স্থানীয়দের হামলায় চবির চার শিক্ষার্থী আহত

স্থানীয়দের হামলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেভেল ক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টায় অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতারা। 

আহত চার শিক্ষার্থী হলেন, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আলীমুল শামীম, একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব হোসেন ফরহাদ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত জাহিন সরকার আবির এবং আশিকুর রহমান। তাদের মধ্যে হাতে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় আবিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী আলীমুল শামীম বলেছেন, "আমরা বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রসহ ছয়জন রেল ক্রসিংয়ের ইসলামিয়া হোটেলে খাবার খেয়ে ক্যাম্পাসে ফিরতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তখন ৩ নম্বর বাসটি ক্যাম্পাসের দিকে আসছে দেখে আমরা ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য গাড়িটি থামাই।" 

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষার্থী আশিকুর ইসলাম জানিয়েছেন, বাসে ওঠার সময় পেছন থেকে স্লোগান দেওয়া হলে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এসে তাদের ওপর হামলা শুরু করে। একপর্যায়ে তিনজনকে ঘুষি মারা হয় এবং ভিডিও ধারণ করতে গেলে আবিরকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তার হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। 

চবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. আবুল কাশেম বলেন, “আশিক ও আবিরকে শুরুতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আবিরের বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ভেঙেছে কিনা তা নিশ্চিত হতে এক্স-রে করার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে আশিকের বাম হাতের মাংসপেশীতে আঘাত লেগেছে এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেছেন, "আমরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি। বারবার আমাদের ভাইদের ওপর তুচ্ছ ঘটনায় মারধর করা হচ্ছে। এটা ধারাবাহিকভাবে চলতে পারে না। আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।" 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, "ঘটনা জানার পর আমরা পুরো টিম ঘটনাস্থলে আসি। এখানে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ সদস্যরা আছেন, দ্রুতই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।"

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।