• বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ রাত

ইয়াবা কেলেঙ্কারির জেরে বাদ পড়লেন দিদার বলী

  • প্রকাশিত ০৫:৩৭ সন্ধ্যা এপ্রিল ৩০, ২০১৯
দিদার বলি
সংবাদ সম্মেলনে দিদার বলি। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

তিনি বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার, আমি খেলতে চাই। আমি কোনওদিন ইয়াবা সেবন করিনি এবং ইয়াবা কারবারের সঙ্গেও জড়িত ছিলাম না।’

ইয়াবা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে খেলা থেকে বাদ পড়েছেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ‘বলী’ খেলার রেকর্ড সংখ্যকবারের চ্যাম্পিয়ন দিদার আলম ওরফে দিদার বলী। কিন্তু নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন তিনি।

দিদারের দাবি, ২০১৮ সালে ২৮ জুন তিন বন্ধুর সঙ্গে ময়মনসিংহে গিয়ে গাড়ি ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন তিনি। কিন্তু গাড়ি ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে ৮০টি ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। ঘটনার ১১ দিন পর থেকে জেল থেকে ছাড়া পান দিদার।

এদিকে, ঘটনাটি পৌঁছে যায় দিদারের সঙ্গে পূর্বশত্রুতা থাকা চট্টগ্রামে কর্মরত এক আত্মীয়ের কানে। পেশায় সাংবাদিক ওই আত্মীয় বিষয়টি নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রতিবেদন পরিবেশন করলে ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’ হিসেবে তার দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ে। মূলতঃ এ কারণেই এবার ‘কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলী খেলা’ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, জানান দিদার।

গত ২২ মে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার, আমি খেলতে চাই। আমি কোনওদিন ইয়াবা সেবন করিনি এবং ইয়াবা কারবারের সঙ্গেও জড়িত ছিলাম না। ইয়াবাসহ আটকের ওই ঘটনাটি ছিলো সাজানো। ময়মনসিংহের একটি গাড়ি ছিনতাইয়ের সিন্ডিকেট আমাদের ফাঁসিয়ে দিয়েছিলেন। আমি আমার অতীত-বর্তমান- কোনওদিন, কোনও সময়, কোনও ধরনের মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।’’ 

আাগামী ৩ ও ৪ মে অনুষ্ঠিতব্য কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলী খেলা থেকে বাদ পড়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন দিদার। 

সেখানে তিনি জানান, এলাকার মসজিদ পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চট্টগ্রামে কর্মরত এলাকার (আত্মীয়) এক সাংবাদিক পরিবারের সঙ্গে তার মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। 

কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলী খেলা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে দিদার বলেন, ‘‘প্রতিপক্ষ সাংবাদিকের ষড়যন্ত্রের কারণে অনেকভাবে ভুক্তভোগী হয়েছি। কিন্তু আমার দীর্ঘ ১৮ বছরের অর্জন এবং আমাদের প্রাণের চেয়ে অধিক দামী বলী খেলা থেকে আমাকে বঞ্চিত করবেন না। আমি নির্দোষ, কোনওভাবেই আমি ইয়াবাসহ কোনও মাদকের ব্যবসা ও সেবনে জড়িত নই। আপনারা যেকোনো ভাবে তার তদন্ত করুন। আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলে শুধু বঞ্চিত করা নয়; আমাকে ফাঁসি দিন। প্লিজ ষড়যন্ত্রকারীর মনগড়া সংবাদের ওপর ভিত্তি করে খেলা থেকে আমাকে বঞ্চিত করবেন না।’’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ ও ৪ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলী খেলা’ নিয়ে গত ১৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে এবারের খেলায় দিদার বলীকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এতে সম্মতি জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন তাকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

প্রসঙ্গত, দিদার বলী ‘কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলী খেলা’র ১৫ বার একক চ্যাম্পিয়ন এবং তিনবারের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। একইভাবে দেশের আলোচিত ‘চট্টগ্রামের জব্বারের বলী খেলা’র ১২ বারের একক ও তিনবারের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। 

গত বছর ময়মনসিংহে ইয়াবা নিয়ে তিন সহযোগীসহ ধরা পড়েছিলেন বাংলাদেশের ‘শ্রেষ্ঠ বলী’খ্যাত রামুর এই বলী খেলোয়াড়। ঘটনাটি সেসময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।