দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড, আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘‘কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখেছি। এটা আমাদের চোখে পড়েছে। কিন্তু উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ থাকে এবং সেটা যদি সুনির্দিষ্ট হয়, সেটা আমরা দেখবো। আপনার নিয়ে আসেন না কেন।”
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টায় রংপুর নগরীর ষ্টেশন রোড এলাকায় দুদকের রংপুর জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ের নতন ভবন নির্মান কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘এই সরকার সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকা দরকার। এটা রাজনৈতিক সরকার নয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা একজন দুর্নীতি বিরোধী মানুষ। যদি উপদেষ্টা পরিষদের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তাছাড়া আমাদের যে আইন রয়েছে, তাতে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি বলেন, ‘‘একটা ব্যাপার আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আমরা যে অভিযোগ করব, তা যেন সুনির্দিষ্ট হয়। আমরা যদি বলে থাকি, তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন, কোথা থেকে করেছেন, কীভাবে করেছেন, এই অংশগুলো যদি প্রমাণ করতে না পারি, তাহলে শেষ পর্যন্ত সেই অভিযোগ টিকবে না। এমনকি উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ থাকে, সেই অভিযোগ যদি সুনির্দিষ্ট হয়, তাহলে আপনারা (সাংবাদিক) নিয়ে আসেন না কেন।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুদকের মামলার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আমাদের এখানে কয়েকটি মামলা চলমান। আরও কয়েকটি বিষয় তদন্তাধীন। তদন্ত করে শেষ পর্যন্ত যদি প্রমাণিত হয়, আমরা মামলা-মোকদ্দমায় চলে যাব।’’
সম্প্রতি এক সেমিনারে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আটজন উপদেষ্টার ‘‘সীমাহীন দুর্নীতির’’ প্রমাণ নিজের কাছে রয়েছে। এই উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ হয় না, বদলিও হয় না। তবে তিনি উপদেষ্টাদের নাম উল্লেখ করেননি।