বারবার মাদ্রাসা থেকে বাড়ি চলে যাওয়ায় এক শিশুশিক্ষার্থীর পায়ে শেকল পরিয়ে আটকে রাখার অভিযোগে খুলনার আড়ংঘাটা থানার একটি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি নগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া এলাকার হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসায় ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দিনমজুর মহসিন সর্দার ছেলেকে কোরআনের হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করান। তবে শিশুটি মাদ্রাসায় থাকতে না চাওয়ায় প্রায়ই বাড়ি ফিরে আসত। শনিবার তাকে আবার মাদ্রাসায় রেখে আসার পর, যাতে সে আর পালাতে না পারে সেজন্য মুহতামিম তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে এক পায়ে শেকল পরিয়ে একটি ভারী মুগুরের সঙ্গে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এ সময় তাকে মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের দাবি, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিশুটি কৌশলে শেকলসহ মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে শিশুটির মা রত্না বেগম রোববার আড়ংঘাটা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হালিমুর রহমান জানান, শিশুটির এক পায়ে শেকল পরিয়ে একটি মুগুরের সঙ্গে তালা লাগানো হয়েছিল। অন্য পা খোলা থাকায় সে শেকলসহ পালিয়ে বাড়ি যেতে সক্ষম হয়। মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের শিশু নির্যাতনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন।



