• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৮ সন্ধ্যা

দেজা ভ্যু দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান!

  • প্রকাশিত ০৯:০৮ রাত জুন ২৬, ২০১৯
পাকিস্তান
বিশ্বকাপ জিতে ইমরান খানদের উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

দলের না হলেও সেই ইমরান খানই কিন্তু পাকিস্তানের নেতৃ্ত্ব দিচ্ছেন, মিলেও যাচ্ছে দুয়ে দুয়ে চার। তাই ক্রিকেট বোদ্ধাদের মধ্যে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন, পাকিস্তানই বিশ্বকাপ পেতে যাচ্ছে!

ক্রিকেট বিশ্বে পাকিস্তান দলটিকে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বলে অভিহিত করা হয়। কারণ দলটি কখন কি অঘটন ঘটিয়ে বসে আগে থেকে কিছুই অনুমান করা সম্ভব হয় না। দেখাগেছে, কোনো একটি ম্যাচ হারতে হারতে একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। আবার নিশ্চিত জিতে যাওয়া ম্যাচ খুব বাজেভাবে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার রেকর্ডও কম নয়। কিন্তু তাই বলে কেউই নিশ্চয় ভাবছেন না, এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা পাকিস্তানই ছিনিয়ে নিতে পারে? বিষয়টি ধাক্কা খাওয়ার মতো হলেও সত্য যে, পাকিস্তানই এবারের শিরোপা জয়লাভ করছে, এমন জল্পনা-কল্পনা এরইমধ্যে শুরু হয়েছে!

ক্রিকেট ভক্তদের নিশ্চয় মনে আছে, ১৯৯২ সালে সঠিক দিকনির্দেশনা আর কি দুর্দান্ত পারফম্যান্সে বিশ্বকাপটি জিতে নিয়েছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক ইমরান খান। দলের না হলেও সেই ইমরান খানই কিন্তু পাকিস্তানের নেতৃ্ত্ব দিচ্ছেন, মিলেও যাচ্ছে দুয়ে দুয়ে চার। তাই ক্রিকেট বোদ্ধাদের মধ্যে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন, পাকিস্তানই বিশ্বকাপ পেতে যাচ্ছে! 

এবার বিষয়টা একটু খোলাসা করা যাক। ১৯৯২ সালে পাকিস্তান যেভাবে বিশ্বকাপ জিতেছিল, কাকতালীয়ভাবে এবার ঠিক সেভাবেই এগোচ্ছে। সেবারের বিশ্বকাপে ৯টি দল অংশ নিয়ে প্রত্যেকটি দলের সঙ্গে প্রত্যেকের মুখোমুখি হয়েছিল এবং শীর্ষ চার পয়েন্টধারী দল সেমিফাইনালে উঠেছিল। 

২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ১০টি দল অংশ নিয়েছে। প্রত্যেকটি দল প্রত্যেকটি দলের মুখোমুখি হচ্ছে এবং শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। 

১৯৯২ সালে আইসিসি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, প্রতি ইনিংসে দুটি নতুন বল দিয়ে খেলা হবে। এবাবের বিশ্বকাপেও প্রতি ইনিংসে দুটি নতুন বল দিয়ে খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের খেলার সঙ্গে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের খেলার সবচেয়ে মজার বিষয় এবং আশ্চর্য মিল হচ্ছে- ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তান প্রথম ছয়টি ম্যাচের প্রথমটিতে হার, দ্বিতীয়টিতে জয়, তৃতীয়টিতে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত, চতুর্থটিতে হার, পঞ্চমটিতে হার এবং ষষ্ঠ ম্যাচে জয়লাভ করে। 

২০১৯ সালের বিশ্বকাপের প্রথম ছয়টি ম্যাচের প্রথমটিতে হার, দ্বিতীয়টিতে জয়, তৃতীয়টিতে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত, চতুর্থটিতে হার, পঞ্চমটিতে হার এবং ষষ্ঠ ম্যাচে জয়লাভ করেছে। 

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল এবং হেরেছিল। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান এবং একইভাবে হেরেছে। 

১৯৯২ ও ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সমীকরণ। ছবি: ক্রিকইনফো

সেবারের বিশ্বকাপে অপরাজিত নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাটিতেই সাত উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে গিয়েছিল ইমরান খানের দল। ২০১৯ এর বিশ্বকাপেও পাকিস্তান তাদের সপ্তম ম্যাচে অপরাজিত নিউজিল্যান্ডকে পেয়েছে।  

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে তারকা হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেছিলেন সে সময়ের তরুণ ক্রিকেটার ইনজামাম-উল-হক। মজার বিষয় হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলে রয়েছেন ইনজামাম-উল-হকের ভাজিতা। 

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের ষষ্ঠ ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সোহাইল (আমির)। এবারের বিশ্বকাপের ষষ্ঠ ম্যাচেও ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সোহাইল (হারিস)।    

১৯৯২ সালের আগে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। ২০১৯ সালের আগের দুটি বিশ্বকাপও জিতেছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া।  

এ ছাড়া পাকিস্তানের রাজনীতিতে ১৯৯২ সালে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও তার স্ত্রী বেনজির ভুট্টো জেলে ছিলেন। ২০১৯ সালেও আসিফ আলী জারদারি আবারও কারাবন্দী রয়েছেন।   

১৯৯২ সালে দুনিয়া কাপাঁনো সিনেমা আলাদীন মুক্তি পায়। ২০১৯ সালে এসেও আলাদীন সিনেমার পরের সিক্যুয়াল বের হয়েছে।

তবে এতকিছু হিসেবের পরও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপটি পাকিস্তান পাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে দেশটির সাবেক ক্রিকেটার আজাহার মাহমুদ ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। 

তিনি বলেন, আমরা যদি ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ এবং এবারের বিশ্বকাপের দিকে তাকাই, দুটোর মধ্যে বেশকিছু মিল রয়েছে। তবে আমরা তেমনটা ভাবছি না। আপনি যদি ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের দিকে তাকান আমরা যে পরিস্থিতিতে রয়েছি, অস্ট্রেলিয়া সেই পরিস্থিতিতেই ছিল। তারা যদি একটি ম্যাচেও হেরে যেত তাহলে তারা ছিটকে পড়ত, আমরাও ঠিক সেই অবস্থায় রয়েছি। আসলে আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই ফাইনাল ম্যাচ, আমরা সেভাবেই দেখছি। আমরা জানি, আমরা যদি কোনো একটি ম্যাচেও খারাপ খেলি তবে আমরা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ব। 

এটাতো গেল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। তাহলে সরফরাজরা কি পারবেন ইমরান খানদের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে?