Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাবাকে সহায়তা করতে ১২ বছরের মেয়েটি এখন ‘ভিডিও এডিটর’

মায়ের স্মার্টফোন দিয়েই সে ঘরে বসে ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ শিখেছে

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২১, ০৯:৪০ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে স্কুল বন্ধ টানা ১৭ মাস। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে ৪০ মিনিটের ক্লাস। বাকি সময়টা অফুরন্ত অবসর। গল্পটা খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কেসিসি উইমেন্স কলেজের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী নুজহাত নাজিয়া জাঈমার।

তার বাবা জামাল উদ্দিন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং খুলনার বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন পাবলিক লাইব্রেরির পরিচালক আর মা খুলনা মেট্রোপুলিশ লাইন্স হাইস্কুলের শিক্ষক।

মহামারির কারণে অর্থাভাবে জামাল উদ্দিনের পাঠাগারের কার্যক্রমও বন্ধের উপক্রম। পাঠাগারটিতে কিছু ডিজিটাল কর্মসূচি পরিচালনার জন্য একজন কর্মচারী ছিলেন। কিন্তু সঙ্কটের কারণে সম্প্রতি তাকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়।

বাবার এমন সঙ্কটে পাশে দাঁড়ায় ১২ বছরের জাঈমা। মোবাইলে অ্যাপস দিয়ে ভিডিও এডিট করে বাবাকে দেখালে তিনি একই সঙ্গে খুশি ও অবাক হন। মায়ের স্মার্টফোন দিয়েই সে ঘরে বসে ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ শিখেছে গত ১৭ মাসে।

এরপর ছোট্ট জাঈমা তার বাবার প্রতিষ্ঠানেই মাসে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিডিও এডিটরের “চাকরি” নেয়।

জাঈমা জানায়, খালাতো বোনের কাছ থেকে সে স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ শিখেছে। বাবার কাছ থেকে মাসে পাওয়া পাঁচ হাজার টাকা থেকে এক হাজার টাকা নিজের জন্য রাখছে। বাকি চার হাজার সে তুলে দিচ্ছে লাইব্রেরির তহবিলে।

৫ম শ্রেণির এই ছাত্রী আরও জানায়, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনে এলে তাকে  সদস্যদের পক্ষ থেকে স্যালুট দিয়ে সম্মান জানানো হয়। কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে সে-ই গত চার বছর ধরে এ দায়িত্ব পালন করে আসছে। এর মাধ্যমে সে প্রায় দশ হাজার টাকা সম্মানী ও একাধিক ক্রেস্ট লাভ করেছে। এ টাকারও অধিকাংশ লাইব্রেরির তহবিলে দান করেছে।

জাঈমার বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, “অর্থ সঙ্কটে কর্মচারীকে বাদ দিতে হয়েছে। কিন্তু তারপর প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা নিয়ে চরম সঙ্কট দেখা দেয়। এ অবস্থায় মেয়ের সহায়তায় আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

“অথচ বাসায় ক্লাস করা ছাড়া জাঈমার মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ি ছিল। তবে এখন মোবাইল ব্যবহারের জন্য তাকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আর আগের কড়াকড়িও শিথিল করা হয়েছে।”

জাঈমার মা বলেন, “পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ার ভয়ে মেয়ের জন্য স্মার্টফোন কেনা হচ্ছিল না। এখন দেখছি স্মার্টফোনের ভালোদিকও আছে। মেয়ে ভালো কাজ করে তা প্রমাণ করেছে। এখন নিজের আয় থেকেই সে একটি ভাল স্মার্টফোন কিনতে পারবে। তবে আমরা পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর বিষয়ে খেয়াল রাখছি। ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল ভার্সন আমরা বুঝতে না পারলেও মেয়ে ঠিকই বুঝেছে। একইসঙ্গে বাবার সঙ্কটে পাশে থাকতে পারছে এটা নিশ্চয়ই ভালো। তবে পড়াশোনা করে যোগ্য হয়ে ওঠাও জরুরি।”

এই অভিভাবকদের মতে, এখন যেহেতু স্কুল বন্ধ থাকায় সারাদিনই বাসায় থাকতে হয়, তাই দৈনিক দুই-তিন ঘণ্টা এ কাজে ব্যয় করলে লেখাপড়ায় ক্ষতি হয় না।

জাঈমা খুলনা শিশু সাংবাদিক ফোরামেরও সদস্য।


About

Popular Links