিল আউট হয়ে গেলেও ক্রিজে দাঁড়িয়ে ঝড় তুলেছেন ভারতীয় ওপেনার রোহিত শার্মা। ফলে ৫ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৩৭ রান। এর মধ্যে ২০ বলে ৩১ রানে খেলছেন রোহিত।

কোহলির বিদায়ে ভাঙে ৬৭ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি/সংগৃহীত

মারকুটে ভঙ্গিমায় এগিয়ে যাচ্ছিলেন রোহিত। তবে ৩১ বলে ৪৭ রান করার পর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বলে ট্রাভিস হেডের দুর্দান্ত এক ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় ভারতীয় অধিনায়ককে। এরপরই ভারতকে চেপে ধরে অস্ট্রেলিয়া।

১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে তখন ভারতের সংগ্রহ ৮০ রান। এরপর টানা ১৬ ওভার কোনো বাউন্ডারি মারতে পারেনি ভারত। ২৭তম ওভারে গিয়ে বাউন্ডারির দেখা পান লোকেশ রাহুল।

আগের দুই ম্যাচে ঝড়ো সেঞ্চুরি করা শ্রেয়াস আইয়ার অল্পতেই থেমে যান। রোহিত শার্মা আউট হওয়ার পরপরই ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন চার নম্বরে নামা ব্যাটসম্যান। প্যাট কামিন্সের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারি খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন আইয়ার। ৩ বলে তিনি করেছেন ৪ রান।

১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ ৮২ রান। ভিরাট কোহলি ২২ বলে ২৪ রানে অপরাজিত।

এমন অবস্থায় রয়েসয়ে খেলে ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন ভিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল। মূল দায়িত্বটা কাঁধে নিয়েছিলেন কোহলি। ফিফটিও তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু কোহলিকে বোল্ড করে কথামতো স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন প্যাট কামিন্স। তাতে ভাঙে ৬৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

কোহলি কামিন্সের দেওয়া শর্ট বল ঠিকমতো খেলতে পারেননি। এমনভাবে খেলেছেন যে বল স্ট্যাম্পে গিয়ে আঘাত করে। তাতে ৬৩ বলে ৫৪ রানে ফিরেন কোহলি।

কোহলির আউটের পর দায়িত্ব নিয়ে খেলছিলেন লোকেশ রাহুল। ৮৬ বলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১৭তম ফিফটি। অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন রবীন্দ্র জাদেজা। তবে ২২ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি। জশ হ্যাজেলউডের বলে জস ইংলিসের গ্লাভসবন্দি হন জাদেজা। এ পর্যায়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৭৮ রান।

ভারতকে ২০০ রানে পৌঁছে দিয়ে আউট হন রাহুল। মিচেল স্টার্কের বলে আউটসাইড এজ হয়ে জশ ইংলিসের ক্যাচ হন তিনি। ১০৭ বলে ১ চারে ৬৬ রান করেন এই ব্যাটার।

টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক/সংগৃহীত

আহমেদাবাদে ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতায় হাল ধরতে পারেননি সুরিয়াকুমার ইয়াদাভও। জশ হেইজেলউডের স্লোয়ার বাউন্সারে পুল খেলার চেষ্টায় আগেই ব্যাট চালান তিনি। বল তার গ্লাভসে লেগে উঠে যায় আকাশে। উইকেটের পেছনে সহজ ক্যাচ ক্যাচ নেন জশ ইংলিস। ১ চারে ২৮ বলে ১৮ রান করে ফিরেন সুরিয়াকুমার।

৪০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৯৭ রান। সেখান থেকে ২৮০-২৯০ রানের পুঁজি পাওয়াটা অসম্ভব ছিল না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সম্ভব হয়নি সেটা।

গ্রুপ পর্বে কেবল তিন ম্যাচে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল ভারত। এর দুটিতে ৬ উইকেট হারানোর সময় স্কোরবোর্ডে রান ছিল ৩৩৩ ও ২৬৯। সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষটাই হল আজ। মোহাম্মদ শামি ৭ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসাবে উইকেটে আসেন ৪১তম ওভারে।

তখন নিশ্চিতভাবে হার্দিক পান্ডের অভাববোধ করছিল ভারত। এই অলরাউন্ডার না থাকায় নষ্ট হওয়া ভারসাম্যটা বাজেভাবে ফুটে উঠল ফাইনালের মঞ্চে। টেলএন্ডারদের ব্যর্থতায় ভারত থামে ২৪০ রানে। কুলদীপ ইয়াদাভ ১০ ও মোহাম্মদ সিরাজ ৯ না করলে স্কোরটা আরও কম হতে পারত স্বাগতিকদের।

ফাইনাল জিততে অস্ট্রেলিয়ানরা যেভাবে ফিল্ডিং করেছে, তাতে ধারাভাষ্যে আলোচনা হচ্ছিল, “অস্ট্রেলিয়া কি ২০ ফিল্ডার নিয়ে খেলছে।” এখন অবশ্য ২০ জনের ব্যাটিংয়ের দরকার নেই। ২৪১ করলেই “হেক্সা” (ষষ্ঠ শিরোপা) জিতবে প্যাট কামিন্সের দল।

About

Popular Links