ফ্লোরিডার আকাশে যে স্বপ্ন নিয়ে উড়াল দিয়েছিলেন দুই তরুণ-তরুণী, সেই স্বপ্নেরই করুণ সমাপ্তি আজ বাংলাদেশের দুই গ্রামে শোকের ছায়া হয়ে নেমে এসেছে। জামালপুরের মাদারগঞ্জে জামিল আহমেদ লিমনের বাড়ি আর মাদারীপুরে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাড়ি দুটি জায়গাতেই এখন একই দৃশ্য: নিস্তব্ধতা, কান্না আর একটাই প্রশ্ন “কেন?”
জামিলের গ্রামের বাড়ি মহিষবাথানে পা রাখলেই বোঝা যায়, এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো গ্রামের বুকে আঘাত হেনেছে। আঙিনায় জড়ো হওয়া মানুষদের চোখে অশ্রু, মুখে অবিশ্বাস। ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ উদ্ধারের খবর যেন কাউকেই বাস্তবতা মেনে নিতে দিচ্ছে না। পরিবারের বড় ছেলে, সবার আশা-ভরসার জায়গা সেই জামিল আর নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী, ভদ্র আর স্বপ্নবাজ ছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ছিল তার জীবনের বড় অর্জন। কিন্তু সেই পথেই এভাবে থেমে যাবে তার গল্প এটা কেউ কল্পনাও করেনি। স্বজনদের দাবি একটাই এই মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, মাদারীপুরে বৃষ্টির বাড়িতেও একই শোকের আবহ। বাবার কণ্ঠে ভাঙা স্বর “প্রতিদিন কথা হতো মেয়ের সঙ্গে। শেষবার ল্যাবে কাজ করছিল…”এই স্মৃতিই এখন তার কাছে শেষ চিহ্ন। হঠাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তারপর মৃত্যু সংবাদ একজন বাবার জন্য এর চেয়ে নির্মম আর কী হতে পারে?
বৃষ্টিও ছিলেন সমান মেধাবী। এসএসসি-এইচএসসি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় সবখানেই সাফল্যের ছাপ। ফুল স্কলারশিপে পিএইচডি করতে যাওয়া এই তরুণীর ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারের ছিল অগণিত স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন এখন রূপ নিয়েছে শোকে।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও তারা সত্য জানতে চান। বন্ধুত্ব, সম্পর্ক এসবের বাইরে গিয়ে তারা জানতে চান, কীভাবে এবং কেন এই নির্মম ঘটনা ঘটল।
দুই পরিবারের মাঝেই একটি মিল স্পষ্ট অসহায় অপেক্ষা। জামিলের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষা, আর বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের আশায় দিন গোনা। দূর দেশে ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডি তাদের কাছে এখন কেবল সংবাদ নয়, প্রতিদিনের দুঃসহ বাস্তবতা।