• বুধবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৫ রাত

১৪৩ রানে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ

  • প্রকাশিত ০৪:৫৯ বিকেল নভেম্বর ৪, ২০১৮
ছবি : এএফপি
ছবি : এএফপি

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ দলকে আরও চাপে ফেলে যান। নেমে মাত্র দুই বল খেলে চাতারার বলেই বোল্ড ফিরে গেছেন শূন্য রানে! এরপর ফেরেন মমিনুল হক। ১১ রানেই মাসাকাদাজার বলে সিকান্দার রাজার তালুবন্দি হন তিনি।

সিলেটে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে বলতে গেলে একরকম বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে নিজেদের প্রথম ইনিংস শুরু করে ১৪৩ রানেই গুটিয়ে গিয়েছে রানের খাতা।  

শুরুতে চতুর্থ ওভারে চাতারার বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ইমরুল কায়েস (৫)। পরের শিকার আরেক ওপেনার লিটন ‍কুমার দাস (৯)।  জার্ভিতের উইকেট কিপার চাকাভার হাতে বল তুলে দেন তিনি। ক্রিজে নেমে দাঁড়াতে পারেননি নাজমুলও (৫)। চাতারার বল শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারায় ব্যাটের কোনায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপারের হাতে। 

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ দলকে আরও চাপে ফেলে যান। নেমে মাত্র দুই বল খেলে চাতারার বলেই বোল্ড ফিরে গেছেন শূন্য রানে! এরপর ফেরেন মমিনুল হক। ১১ রানেই মাসাকাদাজার বলে সিকান্দার রাজার তালুবন্দি হন তিনি।

বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়ার বাংলাদেশের ইনিংসের মুশফিকুর রহিম ও আরিফুল হক জুটিতে নির্ভর করছিলো অনেক কিছু। কিন্তু জুটির ২৫ রান পার হওয়ার পর কাইল জার্ভিসের লাফিয়ে ওঠা বলে আউট সাইড এজ হয়ে ৩১ রানে গ্লাভসবন্দী হন। 

এরপর নতুন নামা মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গী করে আরিফুল পার করেন শত রান। তবে ২১ রানে ব্যাট করতে থাকা মিরাজ শন উইলিয়ামসের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে।  আর দাঁড়াতে পারেননি কেউ। সিকান্দারের হাতেই শিকার হন তাইজুল ও নাজমুল। তাদের দুজনের সংগ্রহ ৮ ও ৪। আর রানের খাতা না খুলেই রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন আবু জায়েদ। 

এর আগে টেস্টে্র দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বেশ ভালোই প্রতিরোধ শুরু করেছিলপিজে মুর ও রেজিস চাকাভা। কিন্তু ১০৩তম ওভারে তাইজুলের বলেই অবশেষে ২৮ রানেধরা দেন রেজিস চাকাভা। শর্ট লেগে ক্যাচ তুলে দেন নাজমুলের হাতে।

এর পরই আবারও তাইজুল ঝড়। তার বলেই উইকেটরক্ষক মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেনওয়েলিংটন মাসাকাদজা। তার সংগ্রহ ৪ রান।গতকালও দিনের প্রথম দুই উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ে শিকার শুরু করেন তাইজুল।

তবে অপর প্রান্ত আগলে ছিলেন পিজে মুর। দৃঢ় চেতা ব্যাটিংয়ের উদাহরণ হয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। অপরাজিত ছিলেন ৬৩ রানে। চার মেরে তাইজুলের ওভারে চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি।

এরপর স্পিনার নাজমুল ইসলামের আঘাতে ব্রেন্ডন মাভুতা। ৩ রান করা মাভুতাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাজমুল। দিনের শুরুটায় ঘূর্ণিজাদুতে শুরু করা তাইজুল শেষটাও পর পর দুই উইকেট নিয়ে। কাইল জার্ভিসকে প্রথম স্লিপে তালুবন্দী করিয়ে পরের বলে সাজঘরে ফেরান চাতারাকে। ২৮২ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস।  

প্রথম দিনেখেলা শুরু পর তাইজুল ইসলামের স্পিন জাদুতে ১১ ওভারের মাথায় বোল্ড হন ব্রায়ান চারি। তিনি করেছেন ৩১ বলে ১৩ রান। এর মধ্যে রয়েছে দুটি চারের মার। এর পর আবারো ওঠে তাইজুল ঝড়। তার বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ব্রেন্ডন টেলর। তার সংগ্রহ ১৫ বলে ছয় রান। 

সঙ্গী চারি ও টেলরকে হারানোর পর হাল ধরেছিলেন মাসাকাদজা। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দলটির অধিনায়ক পূরণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফসেঞ্চুরি। তবে আবু জায়েদ রাহীর বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ৫২ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন মাসকাদাজা।

এরপর ৪৮ ওভারের মাথায় সিকান্দার রাজাকে বোল্ড করেন নাজমুল। ৫২ বল খেলে ১৯ রান করেন রাজা। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম শিকারটি করার পর ‘নাগিন ডান্সে’ দর্শক মাতাতে ভোলেননি নাজমুল। টেস্টেএই ম্যাচেঅভিষেক হয়েছে হয়েছে অলরাউন্ডার আরিফুল হকেরও।

দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন উইলিয়ামস। ১৭৩ বলে ৮৮ রান করেন তিনি। তবে সেঞ্চুরি দেখার আগেই মাহমুদউল্লাহের বলে মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় তার।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন দাস, ইমরুল কায়েস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আবু জায়েদ।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান চারি, ব্রেন্ডন টেলর, শন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, রেগিস চাকাভা (উইকেটরক্ষক), ব্র্যান্ডন মাভুতা, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, কাইল জার্ভিস, টেন্ডাই চাতারা।