• শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫৮ বিকেল

ফিফার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললো সার্বিয়া

  • প্রকাশিত ০২:৪৪ দুপুর জুন ২৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৪ বিকেল জুন ২৪, ২০১৮
download-1529829081748.jpg
শাকিরির বিতর্কিত ঈগল চিহ্নিত গোল উদযাপন। ছবিঃ রয়টার্স

বিষয়টির মোড় খেলার অঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক মাঠের দিকে এগিয়েছে অনেকখানি। কোকেজার দাবি ‘নিষ্ঠুর ডাকাতির’ শিকার হয়েছে সার্বিয়া।    

খেলা বিনোদনের খোরাক জোগায়। তবে,খেলার সাথে মিশে আছে কোটি প্রাণের আবেগ অনুভূতি। খেলার সকল সিদ্ধান্ত হবে নিরপক্ষ ও স্বচ্ছ। তাই তো, সুইজারল্যান্ডের সাথে ২-১ গোলের হারটা মেনে নিতে পারছেন না সার্বিয়ার ফুটবল প্রধান স্লাভিসা কোকেজা। কারণটা আবেগ নয় অভিযোগ। ফিফার পক্ষপাতিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন কোকেজ। তার দাবি ‘নিষ্ঠুর ডাকাতির’ শিকার হয়েছে সার্বিয়া।    

সমালোচনার তীব্র আকার জমাট বেঁধেছে শাকিরি আর জাকার ডাবল ঈগল গোল উদযাপন নিয়ে। যাতে পাখির ওড়ার মতো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দুজন। যাতে ইঙ্গিত করা হয়েছে আলবেনীয় জাতীয় পতাকার প্রতীক ডাবল ঈগলকে। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সার্বিয়ার ফুটবল প্রধান।

বিষয়টির মোড় খেলার অঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক মাঠের দিকে এগিয়েছে অনেকখানি। ইতিহাসটা জাকার পারিবারিক বিষয় ভিত্তিক। জাকার পরিবারের ভালো অভিজ্ঞতা নেই সার্বিয়ায়। এছাড়া শাকিরির জন্ম কসোভোতে- যা ছিল সার্বিয়ার অন্তর্ভুক্ত। কসোভো স্বাধীন হলেও সার্বিয়া দেশটির স্বাধীনতা মেনে নেয়নি। আবার জাকার মা-বাবা দুজনে আলবেনীয়। জাকার ভাইও খেলেন আলেবেনিয়ার হয়ে। 

১৯৯৮-৯৯ সালে সার্বিয়ার আলবেনীয়দের নিধন নিয়েও রয়েছে বেশ কিছু ইতিহাস। তাই রাজনৈতিক কারণেই শাকিরি আর জাকার পরিবার আশ্রয় নেয় সুইজারল্যান্ডে। এমনকি কসোভোর স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ায় জাকার বাবা রাজনৈতিক বন্দী হয়ে ছিলেন।

তার জের ধরেই গোল উদযাপনে জাকা- শাকিরি দুজনেই হাত দিয়ে আলবেনিয়ান পতাকার অংশ ঈগলের মতো অঙ্গভঙ্গি করে দেখান। আর এতে করেই ক্ষেপেছে সার্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।

শুধু তাই নয়, ম্যাচে দুই পায়ে দুই দেশের পতাকা সম্বলিত বুট পরে খেলতে নেমেছিলেন শাকিরি। এটা নিয়েও ফিফার কাছে নালিশ জানিয়েছে সার্বিয়া। সেদিন শাকিরির বাঁ পায়ের বুটে সুইজারল্যান্ড ও ডান পায়ের বুটে কসোভোর পতাকা লাগানো ছিল।

এছাড়া ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সার্বিয়ান স্ট্রাইকার আলেক্সান্ডার মিত্রোভিচকে দুজন সুইস ডিফেন্ডার পেনাল্টি বক্সে অবৈধভাবে ফেলে দিলেও সেটি কেন পেনাল্টি দেয়া হয়নি, এ ব্যাপারেও ফিফার কাছে আপীল করেছে সার্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।

এই সব বিষয় নিয়ে ফিফার কাছে প্রতিবাদ পাঠানোর কথা জানিয়েছেসার্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। কোকেজা ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন জার্মান রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে। তার মতে,  কিছু সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয়েই নিয়েছেন এই রেফারি। এমনকি মিত্রোভিচের ওপর ধস্তাধস্তির বিষয়ে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রেও রেফারির ব্যর্থতা ছিল বলে মনে করেন তিনি। তাই প্রতিবাদ কথা জানিয়ে কোকেজ জানান, ‘আমরা ফিফার কাছে একটা প্রতিবাদ পাঠাবো।’