• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ফেসবুকের অন্ধকার পাঁচটি বিষয়

  • প্রকাশিত ০৫:৪২ সন্ধ্যা নভেম্বর ২১, ২০১৯
ফেসবুক
ছবি: পিক্সাবে

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটেরও কিছু দিক রয়েছে, সাধারণ ব্যবহারকারীরা তা হয়তো একদমই জানেন না

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক। বিশ্বজুড়ে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৩৮ কোটিরও বেশি। দিন দিন এ সংখ্যা বেড়েই চলছে। কারো কারো কাছে ফেসবুক এতোটাই আর্কষণীয় যে, ফেসবুকে লগইন করে দিন শুরু করেন আবার ফেসবুকে লগআউটের মাধ্যমে ঘুমাতে যান। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই ওয়েবসাইটেরও কিছু দিক রয়েছে, সাধারণ ব্যবহারকারীরা তা হয়তো একদমই জানেন না। ঢাকা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য এমনই পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হলো।

ফেসবুকের নেশা কোকেনের মতো

ফেসবুকের প্রতি আসক্তি অনেকটা কোকেনে আসক্তির মতোই। ২০১৪ সালে নরওয়ের বারগন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০ জনের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। গবেষণায় প্রশ্নোত্তর ও ব্রেন ইমেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। গবেষকেরা প্রথম ধাপে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের এমন কিছু প্রশ্ন করেন যেগুলো নেশায় আসক্ত মানুষকে করা হয়। এবং বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী চার থেকে ছয়টি প্রশ্নের পজিটিভ উত্তর দিয়েছেন।


আরও পড়ুন - পুলিৎজারজয়ী সেরা পাঁচ ছবি


পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে, প্রত্যেক উত্তরদাতার সামনে ফেসবুকের আদলে দুটি বাটন উপস্থাপন করা হয়। দেখা যায়,কয়েকজন খুব দ্রুত “পুশ বাটনে” চাপ দিয়েছেন। ঠিক ওই সময়ে প্রযুক্তির সাহায্যে “পুশ বাটনে” চাপ দেওয়া ব্যক্তির ব্রেনের ছবি তোলা হয়। দেখা যায়, কোকেনে আসক্ত ব্যক্তিদের ব্রেনের ছবির সঙ্গে ফেসবুকে আসক্ত ব্যক্তির ব্রেনের ছবি প্রায় মিলে যায়। যদিও বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে বড় কোনো গবেষণা হয়নি।

সহিংস ঘটনা থেকেও আয় করে ফেসবুক

বিভিন্ন সহিংস ঘটনার ভিডিও বা ছবির মাধ্যমেও আয় করে ফেসবুক। ২০১৮ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই তথ্যটি সামনে আসে। “ইনসাইড ফেসবুক: সিক্রেট অব সোশ্যাল নেটওয়ার্ক” নামে যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোরের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, একটি ভিডিওতে একজন শক্তিশালী ব্যক্তি অপেক্ষাকৃত দুর্বল ব্যক্তিকে পেটাচ্ছেন। এ ঘটনাটি সত্য। একই প্রতিবেদনে অপর একটি ঘটনায় একটি মিমের মাধ্যমে নিজের মেয়েকে নিগ্রো ছেলে প্রেমে পড়ার দৃশ্য ও অভিব্যক্তি দেখানো হয়। 


আরও পড়ুন - জনপ্রিয় শীর্ষ ১০ ওয়েবসাইটের শুরুটা যেমন ছিল


চ্যানেল ফোরের পক্ষ থেকে এ দুটি হিংসাত্মক ঘটনা ফেসবুকে প্রচারের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ওই ভিডিও দুটি ২০১২ সালেই ডিলিট করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনা দুটি এখনো ফেসবুকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, সাংবাদিক এমনটি জানালে ওই কর্মকর্তা বলেন, আপনি যদি সবই সেন্সর করা শুরু করেন তবে লোকজন এর উপর আগ্রহ হারাবে। আর একটি বিষয় আপনাকে মনে রাখতে হবে। দিন শেষে সবকিছুর পেছনেই আয়ের ভাবনা থাকে।

ব্যবহারকারীর মাসিক ও যৌনতার খবর নেয় ফেসবুক

নারীর মাসিক বা পিরিয়ড, সর্বশেষ যৌনতা, যৌন স্বাস্থ্য ইত্যাদির খবর সংগ্রহ করে ফেসবুক। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ তথ্য ফাঁস করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সারা বিশ্বে নারীদের জন্য তৈরি দুটি অ্যাপস ফেসবুককে এসব খবর দিয়ে থাকে। 

প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “মায়া” ও “মিয়া” ফেম নামের দুটি অ্যাপস যারা ব্যবহার করেন তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত বিষয় জানার জন্য অ্যাপস দুটিতে ছবি, সর্বশেষ মাসিক হওয়ার তারিখ, যৌনতার তারিখ ইত্যাদি শেয়ার করেন। পরবর্তী সময়ে অ্যাপস ব্যবহারকারীর অনুমতি ব্যাতীত এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হয়। এই তৃতীয় পক্ষের মধ্যে ফেসবুকও রয়েছে।

এফবিআইয়ের গোয়েন্দাগিরি

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) গোয়েন্দারা ফেসবুকে নজরদারি করেন। চলতি বছরের শুরুতেই বিজনেস ইনসাইডারের এক রিপোর্টে বলা হয়, নিরাপত্তা, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এফবিআই গোয়েন্দারা ফেসবুকে বিভিন্ন রকম বিজ্ঞাপন ও প্ল্যাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে ফেসবুকে নজরদারির কাজ করে থাকেন। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ফেসবুকে নজরদারি চালায়।

ছায়া প্রোফাইল তৈরি

যারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহার করেন, তাদের ফোনবুকে থাকা প্রতিটি নম্বররের বিপরীতে একটি ছায়া প্রোফাইল তৈরি করে এবং ওইসব ফোন নম্বরের মালিকদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখে ফেসবুক। যদি এসব ফোন নম্বরের মালিকেরা ফেসবুক ব্যবহার না করে থাকে তবে বিভিন্ন সময়ে ফোন নম্বরের মালিককে ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত হতে আহ্বান জানায় বলে দাবি করেছে কোনো কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। যদিও ২০১৮ সালের ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।


আরও পড়ুন - জেনে নিন বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত দশটি মোবাইল অ্যাপস