জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে নাছির ওরফে চিকু (২৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকা চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ।
এর আগে, শনিবার (১৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার চর পাকেরদহ ইউনিয়নের পশ্চিম চর পাকেরদহ গ্রামের বাংলাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীদের আঘাতে দুইজন এএসআই আহত হয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, পশ্চিম চর পাকেরদহ এলাকার মো. আজিজুল হক বাবু (৩২), মো. রাসেল (৩৪), স্বপন (২৮) এবং সুজা মণ্ডল (৫৫)।
জানা গেছে, শনিবার রাতে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল পশ্চিম চর পাকেরদহ গ্রামের বাংলা বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ওই এলাকার নাছির ওরফে চিকুকে ৩৩ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে আটক চিকুকে নিয়ে থানায় ফেরার পথে বাংলাবাজার এলাকায় তার আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগীরা পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
এসময় তারা পুলিশের কাছ থেকে আসামি চিকুকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলাকারীদের আঘাতে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মুজিবুর রহমান ও নাইমুর রহমান আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শনিবার রাতেই উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসিব আল মাহফুজ বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা দান এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ভোরের দিকে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আজিজুল হক বাবু, মো. রাসেল, স্বপন এবং সুজা মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, “শনিবার রাতে পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী চিকুকে গ্রেপ্তার করে থানায় ফেরার সময় বাংলাবাজার এলাকায় পুলিশকে আটক করে আসামি ছিনিয়ে যায় মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যসহ স্থানীয়রা। পরে আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে থানায় মামলা দায়ের করেন।”
ওসি আরও বলেন, “মামলা দায়েরের পর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তার চারজনকে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চিকুর বিরুদ্ধে আরেকটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।”