• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

২০০ ডিসমিসালের অনন্য মাইলফলকে মুশফিক

  • প্রকাশিত ০১:২৯ রাত অক্টোবর ২৫, ২০১৮
মুশফিকুর রহিম
বুধাবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে উইকেট-কিপিং করছেন মুশফিকুর রহিম। ছবি: মোঃ মানিক/ ঢাকা ট্রিবিউন।

তার আগে ২০০ ডিসমিসালের এই বিরল কৃতিত্ব আছে মাত্র ১০জন ক্রিকেটারের

প্রথম বাংলাদেশী উইকেটরক্ষক হিসেবে ২০০ ডিসমিসালের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুশফিকুর রহিম। বুধবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের ২য় ম্যাচে এই অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। 

এই ম্যাচ খেলতে নামার আগপর্যন্ত ১৯৩ টি ম্যাচে ১৯৮ টি ডিসমিসালের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছিলেন মুশি। সাইফুদ্দিনের ব্যক্তিগত ৫ম ওভারে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ক্যাচ লুফে নিজের নামের পাশে ডিসমিসালের সংখ্যাটা ১৯৯-এ নিয়ে যান বাংলাদেশী এই উইকেট রক্ষক।

তারপর অবশ্য মুশফিককে এই মাইলফলক অর্জন করার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও ৩০ ওভার। অবশেষে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ৩৮তম ওভারে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। সাইফুদ্দিনের বল মোকাবেলা করতে গিয়ে মুশফিকুরের গ্লাভসবন্দী হন শন উইলিয়ামস। 

এরপর ৪৬তম ওভারে আরও একটি ডিসমিসাল করেছেন এই টাইগার। এবার তার শিকার ভয়ংকর হয়ে ওঠা সিকান্দার রাজা। 

এই কৃতিত্ব অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মুশফিক। নিজেকে এক বিরল ক্রিকেট গ্রেটদের কাতারে নিয়ে গেছেন তিনি। কেননা, তার আগে ২০০ ডিসমিসালের এই বিরল কৃতিত্ব আছে মাত্র ১০জন ক্রিকেটারের। 

ক্রিকেট ইতিহাসের ১১ তম উইকেটরক্ষক হিসেবে এই মাইলফলক অর্জনের পথে তিনি ১৫৯ বার কট বিহাইন্ড করেছেন এবং ৪২বার স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেছেন প্রতিপক্ষকে।

এই তালিকায় মুশফিকুর রহিমের ঠিক উপরেই আছেন বিরল এই ক্রিকেট ক্লাবের দীর্ঘদিনের সদস্য ২০৪টি ডিসমিসালের অধিকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপজয়ী উইকেটরক্ষক জেফ ডুজন এবং ২০৬ ডিসমিসাল শিকারি শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী উইকেটরক্ষক রমেশ কালুভিতারানা।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে হারারেতে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই মুশফিকুর রহিমের ওয়ানডে অভিষেক হলেও তৎকালীন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক এবং দেশসেরা উইকেটরক্ষক খালেদ মাসুদের অবসরের আগে তিনি গ্লাভস সামলানোর তেমন সুযোগ পাননি।

তবে, নিজের ক্যরিয়ারের ২য় ওয়ানডেতেই এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান মুশফিকুর রহিম। জিম্বাবুয়েতে অভিষেক সিরিজের ফিরতি সিরিজের ৪র্থ ম্যাচে এই সুযোগ পান তিনি। 

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঐ ম্যাচে ইনিংসের ৫ম ওভারে মাশরাফির বলে চামু চিবাবার ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করার মাধ্যমে ক্যারিয়ারের প্রথম ডিসমিসালের স্বাদ পান মুশি।   

পরে ইনিংসের ২০ তম ওভারে ব্র্যান্ডন টেইলরকে স্টাম্পিং করার মাধ্যমে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত স্টাম্পিং এর স্বাদ গ্রহণ করেন।  

তবে, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান ওই দুই ম্যাচের প্রতিটিতেই বাংলাদেশের ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করায় ব্যাট করা সুযোগ পাননি।  

এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারা। ৪০৪ ম্যাচে ৪৮২ টি ডিসমিসালের এক অবিশ্বাস্য রেকর্ডের মালিক তিনি।  এছাড়াও এই তালিকায় অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মার্ক বাউচার, মহেন্দ্র সিং ধোনির মত খ্যাতনামা সব ক্রিকেটারদের নাম রয়েছে।