• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১১ দুপুর

জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করলো টাইগাররা

  • প্রকাশিত ০১:৫৩ দুপুর অক্টোবর ২৭, ২০১৮
সৌম্য সরকার
সেঞ্চুরির পথে শট খেলছেন সৌম্য সরকার। ছবি: মোঃ মানিক/ ঢাকা ট্রিবিউন।

দারুণ ছন্দে থাকা ওপেনার ইমরুল কায়েস(১১৫) এবং ৩ নম্বরে ব্যাট করতে নামা সৌম্য সরকারের (১১৭) অনবদ্য সেঞ্চুরিতে হেসেখেলেই জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে টীম মাশরাফি

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে দাপুটে ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ৩-০ তে জিম্বাবুয়েকে আরেকবার হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। 

দারুণ ছন্দে থাকা ওপেনার ইমরুল কায়েস(১১৫) এবং ৩ নম্বরে ব্যাট করতে নামা সৌম্য সরকারের (১১৭) অনবদ্য সেঞ্চুরিতে হেসেখেলেই জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে টীম মাশরাফি। ২৮৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ৪২.১ ওভারে ৭  উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙ্গর করে বাংলাদেশ।

তবে শুরুটা ভালোই করেছিল জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই ডানহাতি পেসার কাইল জার্ভিস ওপেনার লিটন দাসকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। এরপর ক্রিজে আসেন হঠাৎ করেই দলে ডাক পাওয়া সৌম্য এবং তিনি ক্রিজে আসার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে ম্যাচের চিত্র। ইমরুল কায়েস এবং সৌম্য সরকারের দাপুটে ব্যাটিংয়ে অসহায় হয়ে পড়েন জিম্বাবুয়ের বোলাররা।

এই দু'জন মিলে ২য় উইকেটে ২২০ রানের জুটি গড়ে ভেঙেছেন সাকিব এবং তামিমের করা ২০৭ রানের ২য় উইকেট জুটির রেকর্ড। এই দুইজনের ব্যাটিং তান্ডবে অসহায় জিম্বাবুইয়ান বোলাররা কি করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। দুইজনই কোন চাপ ছাড়াই অনায়াসে রান তুলেছেন।


ইমরুল সৌম্যের আগেই নিজের ফিফটি পূরণ করেন। তবে, এরপরই সৌম্য তার ব্যাটে ঝড় তোলেন এবং ইমরুলের আগেই শতকে পৌছে যান। শতক পূরণ করতে তিনি খেলেছেন মাত্র ৮১ বল। পরে মাত্র ৯২ বলে ৯ টি চার এবং ৬ টি ছয়ে ১১৭ রানে আউট জন সৌম্য। এরপর ইমরুলও নিজের শতক পূরণ করেন।

ইমরুলের সামনে ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের বাবর আজমের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড (৩৬০ রান) ভাঙার সুযোগ থাকলেও ইনিংসের ৪০ তম ওভারে ব্যক্তিগত ১১৫ রানে আউট হন তিনি। এই সিরিজের তিন ম্যাচে যথাক্রমে ১৪৪, ৯০ এবং ১১৫ রান করেছেন ইমরুল। এর ফলে বাবরের রেকর্ড থেকে মাত্র ১১ রান দূরে থেকেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ইমরুল কায়েসকে।


এরপর মিডলর্ডারে ব্যাট করতে নেমে মুশফিক এবনং মিঠুন ৪৭ বল হাতে রেখেই বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

এর আগে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনে খেলতে নামে টাইগাররা। দলে অন্তর্ভুক্ত হন সৌম্য সরকার, আবু হায়দার রনি এবং আরিফুল হক। বিশ্রাম দেওয়া হয় মেহেদি হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং ফজলে মাহমুদকে।

শুরুতেই বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন পেসার সাইফুদ্দিন। তিনি ইনিংসের ২য় ওভারেই জিম্বাবুইয়ান ওপেনার সিফাস জুওয়াওকে ফিরিয়ে দেন। পরের ওভারেই জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক মাসাকাদজাকে ফেরান পেসার আবু হায়দার রনি। চাপের মুখে ধুকতে থাকা জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৫ ওভারে ৭ রান ২ উইকেটের বিনিময়ে। তবে, এর পরে অভিজ্ঞ ব্র্যান্ডন এইলর এবং শন উইলিয়ামসের অনবদ্য ১৩২ রানের জুটিতে চাপমুক্ত হয় জিম্বাবুয়ে।

টেইলর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুতগতিতে তার অর্ধশতক পূরণ করেন। ৭৩ বলে ৭৫ রান করে আউট হবার আগে জিম্বাবুয়েকে একটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেন তিনি। টেইলর আউট হলেও অপরাজিত থেকে সেঞ্চুরি তুলে নেন উইলিয়ামস। তার ১৪৩ বলে অপরাজিত ১২৯ রানের ইনিংসের উপর ভর করে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮৬ রানের বড় স্কোর পায় জিম্বাবুয়ে। এই দুইজন ছাড়াও জিম্বাবুয়ের পক্ষে সিকান্দার রাজা ৪০ এবং পিটার মুর অপরাজিত ২৮ রান করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে স্পিনার নাজমুল হোসেন নেন ২ উইকেট এবং সাইফুদ্দিন ও রনি ১ টি করে উইকেট নেন।

ম্যাচ শেষে সৌম্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ ঘোষিত হন। ইমরুল তুলে নেন ম্যান অব সিরিজের পুরষ্কার।

স্কোর                                           

বাংলাদেশ -   ২৮৮/৩, ৪২.১ ওভার (সৌম্য ১১৭, ইমরুল ১১৫)

জিম্বাবুয়ে -    ২৮৬/৫, ৫০ ওভার (উইলিয়ামস ১২৯*, টেইলর ৭৫)

ফল    -   বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী