• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১ সকাল

যোগাযোগ প্রযুক্তিতে অপটিক্যাল ফাইবারের ভূমিকা

  • প্রকাশিত ০৪:৪৫ বিকেল ডিসেম্বর ৩, ২০১৯
অপটিক্যাল ফাইবার
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে এসে অপটিক্যাল ফাইবারকে পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থার মেরুদণ্ড বললেও ভুল হবে না

বর্তমান প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পারিক যোগাযোগ। আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে ঘুচে গেছে দূরত্বের বাধা। মেসেজিং, ফোন কল, ভিডিও কলের মাধ্যমে মুহূর্তেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে। যোগাযোগ প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা অপটিক্যাল ফাইবারের। 

অপটিক্যাল ফাইবার(Optical fiber) একধরনের পাতলা-স্বচ্ছ তন্তু বা তার বিশেষ। যা বানানো হয় সাধারণত কাঁচ কিংবা প্লাস্টিক দিয়ে। এর সাহায্যে দীর্ঘ দূরত্বে অনেক কম সময়ে বিপুল পরিমাণে তথ্য পাঠানো যায়। 

বিশেষ এই তারের মাধ্যমে আলোর সাহায্যে ডিজিটাল ডাটা প্রবাহিত করা হয়। 

অপটিক্যাল ফাইবারের আর অনেক সুবিধার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এই ব্যবস্থায় তথ্য পরিবহনে তথ্যের অপচয় কম হয়। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে আলোকে ব্যবহার অর্থাৎ অপটিক্যাল কনসেপ্ট প্রথম আবিস্কার করেন ফরাসি বিজ্ঞানী ক্লদে চ্যাপ ১৭৯০ সালে। এই পদ্ধতিতে একজন অপারেটর এক টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারে বার্তা পাঠাতে পারতেন। পরে ইলেক্ট্রিক টেলিগ্রাফের আগমনে এই পদ্ধতি অকেজো হয়ে পড়ে। 

পরবর্তীতে আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ১৮৮০ সালে অপটিক্যাল টেলিফোন সিস্টেম আবিস্কার করেন যা ফটোফোন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। তিনি বাতাসে আলোক সংকেত পাঠানোর চিন্তা-ভাবনা করেছিলেন। কিন্তু তিনিও পুরোপুরি সফল হননি। বর্তমান সময়ের ফাইবারে আলোর যে পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলন ঘটানো হয়, ১৮৪০ সালে তা আবিস্কার করেন সুইস পদার্থবিদ ড্যানিয়েল কলোডন ও ফরাসি পদার্থবিদ জ্যাকোনেস ব্যাবিনেট। 

তাদের তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে ১৯২০ সালে হেনরিখ লাম ও মিউনিখ নামের দু'জন টেলিভিশন ইমেজ বা ছবি স্বচ্ছ কাঁচদণ্ডের মধ্য দিয়ে পাঠাতে সক্ষম হন। কিন্তু সেখানে আউটপুট ইমেজের কোয়ালিটি খুব একটা ভাল ছিল না। এতোদিন পর্যন্ত যেসব পদ্ধতিতে ট্রান্সমিশন করা হতো, তার সবগুলোই ছিল অপূর্ণাঙ্গ। সে কারণে বেশিরভাগ আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় সংকেত দুর্বল হয়ে পড়তো। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিদ ব্রেইন ও ব্রিয়েন সর্বপ্রথম অপটিক্যাল ফাইবারের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারে সমর্থ হন। 

অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার

বাণিজ্যিকভাবে প্রথমবারের মতো অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যবহার শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। এর ১৩ বছর পর স্থাপিত হয় প্রথম ট্রান্স-আটলান্টিক ক্যাবল। সময়ের সাথে সাথে এটি আরও উন্নত হয়েছে। বর্তমান সময়ে এসে অপটিক্যাল ফাইবারকে পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থার মেরুদণ্ড বললেও ভুল হবে না।

বহুলমাত্রায় অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের মূল কারণ-

- কাঁচামালের খরচ তুলনামূলক কম

- ট্রান্সমিটার ও রিসিভার-এর খরচ তুলনামূলক কম

- একইসঙ্গে তড়িৎ শক্তি ও সংকেত পাঠানোর ক্ষমতা

- তড়িৎ-চুম্বকীয় বাধা (ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফেরেন্স), আণবিক তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধে অপটিক্যাল ফাইবার কার্যকর।

- উচ্চ বৈদ্যুতিক রোধ, যার কারণে উচ্চ ভোল্টের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির মাঝেও ব্যবহার করা যায়।

- হালকা ওজন, যা বিশেষ করে আকাশযানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

- দাহ্য বস্তুর সঙ্গেও ব্যবহার করা যায়।

- কোনো তড়িৎ-চুম্বকীয় বিকিরণ হয় না যা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

- তারের আকার ছোট।