• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ রাত

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত ০৫:৪০ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০
বাংলাদেশ
এএফপি

বিশ্বকাপের ফাইনালে শুরুটা ভালোই করেছে বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। খেলার শেষ মূহুর্তে নামে বৃষ্টির বাধা। তবে বৃষ্টি শেষে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ম্যাচ জিততে ১৫ রানের ব্যবধান এসে দাঁড়ায় ৬ রানে, যা সহজেই তুলে নেয় টাইগাররা। 

দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে অনূর্ধ্ব ফাইনালে শুরুটা ভালোই করে বাংলাদেশ। টসে হেরে ব্যাটে নেমে টাইগারদের ১৭৭ রানের লক্ষ্য দেয় ভারত। জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান করে স্বপ্নজয় হয় বাংলাদেশের। 

বাংলাদেশ ইনিংস 

তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেনের উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু দুজনের জুটি ৫০ ছুঁতে পারেনি। রবি বিষ্ণুই'র বলে কার্তিক ত্যাগীর ক্যাচ হন তানজিদ। তার সংগ্রহ ছিল ২৫ বলে ১৭ রান। 

এরপর আবারও আঘাত হানেন রবি বিষ্ণুই। ১৩তম মাহমুদুল হাসানে বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিনি। ১২ বলে মাত্র ৮ রান করেন তিনি। এক ওভার গড়াতে না গড়াতেই ১৫ ওভারের শুরুতে তৌহিদ হৃদয়কে এলবিডাব্লিউ করেন বিষ্ণুই। 

নিজের পঞ্চম ওভারে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন বিষ্ণুই। তার বলে শাহাদাত হোসেন স্টাম্পিং হন ১ রানে। ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই শামীম হোসেন মাঠ ছাড়েন। আকবরের সঙ্গে তার ২০ রানের জুটি ভাঙেন সুশান্ত মিশ্র। তিনি ১৮ বলে ৭ রান করেন যশস্বী জয়সাওয়ালের শিকার হন। 

২৩ ওভারের শেষ বলে অভিষেক দাস হুক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়াল লেগ থেকে দৌড়ে আসা কার্তিক ত্যাগীর হাতে ধরা পড়েন। ৭ বলে মাত্র ৫ রান করেন অভিষেক। 

৬ উইকেট হারিয়ে আকবর আলীকে নিয়ে জুটি গড়েন ইমন। কিন্তু ৪৭ রান করে জয়সওয়ালের বলে আউট হয়ে ফেরেন সাজঘরে। এতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

ভারত ইনিংস 

প্রথম থেকেই ভারতীয় দুই ওপেনারকে চাপের মুখে রাখেন টাইগার পেসার শরিফুল ইসলাম এবং তানজিম হাসান সাকিব। এর জের ধরে ভারতীয় ওপেনার দিভ্যানাশ সাকসেনাকে ২ রানেই ফিরিয়েছিলেন অভিষেক দাস।

এরপর শুরুর ধাক্কা সামলে যশস্বী জয়সালের ব্যাটে ভালোই প্রতিরোধ গড়ে ভারত। পরে ২৯ ওভারে শরিফুলের হাতে ৩৮ রানে ক্যাচ তুলে দেন প্যাভিলিয়নে তিলক ভার্মা। ৩২তম ওভারে রাকিবুল হাসানের বলে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পিকে গার্গ। সাজঘরে ফেরার সময় তার সংগ্রহ ছিল ৭ রান।  

৪০তম ওভারে সেঞ্চুরির কাছাকাছি থাকা জয়সালের প্রতিরোধ ভাঙেন শরিফুল। ১২১ বলে ৮৮ রান করে ফেরেন তিনি। একই ওভারের পরের বলে এলবিডাব্লিউ করে ভীরকেও মাঠ ছাড়া করেন তিনি। ভীরের সংগ্রহের খাতায় কোনো রান তুলতে পারেননি। 

ইনিংসের ৪৩তম ওভারে অথর্ব আনকোলেকার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ২২ রানে রান আউট হন আরেক সেট ব্যাটসম্যান ধ্রুব জুরেল। স্ট্রাইকিং প্রান্তে শামীম হোসেনের থ্রোয়ে আকবর আলী স্টাম্প ভাঙেন তার।

এরপর থেকে একের পর এক উইকেটের পতন শুরু হয় ভারতের। পরের ৪৪তম ওভারে রবি বিষ্ণয়কে ২ রানেই রান আউট করেন শরিফুল। পরের ওভারেই প্রথম ও শেষ বলে   আনকোলেকার (৩) ও কার্তিক ত্যাগীর (০) উইকেট নেন অভিষেক। সবশেষে ৪৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সুশান্ত মিশ্র ৩ রানে শরিফুলকে ক্যাচ দেন, উইকেটটি পান সাকিব।

বাংলাদেশ একাদশ: পারভেজ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিম, মাহমুদুল হাসান জয়, তৌহিদ হৃদয়, শাহাদাত হোসেন, শামীম হোসেন, আকবর আলী, অভিষেক দাস, রকিবুল হাসান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব।

ভারত একাদশ: যাশাসবি জয়সওয়াল, দিব্যানশ সাক্সেনা, তিলক ভার্মা, ধ্রুব জুরেল, প্রিয়ম গার্গ, সিদ্ধশ বীর, অর্থবা আনকোলেকার, রবি বিষ্ণুই, সুশান্ত মিশ্র, কার্তিক তিয়াগি, আকাশ সিং।