Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট বানালো বরিশালের শুভ

ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই কিশোর অর্জন করেছে রোবটিকস আর প্রোগ্রামিং বিষয়ক জ্ঞান। তার রোবটটি বাংলা ও ইংরেজিতে কথোপকথনের পাশাপাশি অগ্নি দুর্ঘটনায় সহায়তা করতে সক্ষম

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৩৯ এএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন একটি রোবট তৈরি করেছে বরিশালের কিশোর শুভ কর্মকার। দশম শ্রেণির এই ছাত্রের তৈরি “রবিন” নামের রোবটটি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথোপকথনে সক্ষম। এটি তৈরিতে শুভ'র খরচ হয়েছে পঁচিশ হাজার টাকা।

শুভ'র বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার কলুপাড়া গ্রামে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সে জানিয়েছে, রোবট সোফিয়াকে দেখেই তার বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে এমন একটি রোবট বানানোর পরিকল্পনা মাথায় আসে। এই রোবটটি সোফিয়ার তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।

শুভ জানায়, একদিন রোবট বানাবে, সেই স্বপ্ন থেকেই ছোটবেলায়ই সে রোবটিকস বিষয়ক বইপত্র পড়া শুরু করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সে অর্জন করেছে রোবটিকস আর প্রোগ্রামিং বিষয়ক জ্ঞান। বন্ধুরা যখন বাইরে খেলত, সে তখন বসে থাকত কম্পিউটারের সামনে। রোবটিকস আর প্রোগ্রামিং শেখার নেশায় চষে বেড়াত এক ওয়েবসাইট থেকে অন্যটিতে।

২০১৮ সালের ২৫ মে থেকে সে “রবিন”-কে প্রস্তুতের কাজ শুরু করে। আট মাস পর অর্থাৎ ২০১৯-এর জানুয়ারিতে তার কাজ শেষ হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কার্টুন শো'র সুপারহিরো “রবিন”-এর নামানুসারে নিজের তৈরি রোবটের নামকরণ করে ক্ষুদে এই প্রোগ্রামার।

ঘরে বসে স্বল্পখরচে রোবটটি বানাতে শুভ এর হার্ডওয়্যার সংগ্রহ করেছে বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন দোকান আর অনলাইন শপ থেকে।

তৈরি শেষে “রবিন”-এর মধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে সেলফ লার্নিং প্রসেসের মতো অত্যাধুনিক ফিচার। জিজ্ঞাসা করলে প্রস্তুতকারকের নাম থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম বলতে পারে সে।

পাশাপাশি, রবিনের একটি সেন্সর অগ্নি দুর্ঘটনা শনাক্ত করে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসে খবর দিতে পারে। শিশুদেরকে সে শেখাতে পারে একাধিক বিষয়ের প্রাথমিক জ্ঞান। আর কৃষকদেরকে দিতে পারে চাষাবাদের বিভিন্ন তথ্য।

বর্তমানে রবিনকে দৃষ্টিশক্তি দেওয়ার পাশাপাশি চাকার বদলে হাঁটার সক্ষমতা দিতে কাজ করে যাচ্ছে তার নির্মাতা শুভ কর্মকার।

শুভ'র ভাষায়, “সহায়তা পেলে আমি রবিনকে সোফিয়ার চেয়েও ভাল করে গড়ে তুলে রোবটিকসের উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব।”

উল্লেখ্য, নিজের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বছর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনির কাছ থেকে জাতীয় শিশু পুরস্কার পেয়েছে শুভ। আর ২০১৮ সালে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের কাছ থেকেও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে সে। পাশাপাশি শুভ অর্জন করেছে জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের একাধিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার গৌরব।

শুভ'র বাবা সন্তোষ কর্মকার একজন ব্যবসায়ী ও মা দীপ্তি কর্মকার গৃহিনী। এই দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে শুভ বড়। পরিবারের সদস্যরা তার অর্জনে খুশি ও গর্বিত। সন্তানকে সামনে এগিয়ে যেতে সবসময়ই তার পাশে আছেন বলে জানান শুভ'র বাবা-মা।

About

Popular Links