• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

ইনিয়েস্তার বিদায়ী বিশ্বকাপে স্পেনের নতুন স্বপ্ন

  • প্রকাশিত ০৯:৩২ রাত মে ৩০, ২০১৮
spain-1527694154123.jpg
স্পেন ফুটবল দল

২০১৮ বিশ্বকাপের বছর। ফুটবল মহাযজ্ঞের উত্তেজনার আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ব। ফুটবল উৎসবে মেতে ওঠার আগে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ভক্ত-সমর্থকদের। এবারও অংশ নিচ্ছে ৩২ দল। তাদের শক্তি-দুর্বলতা, স্কোয়াড, প্রতিপক্ষ নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে বি গ্রুপের স্পেনকে নিয়ে-

২০১৪ বিশ্বকাপ কেটেছে দুঃস্বপ্নের মতো। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে খেলতে নেমে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় স্পেনকে। ২০১৬ সালের ইউরোতেও খুব একটা ভালো সময় যায়নি তাদের। গ্রুপে ক্রোয়েশিয়ার পেছনে থেকে রানার্স-আপ হওয়ার পর শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয় লা রোহারা। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পাওয়া গেছে আসল স্পেনকে। দাপুটে জয়ে ইতালিকে পেছনে ফেলে সরাসরি পায় তারা রাশিয়ার মূল পর্বের টিকিট।

ভিসেন্তে দেল বোস্কের কাছ থেকে দায়িত্ব নিয়ে গত দুই বছরে স্পেন দলকে গুছিয়ে নিয়েছেন জুলেন লোগেতেগি। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের মিশেলে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড গড়ে তুলেছেন তিনি। যেখানে যেমন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সের্হিয়ো রামোস, জেরার্দ পিকেদের মতো অভিজ্ঞরা আছেন, তেমনি আছেন ইসকো, মার্কোস আসেনসিওদের মতো উঠতি তারকারা।

রাশিয়ার আসর শেষেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ইতিমধ্যে আশৈশবের ক্লাব বার্সেলোনা অধ্যায়ের ইতি টেনে দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। পিকেও জানিয়েছেন, ২০১৮ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেবেন তিনি।

একনজরে:

অধিনায়ক: সের্হিয়ো রামোস

কোচ: জুলেন লোপেতেগি

ডাকনাম: লা রোহা

র‌্যাংকিং: ৮ (জুন ৭ পর্যন্ত)

ফিরে দেখা বাছাই পর্ব:

ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বে জি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে স্পেন। বাছাই পর্বের ১০ ম্যাচে লা রোহা প্রতিপক্ষদের জালে বল জড়িয়েছে ৩৬বার, আর নিজেরা হজম করেছে মাত্র ৩ গোল।

স্প্যানিশ কোচ লোপেতেগি অভিজ্ঞদের পাশাপাশি দলে ব্যবহার করেছেন তরুণদের, যাদের মধ্যে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের মার্কো আসেনসিও ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সাউস নিগেস। ভিসেন্তে দেল বোস্কের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরের মধ্যে দারুণভাবে দল গুছিয়ে বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছেন তিনি।

বাছাই পর্বে মনে রাখার মতো ম্যাচ খেলেছে ইতালির বিপক্ষে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ওই ম্যাচে ইসকোর জোড়া লক্ষ্যভেদে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ৩-০ গোলে হারিয়েছিল স্পেন।

স্পেনের বিশ্বকাপ গ্রুপ:

বিশ্বকাপে বি গ্রুপে রয়েছে স্পেন। শেষ ষোলোতে ওঠার পথে তাদের সবচেয়ে বড় বাধা ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। গ্রুপের বাকি দুই প্রতিপক্ষ মরক্কো ও ইরান।

স্পেনের বিশ্বকাপ সূচি:

প্রথম ম্যাচেই স্প্যানিশদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। ১৫ জুন পর্তুগালের বিপক্ষে ওই লড়াইয়ে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে বি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন। পাঁচ দিন পর দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ইরানের বিপক্ষে। আর ২৫ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্পেনের প্রতিপক্ষ মরক্কো।

১৫ জুন: পর্তুগাল

২০ জুন: ইরান

২৫ জুন: মরক্কো

নজরে থাকবেন:

ইসকো: চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের শুরুর একাদশে ছিলেন ইসকো। তবে জিনেদিন জিদানের চেয়ে তিনি বেশি আস্থা অর্জন করেছেন স্পেন কোচ লোপেতেগির। স্প্যানিশ কোচ খুব ভালো করেই জানেন তার কাছ থেকে কীভাবে সেরাটা বের করে আনতে হয়। ইসকো মাঝমাঠে যেমন কার্যকর, তেমনি সমান ভূমিকা রাখতে পারেন স্ট্রাইকারের পেছনে। আর্জেন্টিনা ও ইতালির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে দলে তার কার্যকারিতার প্রমাণ দিয়েছেন ভালোভাবে।

আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি স্পেনের মাঝমাঠের অক্সিজেন। স্পেনের ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক জিতেছেন ২০০৮ ও ২০১২ সালের ইউরো। বয়স ৩৪ পেরিয়ে গেলেও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এখনও সমান গুরুত্বপূর্ণ লা রোহাদের জন্য। রাশিয়ায় নামছেন তিনি শেষ বিশ্বকাপ খেলতে।

দাভিদ দে গেয়া: গোলবারের নিচে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা দাভিদ দে গেয়া। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আলো ছড়ানো এই তারকা স্পেনেরও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। রাশিয়ায় নামতে যাচ্ছেন তিনি স্প্যানিশদের এক নম্বর গোলরক্ষক হয়ে।

ফুটবল মহাযজ্ঞে থাকছেন না:

আলভারো মোরাতা: স্পেনের বিশ্বকাপ দল ঘোষণায় সবচেয়ে বড় চমক ছিল আলভারো মোরাতার নাম না থাকা। চেলসির এই স্ট্রাইকার স্পেনের জার্সিতে ২৩ ম্যাচে ১৩ গোল করেও জায়গা পাননি বিশ্বকাপ দলে। প্রিমিয়ার লিগে ব্লুদের হয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্সই তার উপেক্ষিত থাকার বড় কারণ।

সেস্ক ফাব্রেগাস: স্পেনের বিশ্বকাপে নিয়মিত মুখ সেস্ক ফাব্রেগাসের সুযোগ হয়নি রাশিয়ার আসরে। মাঝমাঠে তারকা খেলোয়াড়ের ছড়াছড়ির সঙ্গে চেলসির জার্সিতে নিষ্প্রভ থাকায় লোপেতেগির নজরে ছিলেন না তিনি।

শক্তি: মাঝমাঠ ও রক্ষণ।

দুর্বলতা: ডিয়েগো কোস্তা ছাড়া বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা নেই ফরোয়ার্ডের অন্য খেলোয়াড়দের।

ভবিষ্যদ্বাণী: ফাইনাল।

স্পেনের চূড়ান্ত দল:

গোলরক্ষক: পেপে রেইনা (নাপোলি), দাভিদ দে গেয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), কেপা আরিসাবালাগা (অ্যাথলেতিক বিলবাও); ডিফেন্ডার: জোর্দি আলবা (বার্সেলোনা), চেসার আসপিলিকুয়েতা (চেলসি), দানি কারভাহাল (রিয়াল মাদ্রিদ), নাচো ফের্নান্দেস (রিয়াল মাদ্রিদ), নাচো মনরিয়াল (আর্সেনাল), আলভারো অদ্রিয়োসোলা (রিয়াল সোসিয়েদাদ), সের্হিয়ো রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ), জেরার্দ পিকে (বার্সেলোনা); মিডফিল্ডার: থিয়াগো আলকান্তারা (বায়ার্ন মিউনিখ), সের্হিয়ো বুশকেৎস (বার্সেলোনা), আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (বার্সেলোনা), ইসকো (রিয়াল মাদ্রিদ), কোকে (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ), সাউল নিগেস (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ), দাভিদ সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি); ফরোয়ার্ড: মার্কো আসেনসিও (রিয়াল মাদ্রিদ), ইয়াগো আসপাস (সেল্তা ভিগো), ডিয়েগো কোস্তা (অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ), রোদ্রিগো মোরেনো (ভ্যালেন্সিয়া), লুকাস ভাসকেস (রিয়াল মাদ্রিদ)।