• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০০ রাত

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে বাংলাদেশের রুদ্ধশ্বাস জয়

  • প্রকাশিত ০২:২৫ রাত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮
কায়েস-মাহমুদুল্লাহ
কায়েস-মাহমুদুল্লাহ নৈপুণ্যে ২৫০ রানের টার্গেট ছিল আফগানদের সামনে। ছবি: বিসিবি

টানা চার ম্যাচ হারের পর আফগানদের বিপক্ষে জিতেছে টাইগাররা।

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আফগানিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত শেষ ওভারে পার্থক্য গড়ে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। দারুণ জয় পেয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল টাইগাররা।

নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে করেছে ২৪৯ রান। জয়ের জন্য বোলিংয়ে ভালো একটা শুরু দরকার ছিল টাইগারদের। মোস্তাফিজের সৌজন্যে সেটি পেয়েছিল বাংলাদেশ। নিজের প্রথম বলেই তিনি ফিরিয়েছেন ইহসানউল্লাহকে। তার বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে আফগান ব্যাটসম্যান ৮ রান করে পয়েন্টে ধরা পড়েন নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। এদিকে বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় উইকেটটি নেন রান সাকিব আল হাসান। দুর্দান্ত থ্রোতে আফগান ব্যাটসম্যান রহমত শাহকে রান আউট করে সাজঘরে ফেরান তিনি।

আফগান শিবির ২৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দলের হয়ে প্রতিরোধ গড়েন মোহাম্মদ শাহজাদ। হাসমতউল্লাহ শহীদীকে নিয়ে ৬৩ রানের জুটি গড়ে তুলেন তিনি। এ সময় কিছুটা বিপাকেই পড়ে গিয়েছিলেন টাইগাররা। ৭৩ বলের মাথায় নিজের ১৩তম ফিফটিও তুলে নেন তিনি। 

দলের এরকম একটি সময়ে মাহমুদউল্লাহ’র হাতে বল দেন মাশরাফি। আর চতুর্থ বলেই শাহজাদকে বোল্ড করেন মাহমুদউল্লাহ। তার স্পিনে উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়েছিলেন আফগান ওপেনার। কিন্তু তার লেগ স্টাম্প ভেঙে দেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। ৮১ বলে ৮ চারে ৫৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন শাহজাদ। তবে সে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, হাসমতউল্লাহ শহীদীর হাফসেঞ্চুরিতে আবারও চাপের সম্মুখীন হন টাইগাররা।

এই টুর্নামেন্টে হাসমতউল্লাহ টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি করেন ৮০ বলে ৩টি চারে। এদিকে মাঠে তার সঙ্গে ছিলেন অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাই। দু’জনে মিলে ৭৮ রানের জুঁটি গড়ে তুললেও, আসগর স্ট্যানিকজাইয়ের উইকেট তুলে নেওয়ার মাধ্যমে তা ভেঙে দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা

৪০ ওভার শেষে আফগানিস্তানের স্কোর তখন ১৬৯/৪। ক্রিজে হাশমতউল্লাহ শাহিদির সঙ্গী মোহাম্মদ নবি। জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে ৮১ রান প্রয়োজন তাদের। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর রানের জন্য নিচ্ছিলেন বাড়তি ঝুঁকি হাশমতউল্লাহ। সেটাই কাল হয়ে দাঁড়াল তার জন্য, বোল্ড হয়ে গেলেন মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে। বাংলাদেশ অধিনায়কের স্লোয়ার সরে গিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন হাশমতউল্লাহ। ব্যাটে খেলতে পারেননি, প্যাডে লেগে আঘাত হানে স্টাম্পে। থিতু ব্যাটসম্যানকে হারায় আফগানিস্তান।

৪৪ ওভার শেষে আফগানিস্তানের স্কোর তখন ১৯৩/৫। ক্রিজে মোহাম্মদ নবির সঙ্গী সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। জয়ের জন্য আফগানদের শেষ ৬ ওভারে প্রয়োজন ৫৭ রান। ৪৫ ওভার শেষে আফগানিস্তানের স্কোর দাঁড়িয়েছিল ১৯৯/৫। মোহাম্মদ নবি ১৪ ও সামিউল্লাহ ৭ রানে ব্যাট করছেন তখন। 

শেষ দুই ওভারে আফগানদের প্রয়োজন ১৯ রান। সাকিব আল হাসানকে ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণটা সহজ করে দিলেন মোহাম্মদ নবি। পরের বলে একই চেষ্টা করতে গিয়ে ফিরলেন নাজমুল হোসেন শান্তর দারুণ ক্যাচে। ২৮ বলে ৩৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন নবি। ৪৮.৩ ওভারে তার বিদায়ের সময় আফগানিস্তানের স্কোর ছিল ২৩৮/৬। ক্রিজে সামিউল্লাহ শেনওয়ারির সঙ্গী রশিদ খান।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন কেবল ৮ রান। প্রথম বলে এলো দুই রান। মুস্তাফিজুর রহমানের পরের বলে চড়াও হতে গেলেন রশিদ খান। দুই দলের আগের ম্যাচে ফিফটি পাওয়া টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান এবার ফিরলেন দ্রুত। ফিরতি ক্যাচে দলকে আরেকটি উইকেট এনে দিলেন মুস্তাফিজ।

৪ বলে ৫ রান করে ফিরেন রশিদ। জয়ের জন্য শেষ ৪ বলে আফগানিস্তানের প্রয়োজন মাত্র ৬ রান। পরের তিন বল থেকে আফগানরা নিতে পারল কেবল ২ রান। জয়ের জন্য শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৪ রান। মুস্তাফিজ সেই বলটি ডট খেলালেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারিকে। 

স্নায়ু চাপ ধরে রেখে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩ রানে জিতল বাংলাদেশ। দুই সংস্করণ মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ হারের পর আফগানদের বিপক্ষে জিতল টাইগাররা।


আরও পড়ুন : কায়েস-মাহমুদুল্লাহ নৈপুণ্যে ২৫০ রানের টার্গেট আফগানদের সামনে