বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে এসে মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এ সময় ৩২ নম্বর সড়কে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও হামলাকারীদের ঠেকাতে দেখা যায়নি; কাউকে মারধর করে তুলে দেওয়া হলে পুলিশ তাকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, তারা সরকারের প্রধান উপদেষ্টার “প্রেস সচিবের নির্দেশনা” মোতাবেক কাজ করছেন।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের দুই পাশেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রেখেছে। শুধু গণমাধ্যমকর্মীদের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। দুই পাশেই ছাত্রদলসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদেরও দেখা গেছে। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়ির সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে পাহারা দিতেও দেখা গেছে।
বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে সাদা পোশাকে থাকা ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “৩২ নম্বরে নাশকতার পরিকল্পনার কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই। সরকারিভাবে যেহেতু তাদের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আমরা সেই নির্দেশনা ফলো করব।”
তারা প্রেস সচিব “শফিকুল আলমের দেওয়া নির্দেশনা” অনুসরণ করছে দাবি করে ওসি বলেন, “আপনারা হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন, কিছুদিন আগে আমাদের যে প্রেস সচিব, তিনি কিছু ইন্সট্রাকশন্স দিয়েছিলেন। সেই ইন্সট্রাকশন্স মোতাবেক আমরা কাজ করবো।”
এনটিভি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কয়েকজন সাংবাদিকদের একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রেস সচিব বলেছিলেন, “বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এটি দুঃখজনক। তবে এ দিনটি আগস্টের অন্য ৩১ দিনের মতোই। কেউ ধানমন্ডিতে বা কোথাও কর্মসূচি করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শফিকুল আলম বলেন, “নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালাতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটি দেখবে।”
এদিকে, শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার পর থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বিধ্বস্ত বাড়িতে ফুল দিতে এসে মারধর ও হেনস্তার শিকার হন বেশ কয়েকজন। তাদের একজন রিকশাচালকও রয়েছে। তিনি বেলা ১১টার দিকে ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে ৩২ নম্বরে আসেন। যার ওপর কাগজে লেখা ছিল “১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস”।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের স্লোগান দেওয়া লোকজন তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ওই রিকশাচালকের নাম আজিজুর রহমান।
আজিজুর রহমান নামের ওই রিকশাচালক বলেন, “আমি যাত্রাবাড়ী থেকে এসেছি। ৪০০ টাকা দিয়ে ফুলের তোড়াটি কিনেছি। আমার অনেক কষ্টের টাকা, আমি দুই বছর ঢাকা শহরে রিকশা চালাই। শুধু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি জন্যি এহানে আইছি।”
এর আগে আওয়ামী লীগের কর্মী সন্দেহে এক নারীকেও হেনস্তা করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এছাড়া আরেক ব্যক্তিকে সেখানে মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সকালে এক দম্পতি তাদের তিন সন্তানসহ এলে “আওয়ামী লীগ” সন্দেহে তাদের হেনস্তা করে স্থানীয় বিএনপিকর্মীরা। পরে তাদের সরিয়ে নেয় পুলিশ।