Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ক্যান্সারের টিকা উদ্ভাবনে আশার আলো নতুন প্রযুক্তি

মহামারির সময় খ্যাতি অর্জন করা প্রযুক্তি এবার ক্যান্সার চিকিৎসায়ও প্রয়োগের প্রস্তুতি চলছে

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০১:২৯ পিএম

বায়োনটেকের মতো কোম্পানির টিকা করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলা করতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। সেই প্রযুক্তির আরও উন্নতি ঘটিয়ে নানা ধরনের ক্যান্সার নিরাময়ের চেষ্টা চলছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে প্রথমবার মেসেঞ্জার আরএনএ টিকা অনুমোদন পেয়েছিল। গোটা বিশ্বে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার পর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করা হয়েছিল। আসলে সেই অণু নিয়ে বেশ কয়েক দশকের কাজের দৌলতেই সেটা সম্ভব হয়েছিল। তবে সেই গবেষণার ক্ষেত্র ছিল ক্যান্সার নিরাময়। কোভিডের দৌলতে এমআরএনএ প্রযুক্তি লোকচক্ষুর আড়াল থেকে জনসমক্ষে এসেছে।

এমআরএনএ-কে প্রায়ই মেডিকেল সফটওয়্যার হিসেবে বর্ণনা করা হয়। কারণ, সেটি সরাসরি শরীরের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। বরং এমন নির্দেশ বহন করে, যা পালন করলে তবেই সেই প্রভাব দেখা যায়।

এমআরএনএ টিকা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে আগেভাগেই প্রশিক্ষণ দেয়। সেগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট জেনেটিক তথ্যের স্ট্র্যান্ডের অনেক কপি থাকে, যা হলো মেসেঞ্জার আরএনএ। সেগুলো এমনভাবে প্রোগ্রাম করা থাকে, যার মাধ্যমে কোষগুলোকে সুনির্দিষ্ট প্রোটিন সৃষ্টি করতে উৎসাহ দেওয়া হয়। যেমন টিউমার সেলে পাওয়া অস্বাভাবিক প্রোটিন, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমের চোখ এড়িয়ে গেছে।

জার্মান ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্রের নিল্স হালামা বলেন, “এই নজরদারির প্রণালী ভেতরে থেকেই আমাদের সুরক্ষা দেয়। কিন্তু কিছু ত্রুটি থাকে এবং নির্দিষ্ট পরিবেশে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। যেমন ক্রনিক ইনফ্লেমাশন শরীরের কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে এবং তখন টিউমার ইমিউন সিস্টেমের নজর এড়িয়ে যেতে পারে।”

এমন “অদৃশ্য” ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করতে হলে ইমিউন সিস্টেমকে সবার আগে সেটি দেখার ক্ষমতা আয়ত্ত করতে হবে। মেসেঞ্জার আরএনএ সেই কোষ দৃশ্যমান করে তোলে। কিন্তু সমস্যা হলো, সব রোগীর ক্যান্সারের ধরন ভিন্ন। ফলে সবার জন্য একই এমআরএনএ থেরাপির কোনো সুযোগ নেই।

কিন্তু ইনফরমেশন মলিকিউল নতুন করে লেখা সম্ভব, যাতে প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎপাদন করা যায়। বড় আকারে এমন ব্যক্তিগত চিকিৎসার যুগ ধীরে ধীরে বাস্তব হয়ে উঠছে।

নিল্স হালামা বলেন, “আগামী ১২, ২৪ বা ৩৬ মাসের মধ্যেই এমন ক্যান্সার চিকিৎসা অনুমোদন পাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু বড় আকারে এমন চিকিৎসা প্রয়োগ করতে অনেক সময় লাগবে। এমন অণু উৎপাদনের ক্ষমতা এবং তার মূল্যের বিষয়টি অবশ্যই নির্ভর করবে।”

এখন পর্যন্ত সামান্য কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনুমোদন পেলেও বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু এমআরএনএ প্রযুক্তি-ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা চলছে। চিকিৎসার ধারাবাহিক উন্নতি ঘটছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, কোনো না কোনো ধরনের ক্যান্সার বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় এক কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ।

মহামারির সময় খ্যাতি অর্জন করা প্রযুক্তি এবার ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও প্রয়োগের প্রস্তুতি চলছে।

About

Popular Links