• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪ রাত

এবার মশা দিয়ে মশা মারবে গুগল !

  • প্রকাশিত ০৬:৩৪ সন্ধ্যা নভেম্বর ৩০, ২০১৮
মশা
মশা। ছবি: রয়টার্স

অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন গুগলের মূল সংস্থা ‘অ্যালফাবেট'

মশা মারতে আর কামান নয়, মশাই যথেষ্ট। হাজার হাজার মশা ছেড়েই এবার মশাদের বংশ করে দেয়া হবে  ধ্বংস! আর তা করবে সবজান্তা গুগলের মূল সংস্থা ‘অ্যালফাবেট’! নির্মূল করবে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কা। 

মশাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে এবার যোদ্ধা হবে মশারাই। আর এই যুদ্ধে মশাদের ফাঁদে ফেলতে মিলনের প্রলোভন দেখিয়ে গুগলের ‘পছন্দের’ পুরুষ মশাদের টোপ হিসেবে এগিয়ে দেয়া হবে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর বিষে ভরা ‘রাক্ষুসে’ স্ত্রী মশাদের সামনে। 

পুরুষ মশাদের শরীরে গুগলের বিজ্ঞানীরা ঢুকিয়ে দিয়েছেন ‘উলবাচিয়া’ প্রজাতির একটি ব্যাকটেরিয়া। মিলনের সময়ই ‘রাক্ষুসে’ স্ত্রী মশাদের দেহে প্রবেশ করবে এই ব্যাকটেরিয়া, যা স্ত্রী মশাদের বন্ধ্যা করে দিবে। ফলে, মিলনের পরেও স্ত্রী মশারা আর ডিম পাড়তে পারবে না। তাই মশার বংশ আর বাড়বে না। মশার বংশ ধ্বংস হতে বেশি সময়ও লাগবে না। ফলে, নির্মূল হবে কোনও এলাকায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো ‘এডিস ইজিপ্টাই’ প্রজাতির মশাবাহিত ভয়ঙ্কর রোগের জন্ম ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার যাবতীয় সম্ভাবনাও।

মিলনের ফাঁদে ফেলে মশা দিয়ে মশা মারার এই অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন গুগলের মূল সংস্থা ‘অ্যালফাবেট’-এরই আরেকটি ইউনিট ‘ভেরিলি লাইফ সায়েন্স’-এর জীববিজ্ঞানীরা।সম্প্রতি,  তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতির পরীক্ষানিরীক্ষাও চালিয়েছেন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো কাউন্টিতে। এই ভাবেই গোটা বিশ্বে মশাবাহিত রোগগুলি নির্মূলকরা যাবে বলে বিজ্ঞানীদের আশা।

সংস্থার মুখপাত্র ক্যাথলিন পার্কস বলেছেন, ‘‘একটি উঁচু মার্সিডিজ ভ্যান ছুটতে ছুটতে ফ্রেসনো কাউন্টির বিশাল একটি এলাকাজুড়ে একটি টিউব থেকে আশপাশের জঙ্গল ও লোকালয়ে ছড়িয়ে দেয় শরীরে বিশেষ এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া (‘উলবাচিয়া’) পুরে দেওয়া প্রায় ৮০ হাজার পুরুষ মশা। যাদের টানে কাছে এসে গোটা এলাকার মেয়ে মশারা মিলনের পর পুরোপুরি বন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে"। 

গবেষণাগারে নিয়ে গিয়ে ওই পুরুষ মশাগুলির শরীরে ‘উলবাচিয়া’ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি, বিশেষ ধরনের একটি টিউব থেকে বের করে তাদের বিষে ভরা মেয়ে মশাদের সঙ্গে ‘যুদ্ধে’ নামানোর আগে লেসার রশ্মি দিয়ে তাদের উপর নজরও রেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা। প্রতিটি মশার উপর।

তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতেই সবচেয়ে সহজে আর সবচেয়ে কম খরচে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিষে ভরা মশাদের বংশ ধ্বংস করা যাবে।