• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

সাকিবের সঙ্গে জুয়াড়ির যেসব কথা হয়েছিল

  • প্রকাশিত ০৩:৩৬ বিকেল অক্টোবর ৩০, ২০১৯
সাকিব আল হাসান
মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান। ঢাকা ট্রিবিউন

সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধও করেন আগারওয়াল

জুয়াড়ির ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব গোপন করায় সাকিব আল হাসানকে দুইবছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করায় এই সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।  

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র খবরে বলা হয়, আইসিসি সাকিবের শাস্তি সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশি অল-রাউন্ডারের অপরাধের ধরণ এবং ঘটনাপ্রবাহ ব্যাখ্যা করেছে।

বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, ২০১৭ সালে সাকিবের সঙ্গে দিপক আগারওয়াল নামের ওই জুয়াড়ি যখন যোগাযোগ করেন তার আগেই সাকিব জানতেন যে আগারওয়ালের কাছে তার ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে।

সে সময় সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দেখা করার অনুরোধও করেন আগারওয়াল। পাশাপাশি, তিনি সাকিবের কাছে আরও কিছু ক্রিকেটারের ফোন নম্বর জানতে চান।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে ত্রিদেশীয় সিরিজের বিষয়েও আগারওয়াল ও সাকিবের মধ্যে আবারও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু হয়। সেবছর ১৯ জানুয়ারি একটি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য আগারওয়াল সাকিবকে অভিনন্দন জানান।

অপর আরেকটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় সাকিবকে তিনি প্রশ্ন করেন, "আমরা কি কাজ করছি? নাকি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো?" এখানে কাজ বলতে সাকিবের কাছে দলের ভেতরের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে বলে মনে করে আইসিসি।

এরপর সাকিবকে আরও একটি বার্তা পাঠান আগারওয়াল। বার্তাটি এরকম, "ভাই, এই সিরিজে কোনো কিছু আছে?" সাকিবের প্রধান অপরাধ এসব তথ্য তিনি আইসিসি বা বিসিবির কাছে রিপোর্ট করেননি।

২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সাকিব হায়দ্রাবাদ সানরাইজার্সের হয়ে মাঠে নামেন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে। সেসময় সাকিবের কাছে ‘নির্দিষ্ট’ কোনো ক্রিকেটার খেলছেন কিনা সেটা জানতে চান আগারওয়াল।

সংস্থাটিকে দেওয়া সাকিবের সাক্ষাৎকারে এটা নিশ্চিত করে যে, সাকিব এসব প্রস্তাবের কোনোটিতেই সায় দেননি। 

আইসিসি বলছে, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাকিবকে তিনবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কোনোবারই সাকিব সে কথা আইসিসি’কে জানাননি। চলতিবছরের ২৯ জানুয়ারি ও ২৭ আগস্ট সাকিবের সাক্ষাৎকার নেয় আইসিসি।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব আসার সঙ্গে সঙ্গে তা আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানাতে হয়। তা না হলে হতে পারে ছয় মাস থেকে পাঁচবছরের নিষেধাজ্ঞা। সাকিবকে দুইবছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ার জন্য একবছরের শাস্তি স্থগিত করা হয়।