তেল সংকটে যখন কৃষক দিশেহারা, ঠিক তখন ফেলে দেওয়া পোড়া মবিল দিয়ে জ্বালানি তেল তৈরি করে দেখিয়েছেন কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার মনিরুল ইসলাম।
দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তার উদ্ভাবিত 'মেথড অফ অলটারনেটিভ ডিজেল (ম্যাড)' দিয়ে স্বল্প খরচেই চলছে এই ডিজেল চালিত ইঞ্জিন।
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের মো. শামসুল হকের ছেলে মুহা. মুনিরুল ইসলাম। ২০০০ সালে স্থানীয় তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে তিনি যোগ দেন। এরপর শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে ডিজেল ইঞ্জিন নিয়ে কাজ ও গবেষণা শুরু করেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, "মূলত ডিজেল ইঞ্জিন নিয়ে ২০০৭ সাল থেকে আমি কাজ শুরু করি। ২০০৭ সালে আমি শিক্ষক ছিলাম। শিক্ষকতার পাশাপাশি আমি ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের বিভিন্ন ফাংশন নিয়ে কাজ করি। কিভাবে ইঞ্জিনের ব্যবহার সহজলভ্য করা যায় সেটা আমার মাথায় আসে। তিন দিনের সময় (আল্টিমেটাম) দেওয়ার কারণে পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে দেই।
তিনি আরও বলেন, "পৃথিবীর কয়েকটি দেশ বিশেষ করে চীনে একটি ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করা হয়। সে খান থেকে বাংলাদেশে এসে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কয়েকবার ব্যর্থ হয়েছি। তারপরেও হাল না ছেড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েক মাস আগে এটার প্রাকটিক্যাল একটি রূপ দিয়ে ইঞ্জিনে প্রয়োগ শুরু করি। প্রয়োগ শুরু করার পরেও কয়েকবার ব্যর্থ হয়েছি।"
'ম্যাড' চারটি উপাদান দিয়ে তৈরি। এটি এক ধরণের অল্টারনেটিভ ডিজেল, যা বুস্টার হিসাবে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ করে কৃষকদের কাছে প্রচার করা হয় বলে জানান তিনি।
পাঁচ লিটার পোড়া মবিলের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত ১০০ মিলিগ্রামের একটা বুস্টার ঢেলে দিলেই ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যায়। এই তেল ব্যবহারে কৃষকরা লাভবানের পাশাপাশি তাদের উৎপাদন খরচও কমবে বলে জানায় মনিরুল।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে মাঠ পর্যায়ে এই তেল পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করছে কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, জ্বালানি তেলের অভাবে মাঠে সেচ দিতে না পারায় ধান গাছ নষ্ট হতে শুরু করে। ঠিক সেই সময় কৃষি অফিস ও মনিরুল ইসলামের পরামর্শে পাঁচ লিটার পোড়া মবিলের সাথে ১০০ মিলির একটা বুস্টার ঢেলে দিলেই ডিজেল হয়ে যায়। তার এই আবিষ্কার কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, “বর্তমানে পরিপ্রেক্ষিতে ডিজেলের যে চাহিদা রয়েছে, কৃষকের জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। সেক্ষেত্রে মনিরুল ইসলামের তৈরি 'ম্যাড' বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এই বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”