• শুক্রবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৩ রাত

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ: লড়াই করেও বাংলাদেশের বিদায়

  • প্রকাশিত ০৮:৪৪ রাত অক্টোবর ১০, ২০১৮
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ সেমিফাইনাল
বীরের মত লড়াই করেও ২-০ গোলে হেরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: মোঃ মানিক/ ঢাকা ট্রিবিউন।

কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিন স্টেডিয়ামে বৃষ্টিস্নাত এই খেলায় জয়ের মাধ্যমে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী প্যালেস্টাইন

শক্তি ও সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে থাকা প্যালেস্টাইনের সাথে বীরের মত লড়াই করেও ২-০ গোলে হেরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিন স্টেডিয়ামে বৃষ্টিস্নাত এই খেলায় জয়ের মাধ্যমে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী প্যালেস্টাইন। আগামী শুক্রবার ফাইনালে তারা তাজিকিস্তানের মুখোমুখি হবে।

আগের খেলার ফর্মেশন পরিবর্তন করে সেমিফাইনালে ৪-১-৪-১ ফর্মেশন নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। একাদশে ৪টি পরিবর্তন আনে তারা। বাদ পড়েন গত ম্যাচে খেলা ডিফেন্ডার রহমত মিয়া ও সুশান্ত ত্রিপুরা এবং ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ ও রবিউল হাসান। আগের ম্যাচে বিশ্রাম পাওয়া ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সাল ও বিশ্বনাথ ঘোষ, মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া এবং ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল দলে ফেরেন এই ম্যাচে। অন্যদিকে, ৮টি পরিবর্তন এনে খেলতে নামে প্যালেস্টাইন।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের থেকে উচ্চতা বেশী হবার কারণে সেটপিসগুলোতে বাংলাদেশের রক্ষনভাগ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে, '৮ মিনিটে সেটপিস থেকে সহজেই হেড থেকে গোল করেন বালাহ। দুই মিনিট পর প্যালেস্টাইনের জোনাথন জরিল্লার কর্নার থেকে আব্দাল লতিফের হেড ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে।

পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ আপ্রাণ চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। '১৩ মিনিটে মাশুক মিয়া জনির জোরালো শট ফিরিয়ে দেন প্যালেস্টাইনের গোলকিপার। '২১ মিনিটে সুফিলের শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার মুসাব বাত্তাত ঠেকিয়ে দেন। বিরতির ঠিক আগে আরও দুটো সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। প্রথমবার ওয়ালীর ক্রসে জীবন কানেক্ট করতে পারেননি। পরেরবার সুফিলের পাস থেকে জীবনেরই কোনাকুনি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধে, বাংলাদেশের কাউন্টার অ্যাটাক প্রতিহত করতে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করে প্যালেস্টাইন। এতে বাংলদেশের স্ত্রাইকারদের জন্য কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়। তবে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সমতাসূচক গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যায়। '৫৮ মিনিটে বিশ্বনাথের চিপ থেকে জীবন হেড করতে পারেননি। এরপর টানা তিনটি কর্নার পেলেও গোলের দেখা মেলেনি বাংলাদেশ ফুটবল দলের। গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানাও বাঁচিয়ে দিয়েছেন স্বাগতিকদের। প্যালেস্টাইনের ওদেই দাব্বাঘ ও খালেদ সালেমের দুটো জোরালো শট  ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি। '৮৮ মিনিটে বিপক্ষের বাতরান ইসলামের একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অতিরিক্ত সময়ে বাংলাদেশ পর পর দুটি কর্নার পেয়ে আশা জাগালেও কাজ হয়নি শেষ পর্যন্ত। এরপর ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা সামেহ মারাবার দারুণ ভলিতে গোল করলে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

তবে হারলেও, পুরো ম্যাচেই দারুণ লড়াকু মনোভাব নিয়ে খেলার জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। এমনকি, প্রতিপক্ষ প্যালেস্টাইনের কোচ নুরুদ্দীন ওউলদ আলীর মুখেও তাদের জন্য প্রশংসা। তিনি বাংলাদেশের এই পরাজয় কে দূর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন।  

এদিকে, স্বাগতিক দলের ধীরগতির শুরুর কারণে শুরুতেই সেটপিস থেকে গোল হজম করলেও কোচ জেমি ডে হারার কারণ হিসেবে গোলের সুযোগ নষ্ট করারকেই দায়ী করেছেন।