মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় রুগ্ন, অসুস্থ ও বয়স্ক ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করার সঙ্গে জড়িত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মেনহাজুল আলম।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গজারিয়া থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তাররা হলেন - মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার মহিষমারি গ্রামের মো. রুবেল মিয়া (৩৯), নওগাঁ জেলার শেরপুর গ্রামের সৌরভ (২১), গাজীপুর জেলার এরশাদ নগর এলাকার সোহেল গাজী (২২) এবং একই এলাকার ইয়াছিন আরাফাত (২১)।
এসপি বলেন, “গ্রেপ্তাররা সকলেই ঘোড়ার মাংস বিক্রির অসাধু চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন দুর্গম ও নির্জন এলাকায় রুগ্ন-অসুস্থ ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিল। অসাধু চক্রটি যমুনাবেষ্টিত চরাঞ্চল থেকে রুগ্ন ও অসুস্থ ঘোড়া সংগ্রহ শেষে জবাই করে সেই ঘোড়ার মাংস পিক-আপ যোগে ঢাকায় তাদের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দিতো। তারা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের পৌঁছে দেওয়া বিষাক্ত ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস বলে বিক্রি করতো।”
ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার আনারপুরা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘোড়া জবাইয়ের সংবাদে স্থানীয়রা জড়ো হলে জবাই করা ১৩টি ঘোড়া রেখে পালিয়ে যায় অসাধু চক্রটি। পরে সেখান থেকে ১৩টি জবাই করা ও একটি রুগ্ন জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করা হয়।