ধানমন্ডিতে বর্ষবরণ উদযাপিত

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতেমঙ্গল শোভাযাত্রানামে এক বর্ণিল বর্ষবরণ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গল আছে, মঙ্গল থাকবেস্লোগানেবর্ষবরণনামে একটি সংগঠন এই শোভাযাত্রার আয়োজন করে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনা বাজারের সামনে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় আয়োজনটি। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপরধনধান্য পুষ্পভরাএবংএসো হে বৈশাখগানের মাধ্যমে বর্ষবরণ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

শোভাযাত্রাটি মীনা বাজারের সামনে থেকে শুরু হয়ে ধানমন্ডি ২৭ এর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। পুরো আয়োজনে ছিল উৎসবের আমেজ, রঙিন সাজসজ্জা এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি।

আয়োজকদের একজন কঙ্কণ নাগ জানান, ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরেমঙ্গল শোভাযাত্রানামে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং তারা চান এই নামটি বহাল থাকুক। তিনি বলেন, “এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা চাই, বছরের শুরুতেই মানুষ যেন মঙ্গলের বার্তা নিয়ে নতুন পথচলা শুরু করে সব বিভেদ নেতিবাচকতা দূরে সরিয়ে।

“মঙ্গল শোভাযাত্রানাম পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো যুক্তি দেখেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, শুধু চারুকলায় নয়, সারা দেশেই বহুদিন ধরে এই নামেই বর্ষবরণ উদযাপন হয়ে আসছে, যা এখন একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

বিষয়ে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, “১৯৮৯ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় এই নামে শোভাযাত্রা জনপ্রিয়তা পায়। তবে এর আগেই যশোরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এই আয়োজন শুরু করেছিল। সময়ের সঙ্গে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে বাড়তে এটি এখন একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি তক্ষশীলা সংগঠনের শিল্পীরা ব্রতচারী নৃত্য পরিবেশন করেন। এছাড়া রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন মকবুল আহমেদ এবং কবিতা আবৃত্তি করেন ইকবাল খোরশেদ মোস্তাফিজুর রহমান।

সব মিলিয়ে ধানমন্ডির এই আয়োজন হয়ে ওঠে মঙ্গল, সংস্কৃতি ঐতিহ্যের এক প্রাণবন্ত উৎসব।