• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ সকাল

স্পেস স্টেশনের ‘এয়ার লিক’ ইচ্ছাকৃত: রাশিয়া

  • প্রকাশিত ০৫:৫৫ সন্ধ্যা সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮
ISS
ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের চিত্র। ছবি: এপি

প্রাথমিকভাবে নভোচারীরা মনে করেছিলেন, বাইরে থেকে ক্ষুদ্র কোনও উল্কাপিণ্ডের আঘাতের কারণে ওই ঘটনা ঘটেছে।

কিছুদিন আগে এয়ার লিকের ঘটনা ঘটেছিল ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে। ক্ষুদ্র একটি ফুঁটো দিয়ে স্পেস স্টেশনের ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যাচ্ছিল। ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিষয়টি।

বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো স্পেস স্টেশনের ক্ষুদ্র ওই ফুঁটোটি নজরে আসে নভোচারী দিমিত্রি রোগোজিনের। এ বিষয়ে তার ভাষ্য হচ্ছে, এটি কোনও ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত কাণ্ড। সোমবার এক টেলিভাইজড মন্তব্যেও একই কথা বলেন রোগোজিন। এ প্রসঙ্গে রোগোজিন বলেন, “একাধিকবার ফুঁটো করার চেষ্টা করা হয়েছে এমন প্রমাণ পেয়েছি আমরা। যেই কাজটি করে থাকুক না কেন, তার হাত স্থির ছিল না বলেও জানান তিনি। 

ঘটনাটি যে উৎপাদন ত্রুটি হতে পারে, সে বিষয়টিও ঠিক উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে দিমিত্রি বলেন, “আমরা ‘আর্থ সংস্করণ’-ও পরীক্ষা করে দেখছি। কিন্তু, একটি বিষয় ঠিক বাদ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেটি হচ্ছে, মহাকাশে ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপ।”

স্পেস স্টেশনের ওই ফুঁটোটি আবিষ্কারের পরপরই নভোচারীরা বিশেষ টেপ ব্যবহার করে বাতাস বের হওয়া সাময়িকভাবে ঠেকান বলেই জানিয়েছে গার্ডিয়ান। এদিকে, এ প্রসঙ্গে নাসা মুখপাত্রের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ক সব প্রশ্ন রশিয়ান স্পেস এজেন্সিকে করতে অনুরোধ জানান, কারণ রাশিয়ান কমিশনই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। 

প্রাথমিকভাবে নভোচারীরা মনে করেছিলেন, বাইরে থেকে ক্ষুদ্র কোনও উল্কাপিণ্ডের আঘাতের কারণে ওই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু, পরবর্তীতে পর্যবেক্ষণের পর বিষয়টি আদতে যে তা নয়, এই মতে একমত হন তারা।

এ প্রসঙ্গে সাবেক নভোচারী ও বর্তমান রাশিয়ান মন্ত্রী ম্যাক্সিম সুরায়েভ বলেন, “এটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কোনও নভোচারীর কাজ। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, এটি করলে দ্রুত বাড়ি ফেরত আসা সম্ভব হবে। কিন্তু, এ প্রক্রিয়া ততোটা কার্যকর নয়।”

অন্যদিকে রাশিয়ান বার্তা সংস্থা তাসকে লেখক ও সাবেক স্পেস ইন্ডাস্ট্রি প্রকৌশলী আলেক্সান্ডার জিলিনিয়াকভ জানিয়েছেন, স্পেস স্টেশনে ভরশূণ্য অবস্থায় এ কাজ করা শুধু দুঃসাধ্য নয়, অসম্ভব। আর নভোচারীরাই বা কেন এ কাজটি করতে যাবেন?