• সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৫৩ বিকেল

এবার চাঁদে গেল 'লুনার লাইব্রেরি'

  • প্রকাশিত ০৬:১৬ সন্ধ্যা মার্চ ৫, ২০১৯
লুনার লাইব্রেরি
চাঁদে যাচ্ছে লাইব্রেরি। ছবি: প্রতীকী

পৃথিবীর এগিয়ে থাকা বিভিন্ন ভাষার হাজার হাজার ফিকশন ও নন-ফিকশন বই থাকবে এই লুনার লাইব্রেরিতে

ভিনগ্রহীদের জন্য মানবসভ্যতার ‘স্মৃতিচিহ্ন’ হিসেবে এবার লাইব্রেরি নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে একটি ইজরায়েলি মহাকাশযান। 

‘বেরিশিট’ নামের এই মহাকাশযানটিতে আছে একটি ল্যান্ডার ও একটি রোভার। মাস ছয়েকের মধ্যেই পা রাখবে চাঁদে। সঙ্গে নিয়ে গেছে মানবসভ্যতার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি লাইব্রেরি যার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘লুনার লাইব্রেরি’। 

‘লুনার লাইব্রেরি’তে থাকবে মানবসভ্যতার প্রায় সবক’টি এগিয়ে থাকা ভাষায় প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বই ও বিজ্ঞান-ইতিহাস-ভূগোল-রাজনীতি সংক্রান্ত নানা নথিপত্র। মোট তিন কোটি পাতার এসব নথিপত্রে আছে  মানবসভ্যতার যাবতীয় জ্ঞানগম্যি, বিদ্যাবুদ্ধি, শক্তি প্রদর্শন আর বিভিন্ন সাম্রাজ্যের জন্ম, বিস্তার ও অবসানের সবটুকু ইতিহাস। আছে গান, স্বরলিপি সহ।

কেমন দেখতে এই লুনার লাইব্রেরি? 

বলা হচ্ছে, একটি হাতে হাতে ঘোরা ডিভিডি-র মতো দেখতে ধাতবের তৈরি এই লাইব্রেরি। লাইব্রেরিটি বানিয়েছে লস এঞ্জেলসের অলাভজনক সংস্থা ‘আর্ক মিশন ফাউন্ডেশন’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নোভা স্পিভাক। তিনি জানিয়েছেন, চাঁদের মাটিতে যাবতীয় সৌর ও মহাজাগতিক বিকিরণের ঝাপটা সহ্য করেও লুনার লাইব্রেরি যাতে অন্তত ৬০০ কোটি বছর টিকে থাকতে পারে, সেটা মাথায় রেখেই বানানো হয়েছে।

স্পিভাক আরও জানান, লুনার লাইব্রেরিতে আছে খুব ছোট্ট একটি ‘টাইম ক্যাপস্যুল’ও। সেখানে আছে ইজরায়েলের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ইজরায়েলি শিশুদের আঁকা ছবি ও লেখালেখি, আর বাকিটা এনসাইক্লোপিডিয়া। সেখানে ২০০ গিগাবাইটেরও বেশি এমন সব তথ্য আছে যা মূলত উইকিপিডিয়ার ইংরেজি সংস্করণ। পৃথিবীর এগিয়ে থাকা বিভিন্ন ভাষার হাজার হাজার ফিকশন ও নন-ফিকশন বইও আছে এই ক্যাপস্যুলে। বিখ্যাত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পাঠ্যপুস্তকের সংগ্রহ। সাথে থাকছে পৃথিবীর অন্তত ৫ হাজারটি ভাষা কী ভাবে পড়তে হয়, দেওয়া থাকবে তার গাইডলাইন আর সেসব ভাষার কমপক্ষে দেড়শো কোটি অনুবাদ। আর এই সব কিছু থাকবে লুনার লাইব্রেরির মধ্যে নিকেল দিয়ে বানানো ২৫টি চাকতিতে। অসম্ভব রকমের পাতলা চাকতিগুলি মাত্র ৪০ মাইক্রন পুরু। যার মানে, এক ইঞ্চির ৬০০ ভাগের মাত্র এক ভাগ।

স্পিভাক বলেন, "পৃথিবীর মানবসভ্যতা সম্পর্কে নির্ভুল ভাবে খবর পাওয়ার জন্য চাঁদে আগামী দিনের ভিনগ্রহী পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে আরও কয়েকটি ‘হাতিয়ার’। কারণ, আমাদের ব্যবহার করা ডিভিডি থাকবে না সেই সুপার হিউম্যান বা ভিনগ্রহীদের হাতে। পৃথিবীতে এখন যত রকমের ভাষায় আমরা কথা বলি, তার কোনোটাই তারা বুঝতে পারবে না। তাই লুনার লাইব্রেরির এই নিকেলে বাঁধানো ডিস্কের উপরিতলে থাকবে মানবসভ্যতার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বই ও নথিপত্রের ছবি। সেখানে দেওয়া থাকবে মানবসভ্যতার ভাষাগুলি পড়ার সব রকমের কোড। বোঝানো থাকবে কিভাবে সেই কোডগুলিকে ‘ডি-কোড’ করা যায়। কিভাবে পড়া যায় লুনার লাইব্রেরির ভিতরে থাকা তিন কোটি পাতার মর্মবস্তু। অণুবীক্ষণের নীচে রাখলে লুনার লাইব্রেরির ডিস্কের সেই উপরিতলকে অন্তত ১০০ গুণ বাড়িয়ে নেওয়া যাবে। যাবতীয় বিকিরণের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য গোটা ব্যবস্থাটাই থাকবে বিশেষ এক ধরনের ‘চাদরে’ মোড়া"।