শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ১০ বছরের এক এতিম শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. ইব্রাহিম গাজী ওরফে ইব্রা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এই রায় ঘোষণা করেন।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। সাজাপ্রাপ্ত ইব্রাহিম গাজী কলারোয়া উপজেলার পারিখুপি গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত ও মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ বিকেলে কুশোডাঙ্গা গ্রামের ওই শিশুটি ইফতারের বাসন মেজে বাড়ি ফিরছিল। পথে ইব্রাহিম গাজী তাকে বিস্কুট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় এবং দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশুটির আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং ইব্রাহিমকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই দিনই শিশুটির নানি বাদি হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

২০২৫ সালের “বিশেষ শিশু ধর্ষণ ট্রাইব্যুনাল”-এর অধীনে সাতক্ষীরায় এটিই প্রথম মামলার রায়, যা অত্যন্ত স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হলো।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সেকেন্দার আলী গত বছরের ২০ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ বছরের ৭ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) করা হয়। মোট ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হলো।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ বলেন, “মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এই বিচার সম্পন্ন হওয়া বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটি মাইলফলক। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি, যা সমাজে অপরাধ দমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার দিন থেকেই আসামি জেলহাজতে ছিলেন।