• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

সৌম্য ও ইমরুলের দলভুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশায় মাশরাফি

  • প্রকাশিত ০৫:০৯ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮
মাশরাফি বিন মর্তুজা
বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।ছবি : মোঃ মানিক/ ঢাকা ট্রিবিউন।

দুই ম্যাচ হাতে থাকায় আশা ছাড়ছেন না মাশরাফি। 

ভারতের বিরুদ্ধে হতাশাজনক পারফর্মেন্সের পরও আশা ছাড়ছেন না বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

তবে, ভারতের কাছে ৭ উইকেটের বড় পরাজয় দিয়ে সুপার ফোর শুরু করা টাইগারদের জন্য ফাইনালে খেলতে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সাথে বাকি থাকা সুপার ফোরের পরের দুই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই। তারপরও দুই ম্যাচ হাতে থাকায় আশা ছাড়ছেন না মাশরাফি। তবে তার জন্য বাংলাদেশের দরকার ইনিংসের শুরুতে একটা ভাল পার্টনারশিপ। 

ভারতের সাথে ম্যাচে ভরাডুবির সূচনাটা হয়েছিল ওপেনার লিটন দাস এবং নাজমুল হাসান শান্ত’র উইকেটের দ্রুত পতনের মধ্য দিয়ে। দৃশ্যটা আবুধাবিতে আফগানিস্তানের সাথে গ্রুপ ম্যাচেও একই ছিল।

আফগানিস্তানের সাথে লজ্জার পর মাশরাফি ভাল শুরু করার উপর জোর দিলেও ভারতের সাথে সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। তবে কি মাশরাফির পরামর্শ ঠিক মত কাজে লাগাতে পারছেন না দলের ব্যাটসম্যানরা? 

ভারতের সাথে ম্যাচের পর এ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আসলে শুরুর দিকে আমরা দ্রুতগতিতে রান করতে চাইনি। এমন নয় যে আমরা প্রথম ১০ ওভারে ৬০ রান তুলতে চেয়েছি। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো লক্ষ্য করলে দেখবেন যদি আমরা ভাল অবস্থানে থাকি তাহলেও ৪০-৪৫ রান তুলতে চেষ্টা করেছি। এমনকি ৩০-৩৫ রান হলেও আমরা খুশি। তবে, শুরুতেই উইকেট হারালে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ইনিংসটা শুরু করতে হয়। তবে সব সময়ই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যে সফল হবে, এটা সম্ভব নয়। আসলে শুরুতেই উইকেটের পতন হলে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের উপর প্রচন্ড চাপ তৈরি হয়। যেকারণে পর পর দুই ম্যাচে আমরা ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হয়েছি। তবে আমরা আগেও কামব্যাক করেছি এমন অবস্থা থেকে। তাই এখনই আশা ছাড়ার কোন কারণ নেই। ভুলগুলো চিহ্নিত করার জন্য একদিন সময়ও আমাদের হাতে রয়েছে’।

যতক্ষণে মাশরাফি নিজেদের ব্যর্থতার এই চুলচেরা বিশ্লেষণগুলো করছিলেন ততক্ষণে সবাই জেনে গেছে এশিয়া কাপের দলে ইমরুল এবং সৌম্যের ফিরে আসার খবর। তবে কিনা দলের অধিনায়কই জানতেন না সেই খবর। সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই খবর পাওয়ার পর বেশ অবাকই হন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। মাশরাফির এমন বক্তব্যে বোঝা যায় যে, ভারতের সাথে ম্যাচ চলাকালীন সময়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের টিম ম্যানেজমেন্ট। 

মাশরাফিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি অবাক হয়ে বলেন, ‘না এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমার সঙ্গে আলোচনা হয়নি। আমি স্পষ্ট কিছু জানি না’। 

যে কন্ডিশনে এত প্রস্তুতির পরও হিমশিম খাচ্ছেন দলে খেলোয়াড়েরা, সেই কন্ডিশনে হঠাৎ করে ডেকে পাঠানো দুইজন ব্যাটসম্যান কতটুকু করতে পারবেন দলের জন্য জিজ্ঞাসা করা হলে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, ‘দেখুন, তাদের পারফর্ম্যান্স ভালো ছিলোনা বলেই তারা দল থেকে বাদ পড়েছিল। আবার হঠাৎ করে এসে এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলাও কঠিন। আমি জানি না ওরা কৌশলগত কী কাজ করেছে। যে সমস্যার কারণে দল থেকে বাদ পড়েছিল ছিল, সেটা তারা ঠিক করতে পেরেছে কিনা সেটাও জানার বিষয়। তবে, ক্রিকেটে সব কিছুই সম্ভব, শুধুমাত্র যারা আসছে আর এখন যারা খেলছে সবাইকেই দলের জন্য কিছুনা কিছু অবদান রাখতে হবে’।

তবে, মাশরাফির মতই সৌম্য এবং ইমরুলের দলে সংযোজন নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন অনেকেই। বিশেষ করে যখন এই দুইজনের কেউই সাম্প্রতিক সময়ে দলে ফিরে আসার মত কোন পারফর্মেন্স দেখাতে পারেননি। তাও আবার বিসিবির হাই পারফর্মেন্স দলের হয়ে সম্পূর্ন অন্য একটি কন্ডিশনে খেলছিলেন দুইজনেই। গতকাল রাতে তারা বাসে করে ঢাকা ফিরে আজ যাবেন দুবাইয়ে। কাল খেলতে নামবেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। 

এই দুই খেলোয়াড়কে যেভাবে দলে ফেরানো হলো, তাতে করে টুর্নামেন্টে নিজেদের অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষা নিয়ে বিসিবি'র প্রবল চেষ্টা আর উৎকন্ঠাই কি প্রকাশ পেল না?