ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ হিসেবে পরিচিত স্থানে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় ওই ‘পীর’কে।
দৌলতপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ এখনও কুষ্টিয়ায় মর্গে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শামিমকে একটি অনুষ্ঠানে ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনাস্থলেই শামিম নিহত হন। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন।
পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে। এর আগে ২০২১ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।