Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ধবলধোলাই এড়াল বাংলাদেশ

নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলকে ১০ উইকেটে হারাল টাইগাররা

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৯:২৮ এএম

মুস্তাফিজুর রহমানের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা এড়াল সফরকারী বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলকে ১০ উইকেটে হারাল টাইগাররা।

শনিবার (২৬ মে) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ যথাক্রমে- ৫ উইকেট ও ৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচ হারলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল যুক্তরাষ্ট্র।

এ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে মুস্তাফিজের তোপে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১০৪ রান করে যুক্তরাষ্ট্র। ৪ ওভার বল করে মাত্র ১০ রানে ৬ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। ৯৬ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই সেরা বোলিং ফিগার ফিজের। জবাবে ১১.৪ ওভারে বিনা উইকেটে ১০৮ রান করে বাংলাদেশ।

১০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা মোস্তাফিজুর রহমান/ইউএসএ ক্রিকেট

হিউস্টনের প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট কমপ্লেক্সে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যাটিংয়ে নেমে ৪.৫ ওভারে ৪৬ রান তুলেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই ওপেনার শায়ান জাহাঙ্গীর ও অ্যান্ড্রিস গাউস। পেসার তানজিম হাসান সাকিবের করা চতুর্থ ওভারে চারটি চারে ১৭ রান নেন গাউস।

পঞ্চম ওভারে প্রথম বল করতে এসে একটি করে চার-ছক্কা হজম করেন সাকিব আল হাসান। তবে ওভারের শেষ বলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ভাঙ্গেন সাকিবই। পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ১৫ বলে ২৭ রান করা গাউসকে শিকার করেন তিনি। এই শিকারের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৭০০ উইকেট পূর্ণ করেন সাকিব।

সাকিবের ব্রেক-থ্রুর পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটারদের চেপে ধরে বাংলাদেশের অন্য বোলাররা। ১৪ রানের ব্যবধানে পরের ৪ উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ, রিশাদ ও তানজিম।

জাহাঙ্গীরকে ১৮ ও নীতীশ কুমারকে ৩ রানে আউট করেন মুস্তাফিজ। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অ্যারন জোন্সকে ২ রানে বিদায় দেন তানজিম। মিলিন্দ কুমারকে ৭ রানে থামিয়ে দেন রিশাদ। ৪৬ রানের সূচনার পর ৬০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। ষষ্ঠ উইকেটে ৩১ বলে ৩২ রানের জুটি গড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে লড়াইয়ে ফেরান নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার কোরি অ্যান্ডারসন ও শ্যাডলি ভ্যান শালকউইক।

১৮তম ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াকু সংগ্রহের সম্ভাবনা শেষ করে দেন মুস্তাফিজ। শ্যাডলিকে ১২ রানে এবং অ্যান্ডারসনকে ১৮ রানে বোল্ড করেন ফিজ। ইনিংসের শেষ ওভারে মুস্তাফিজ আরও ২ উইকেট শিকার করলে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১০৪ রানে শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইনিংস।

বাংলাদেশকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় করে যুক্তরাষ্ট্র/ইউএসএ ক্রিকেট

বাংলাদেশের মুস্তাফিজ ১০ রানে ৬ উইকেট নেন। টি-টোয়েন্টিতে এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। তার আগের সেরা বোলিং ছিল ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ঐ আসরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ফিজ।

এছাড়াও কিপটে বোলিং করেছেন রিশাদ হোসেন। ৪ ওভার বোলিং করে মাত্র ৭ রানে নেন ১ উইকেট। মুস্তাফিজের আগুন বোলিংয়ের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে তানজিম, সাকিব একটি করে উইকেট নেন।

ধবলধোলাই এড়াতে ১০৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ব্যাট হাতে ঝড় তোলন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার। পাওয়ার প্লেতে ৪৮ রান যোগ করেন দুইজনে। ১১তম ওভারে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ। এজন্য ৩৮ বল খেলেছেন তিনি। এরপর ১১তম ওভারের চতুর্থ বলেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ ও সৌম্য। পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কায় তানজিদ ৪২ বলে অপরাজিত ৫৮ এবং চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৮ বলে অনবদ্য ৪৩ রান করেন সৌম্য।

আগামী ২৮ মে ডালাসে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে আবারও দেখা হবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

যুক্তরাষ্ট্র: ২০ ওভারে ১০৪/৯ (জাহাঙ্গীর ১৮, গাউস ২৭, নীতীশ ৩, মিলিন্দ ৭, জোন্স ২, অ্যান্ডারসন ১৮, স্কালকয়েক ১২, জাসদিপ ৬, নিসার্গ ২, কেজিগে ১*; তানজিম ৪-১-৩২-১, হাসান ৩-০-১৯-০, সাকিব ৩-০-২৩-১, মুস্তাফিজ ৪-১-১০-৬, রিশাদ ৪-১-৭-১, মাহমুদউল্লাহ ২-০-১১-০)

বাংলাদেশ: ১১.৪ ওভারে ১০৮/০ (তানজিদ ৫৮*, সৌম্য ৪৩*; নেত্রাভাল্কার ২-০-২৫-০, জাসদিপ ২-০-১০-০, স্কালকয়েক ১-০-১৪-০, মিলিন্দ ৪-০-২৫-০, নিতিশ ১-০-১১-০, কেজিগে ১-০-১০-০, নিসার্গ ০.৪-০-৬-০)

ফল: বাংলাদেশ ১০ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে যুক্তরাষ্ট্র ২-১ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মুস্তাফিজুর রহমান

ম্যান অব দা সিরিজ: মুস্তাফিজুর রহমান

About

Popular Links