কুষ্টিয়ায় শামীম হত্যা: চুল কাটাতে গিয়ে আরেক আসামি গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আব্দুর রহমান শামীম ওরফে জাহাঙ্গীর (৬৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে (৩২) রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রাজীব ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে এবং  মামলার ৩ নম্বর আসামি।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া র‍্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুদীপ্ত সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

র‍্যাবের কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে জানান, পীর হত্যা মামলার পর থেকেই র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলার আসামিদের ধরতে তৎপর হয়। গতকাল সন্ধ্যায় র‍্যাব-১২-এর কুষ্টিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা জানতে পারেন আসামি রাজীব মিস্ত্রি রাজশাহী গোদাগাড়ির থানা রোডের একটি সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব-৫-এর সদর কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে একটি যৌথ আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালিয়ে রাজীব মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাবের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাজীব ঘটনার দিন থেকেই পলাতক ছিলেন। তিনি প্রথমে পাবনায় অবস্থান করেন। সেখানে কয়েক দিন থাকার পর রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। তিনি এই সময়ে একাধিক সিম ব্যবহার করেছেন, কখনও অন্য কারও ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় গোদাগাড়ি থানা মোড়ের এলাকায় একটি সেলুনে চুল কাটাতে যান তিনি। গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার রাজিবকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পীর হত্যা, আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

এর আগে, গত রবিবার ও সোমবার রাতে একই ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর ও ইসলামপুর এলাকা থেকে বিপ্লব হোসেন (২৬), আলিফ ইসলাম (২৩) এবং দশম শ্রেণির ছাত্র আলঙ্গীর হোসেনকে (১৬) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আব্দুর রহমান শামীমকে তার আস্তানার ভেতরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং দরবার শরিফ ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।