জ্বালানি সংকটে রাজশাহীতে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের বাজারে। পণ্যবাহী যানবাহনে জ্বালানি সংকট, পরিবহনে ব্যাঘাত এবং ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।  

সোমবার (৬ এপ্রিল) নগরীর সাহেব বাজার, আরডিএ মার্কেট ও পবা উপজেলার নওহাটা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলু, পটোল, বেগুন ও টমেটোর মতো সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একইসঙ্গে চাল, আটা, চিনি, খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে। ব্রয়লার, সোনালি ও দেশি মুরগির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সরেজমিনে রাজশাহীর বাজার পরিস্থিতি

                                    পণ্যের নাম

                                          বর্তমান দাম

    গরুর মাংস

৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা

   খাসির মাংস

১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকায়

  সোনালি মুরগি

৪২০ থেকে ৮০০

   পামওয়েল

১৮৫ টাকা

   আলু

২৫ থেকে ৩০ টাকা

  টমেটো

৬০ টাকা

  দেশি উচ্ছে করলা

১২০ টাকা

  চিনি

১৫০ টাকা

  গাজর

৬০ টাকা

 

ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া গত এক মাসে ৩০ থেকে ৪০% পর্যন্ত বেড়েছে। আবার অনেক পণ্যবাহী যান ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছে না। ফলে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, “জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পণ্য আনতে খরচ বেড়েছে।  অনেক সময় ট্রাক দেরি করে পৌঁছানোর কারণে সবজি পথেই নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি আড়তদারদেরও লোকসান গুনতে হচ্ছে।” 

বেসরকারি চাকরিজীবী শহিদুল ইসলাম বলেন, “বেতন বাড়ছে না, কিন্তু চাল, ডাল, চিনি, তেল ও সবজির দাম ক্রমেই বাড়ছে। জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে বাজারে নতুন করে এক ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। সবকিছু এখন সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।”   

মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ বলছেন, বাজারে সবকিছুর দাম বাড়লেও তাদের আয় বাড়েনি। নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালানো মানুষের জন্য বাজারের তালিকা ছোট করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারে কঠোর তদারকি বাড়ানো না গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।