কিশোরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক যুবক নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই পুরান বাজার এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আলী আব্বাস ওরফে রাজন এবং সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হকের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে এক যুবক নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। নিহত মো. হিমেল মিয়ার (২৪) বাড়ি বৌলাই পুরান বাজার এলাকায়।
আহত ব্যক্তিদের কিশোরগঞ্জের শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, নিহত হিমেল আলী আব্বাস পক্ষের অনুসারী বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আলী আব্বাস পক্ষের লোকজন এমদাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও আগুন দেয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেলের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আলী আব্বাস রাজন এবং সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক এমদাদ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন।
এতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়ভার দল বহন করবে না। একইসঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান (জিএস) শরীফ বহিষ্কারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে কিশোরগঞ্জে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মো. হিমেল (২৪) নামের এক যুবক নিহত হন এবং কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত ব্যক্তির পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশ-সেনাবাহিনীসহ প্রশাসনের বাড়তি নিরাপত্তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।