‎দুই দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নীতিমালা চূড়ান্তকরণ ও রোডম্যাপ ঘোষণা এবং সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে প্রশাসনিক ভবন তালা মেরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। এর আগে বেলা ১২টার দিকে তারা উপাচার্যের কক্ষের সামনে ‘‘ব্রেক দ্য সাইলেন্স’’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে আমাদের যৌক্তিক দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসনের অদক্ষতা ও নীরবতার কারণে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভিসি ভবনে অবস্থান করব।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, “আমরা অনেক সময় দিয়েছি। মে মাস থেকে নীতিমালা প্রণয়ন হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনের অদক্ষতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। আমাদের মূল দাবি ছিল বিশেষ সিন্ডিকেট ডেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা, কিন্তু প্রশাসন তা করেনি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভিসি ভবনে থাকব।”

শাখা বাগছাসের সদস্যসচিব শাহিন মিয়া বলেন, “আমরা এক বছর ধরে আমাদের দাবিগুলো জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখা যায়নি। তাই এখন থেকে আমরা ভিসি ভবন ছাড়ব না এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকব।”

শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “আমরা দুই দফা দাবি নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা ভাঙার চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি দীর্ঘদিন আটকে আছে এবং কেন এই দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের জানানো দরকার। এই অবস্থান কর্মসূচীর মাধ্যমে আমরা দাবি পূরণ নিশ্চিত করতে চাই।”

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত। তাদের দাবি যৌক্তিক। জকসুর চূড়ান্ত নীতিমালা এখনও হাতে পাইনি, তবে কমিটি কাজ করছে। আশা করছি শিগগিরই হাতে পাব। নীতিমালা পেলে মঙ্গলবার সিন্ডিকেট মিটিং করে পাস করব। এরপর বুধবার বা বৃহস্পতিবার ইউজিসিতে পাঠানো হবে। অধ্যাদেশ এলেই রোডম্যাপ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।”