• সোমবার, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫ রাত

চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন যে প্রক্রিয়ায় বন্ধ হবে

  • প্রকাশিত ০৬:৩৫ সন্ধ্যা জানুয়ারী ২৩, ২০১৯
স্মার্টফোন
প্রতীকী ছবি

এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এনবিআর ও বিটিআরসি সহজেই অবৈধ পথে আসা সেট শনাক্ত করতে পারবে

চোরাই ও অবৈধ পথে মোবাইল ফোন আমদানি রোধ করতে এবং ব্যবহারকারীদের চুরি যাওয়া সেট বন্ধ করে দেওয়ার সুবিধা দিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এনওসি অটোমেশন অ্যান্ড আইএমইআই ডাটাবেজ (এনএআইডি) সেবা চালু করেছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিটিআরসি ভবনে মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) এ সেবা উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, এনএআইডি সেবা চালু হওয়ায় চোরাই ও অবৈধ পথে ফোন সেট আসা বন্ধ হবে। সেই সাথে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া যাবে। পাশাপাশি এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এনবিআর ও বিটিআরসি ঘরে বসেই অবৈধ পথে আসা সেট শনাক্ত করতে পারবে।

একই কথা জানান বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হকও।

বিটিআরসির তথ্যানুযায়ী, প্রতিবছর বিটিআরসির অনুমোদন নিয়ে বৈধভাবে দুই কোটি ৭৬ লাখ হ্যান্ডসেট দেশে আসে। আর বাজারে থাকা সেটের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আসে অবৈধভাবে। এতে সরকার প্রতি বছর এক হাজার থেকে বার শ' কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

সরকারের আইএমইআই ডাটাবেজে ৬০ শতাংশ হ্যান্ডসেটের নম্বর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বাকিগুলো এখনও অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি বলে বিটিআরসি'র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এনএআইডি সেবার আওতায় যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে:

মূলতঃ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া রোধ করতে সব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি) নম্বর ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে।

হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা আমদানির অনাপত্তিপত্র পেতে অনলাইনে আবেদন এবং অনলাইনেই অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে পারবেন।

জনসাধারণ মোবাইল ফোন কেনার আগে ডাটাবেজ হতে তথ্য যাচাই করে ফোন সেটের বৈধতা নির্ণয় করতে পারবেন।

এছাড়া ডাটাবেজ থেকে দেশের মোবাইল ফোন খাতের সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে। গ্রাহকের ধরন, ফিচার ফোন থেকে স্মার্টফোন গ্রহণের প্রবণতা, কী পরিমাণ হ্যান্ডসেট প্রতি বছর দেশের বাজারে বিক্রি হয়, বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের সেট সংখ্যা ইত্যাদি তথ্য যাচাই-বাছাই করে টেলিকম খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এই ডাটাবেজ।

ডাটাবেজ ব্যবস্থাটিতে কাস্টম হাউজের জন্য আলাদা মডিউল এবং একটি ডিভাইস থাকবে, যাতে বিটিআরসির দেওয়া অনাপত্তিপত্রতে উল্লেখিত আইএমইআই নম্বর যাচাই করে শুল্কায়ন করা যাবে। ফলে ভুল আইএমইআই নম্বরের মোবাইল ফোন তালিকায় প্রবেশ করতে পারবে না।

ভবিষ্যতে ন্যাশনাল ইক্যুপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) স্থাপন করা হলে চলতি ব্যবস্থাটি তার ডাটাবেজ হিসাবে কাজ করবে। তখন সেটি ব্যবহার করে মোবাইল ফোন চুরি ও ছিনতাই রোধসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে।

গ্রাহকদের এনএআইডি সেবা পেতে কোনও ধরনের নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না।

তবে, শুধুমাত্র ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বৈধভাবে আমদানিকৃত বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের বেশির ভাগ আইএমইআই নম্বর বিটিআরসির ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর বাইরের আইএমইআই নম্বর ডাটাবেইজে আপাতত পাওয়া যাবে না। তবে এখন থেকে যত হ্যান্ডসেট বৈধভাবে আমদানি বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে তা যাচাই-বাছাই করে ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে।

আইএমইআই নম্বর যাচাই:

নতুন মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে থাকা ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর (*#/,. ইত্যাদি বিশেষ চিহ্ন বাদে শুধুমাত্র ১৫টি নম্বর) এবং ব্যবহৃত মোবাইলের ক্ষেত্রে *#০৬# চেপে প্রাপ্ত ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর KYD<Space>১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে আইএমইআই নম্বরটি বিটিআরসির ডাটাবেজে সংরক্ষিত রয়েছে কিনা তা জানা যাবে।

দ্বিতীয় ধাপে বিটিআরসি তাদের ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (ইআইআর) খসড়া নির্দেশনা- ইআইআর তৈরি করবে।

যার আওতায় দেশের প্রতিটি সক্রিয় সেটকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।

এরই মধ্যে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির ইআইআর যাচাই করে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য ২৪ পাতার একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিটিআরসি। প্রতিবেদনটি যাচাইয়ের জন্য মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

সেখানে যদি কোনও সংশোধনের প্রয়োজন হয় তাহলে সেটা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিবেদনটি বিটিআরসির কমিশনে পাঠানো হবে। খসড়া নির্দেশনাটিকে চূড়ান্ত হলে প্রত্যেক অপারেটরকে তাদের নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা প্রতিটি সক্রিয় হ্যান্ডসেটের ডাটাবেজ তৈরির সময় বেধে দেওয়া হবে।

গ্রাহকদের হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য কোথাও যেতে হবেনা। তারা নিজেদের নিবন্ধিত সিমটি সেটে সক্রিয় করলেই সেটটি ওই নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন হয়ে যাবে।

ওই সেটে যদি দ্বিতীয় সিম ব্যবহার করতে হয় তাহলে সেটাও অবশ্যই একই নামে নিবন্ধিত সিম হতে হবে।

এছাড়া কারও যদি একাধিক মোবাইল সেট থাকে তাহলে তিনি দ্বিতীয় সেটটিতে যে নামের সিমটি সক্রিয় করবেন, সেই নামেই সেটি নিবন্ধিত হয়ে যাবে।

তখন ওই সেটে অন্য নামের কোনও সিম চলবেনা। অর্থাৎ একটি সেট একজনের নামেই নিবন্ধিত হবে।

এভাবে একেকটি অপারেটরের আলাদা ডাটাবেজের কাজ সম্পন্ন হবে।